ঢাকা: নির্বাচনে যদি অংশ নাই নেবে। তাহলে এতো নাটক করার কোনো প্রয়োজন ছিলো না বলে মন্তব্য করেছেন গাজীপুর জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম এমএ। এতে জাতীয় পার্টিরই ক্ষতি হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সোমবার পার্লামেন্টারি বোর্ডের সভা শেষে গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) উপনির্বাচনে অংশ না নেওয়ার গুঞ্জন শুরু হলে তিনি বাংলানিউজকে এ প্রতিক্রিয়া জানান।
তিনি বলেন, নির্বাচনে অংশ নেবে না, দল সে সিদ্ধান্ত আগেই নিতে পারতো। তাহলে দলের কোন ক্ষতি হতো না। এখন সব নেতাকর্মীদের নির্বাচনমুখী করে নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া সঠিক হচ্ছে না। সাধারণ ভোটাররা এতে ভুল বুঝতে পারেন।
তিনি প্রশ্ন করেন, নির্বাচনে অংশ যদি নাই নেবে, তাহলে দলীয় মনোনয়নপত্র বিক্রি ও প্রার্থীদের সাক্ষাতের নামে নাটক কেন?
কেন্দ্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিলে সেটাই তিনি মেনে নেবেন বলেও উল্লেখ করে নুরুল ইসলাম বলেন, ‘‘নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্তটি সঠিক হয়েছে। তবে আরো আগে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিলো। কারণ, হিসেবে উল্লেখ করেন দুই দলের প্রতি দেশের মানুষ ক্ষুব্ধ। সে কারণে এরশাদের ইমেজ বেড়েছে।’’
‘‘অন্যদিকে কাপাসিয়া আসনে আমাদের কখনোই এমপি ছিলেন না। বিগত সময়ের রেকর্ডও ভালো নয়। এখানে পরীক্ষায় গিয়ে এরশাদের ইমেজ নষ্ট না করার পক্ষেই আমার মতামত ছিলো।’’
এদিকে অনেক আগে থেকে ঢাক-ঢোল পেটালেও একেবারেই শেষ মুহূর্তে এসে জাপার নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো নিয়ে নানা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
কেউ বলছেন বঙ্গতাজের পরিবার থেকে মনোনয়ন দেওয়ায় জাপা হতাশ হয়েছে। তারা মনে করছে, পরিবারের বিপক্ষে ভোট করে বিজয়ী হওয়ার মতো তাদের যোগ্য প্রার্থী নেই।
দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য গাজীপুর জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) কাজী মাহমুদ হাসানকে প্রার্থীর করার বিষয়ে এরশাদ আগ্রহ দেখালেও কাজী মাহমুদ হাসান অনাগ্রহ দেখান।
যারা মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন তাদের মধ্যেও তাজউদ্দিন পরিবারের সঙ্গে লড়াই করার মতো প্রার্থী নেই। উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা বিগত নির্বাচনগুলোতে জাপার প্রার্থী হিসেবে ভোটের অংকে ৭ হাজারের ঘরে আটকে আছেন।১৯৯৬ সালের নির্বাচনের পরে ২০০১ সালের নির্বাচনে তার ভোট আরও কমে গেছে।
এ ছাড়া পার্লামেন্টারি বোর্ডের বৈঠকের মাত্র ৩০ মিনিট আগে বনানী দলীয় কার্যালয়ের সামনে দুই মনোনয়ন প্রত্যাশীর সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনায় এরশাদ নাখোশ ছিলেন।
অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, রোববার রাতে যে কোনো সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এরশাদের সেলফোনে কথা বলেছেন। ওই ফোনের পরেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়ে থাকতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। তবে কি বিষয়ে আলাপ হয়েছে সূত্রটি নিশ্চিত করতে পারেনি।
এ বিষয়ে জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বাংলানিউজকে জানান, পার্টির পার্লামেন্টারি বোর্ডে নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
শেষ মুহূর্তে এসে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কারণ জানতে চাইলে জাপা মহাসচিব বলেন, দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এদিকে অনেক আগে থেকে জাপার বিএনপিপন্থী বলে পরিচিত প্রেসিডিয়ামের একটি অংশ বিএনপির পদাঙ্ক অনুসরণ করে নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। ওই গ্রুপটিই বিএনপির সঙ্গে এখনই জোট না হলেও যুগপৎ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পক্ষে চাপ দিয়ে আসছে।
তাদের বক্তব্য হচ্ছে, মামলা-হামলার ভয়ে যদি এই মুহূর্তে মহাজোট ছাড়া নাই যায়, অন্তত আওয়ামী লীগের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক না বাড়ানোই উচিত। বিএনপিও নাকি তেমনটি মতামত দিয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ১৯৪৫ ঘণ্টা, আগস্ট ২৭, ২০১২
ইএস/ সম্পাদনা: অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর