শনিবার বিকেলে টরন্টো প্রবাসী বাঙালিদের নজিরবিহীন ঢল নেমেছিল ডেনফোর্থ এভেন্যুর বাংলা পাড়ায়। শাহবাগের চলমান গণজাগরণের সাথে সংহতি জানিয়ে টরন্টো ও ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্র উদ্যোগী হয়ে মূলত ফেসবুক এবং টুইটারে দ্বিতীয়বারের মতো এদিন ৩টায় মানববন্ধনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানায়।
নতুন প্রজন্মের এই শেরপাদের আহ্বানে দূর-দূরান্তের শহর থেকেও দলে দলে বাঙালিরা এসেছে। নবজাত শিশুকে নিয়ে এসেছেন হ্যামিল্টন থেকে এক দম্পতি। ব্রাম্পটন, সেন্ট ক্যাথিরিন, পিটারবরো থেকেও সপরিবারে অংশ নিয়েছেন অনেকে।
বুদ্ধিজীবী, মুক্তিযোদ্ধা, শিল্পী, মানবাধিকারকর্মী, শহীদ পরিবারের সদস্য, ব্যবসায়ী সম্প্রদায়, মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের রাজনৈতিক নেতা ও কর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতিতে উদ্বেল হয়ে উঠেছিল সমাবেশ।
মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রতিপক্ষের অনুপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা এমআর জাহাঙ্গীরের বাংলা কাগজ অফিসটি ছিল অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনার কন্ট্রোল রুম। যদিও সপ্তাহ শেষের ছুটির দিনটি ছিল সূর্যকরোজ্জ্বল, কিন্তু তাপমাত্রা ছিল নেগেটিভ ১৫ সেলসিয়াস।
তীব্র তুষার ঝড়ের ফলে রাস্তা, ফুটপাতের দুই ধারে বরফের উঁচু স্তূপ জমে ছিল। সব প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করে সর্বস্তরের বাঙালিরা উপস্থিত হয়েছিল প্রাণের টানে দেশের টানে। নারী, পুরুষ এমনকি শিশু-কিশোরদের হাতে ধরা বা বুকে ঝোলানো নানা রঙের ফেস্টুনে ইংরেজি ও বাংলায় লেখা বাণীতে ছিল শাহবাগের প্রতিধ্বনি, একই ঐক্যতান; যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি দিয়ে রাজাকার মুক্ত বাংলাদেশ নির্মাণ।
রাজাকারের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও পণ্যের তালিকা এবং সেগুলো বর্জনের আহ্বান সংবলিত ইশতেহার বিলি করা হয়েছে। রাজাকার রাক্ষসদের মুখোশ জমায়েতকে বর্ণাঢ্য করেছে। শাহবাগের অগ্নিকন্যাদের মতো ছিল ফারহানা আজিম শিউলির অক্লান্ত ভূমিকা। তার স্লোগানে, দেশাত্মবোধক গানে কণ্ঠ মিলিয়ে জনতা মুখরিত করে রেখেছিল ডেনফোর্থ এভিন্যুর বাংলা পাড়ার আঙ্গিনা।
বাংলাদেশ সময়: ২১২০ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৩
আরআর