 |
মাদারীপুর: মাদারীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অধীনে বাস্তবায়নাধীন জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের অর্থায়নে খাল খনন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
মাদারীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের অর্থায়নে ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে মাদারীপুর সদর উপজেলার পূর্বরাস্তি থেকে হাজরাপুর পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার খালটির তলা ৩ থেকে ৪ মিটার গভীর করে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৫ জুনের মধ্যে পুনর্খননের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যাদেশ (ওয়ার্ক অর্ডার) দেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এএইচ ট্রেডিং করপোরেশনকে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ঠিক সময়ের মধ্যে খাল পুনর্খননের কাজটিও শেষ করে ফেলেছে।
সরেজমিন দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। টেন্ডারের নিয়ম অনুযায়ী কাজ না করে কেবল খালের দু’পাড়ের ঝোপ-জঙ্গল পরিস্কার করেই খালাস।
এ ব্যাপারে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খালটি পুনর্খননের পরিবর্তে চরম ফাঁকিবাজির মাধ্যমে খনন না করেই কাজ শেষ করে ফেলেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি।
এদিকে, এ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বাধিকারী আলমগীর খান নিজেকে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের ‘আত্মীয়’ বলে পরিচয় দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
এবিষয়ে নৌপরিবহনমন্ত্রীর আপন ভাগ্নি-জামাই ইয়াকুব খান শিশির বাংলানিউজকে বলেন, ‘আলমগীর খান আত্মীয় পরিচয় দিলেও তিনি নৌমন্ত্রীর রক্তের সম্পর্কের কোনো আত্মীয় নন।’
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুর রহমান, শফিক আহমেদ, জুয়েল আলমসহ শতাধিক ব্যক্তি বাংলানিউজকে বলেন, ‘খালটি প্রায় ৬ কিলোমিটারের মধ্যে প্রায় ৫ কিলোমিটার পুনর্খননের নামে শুধু খালের দুই পাড়ের ঝোপ-জঙ্গল কোদাল দিয়ে পরিস্কার করেছে।’
এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, ‘খালের দুই পাড়ের জঙ্গল পরিস্কার করে খালের মধ্যে ফেলায় এখন খালের পানি প্রবাহ যেটুকু সচল ছিল, সেটুকুও এখন বন্ধ হওয়ার উপক্রম। এ খালের পাড় এভাবে পরিস্কার না করলেই আমাদের ভালো ছিল। এতোদিন তবুও খালের পানির চলাচল ছিল।’
৭০ বছর বয়স্ক জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘শুনছি, খালডা সরকার ৮৫ লাখ টাকা খরচা কইরা খনন করতেছে। কিন্তু যেমনে কাম করছে, তাতে ৫ লাখ টাকারও কাম করা হয় নাই। সব টাকা মাইরা দিছে।’
এবিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এএইচ ট্রেডিং করপোরেশনের সত্ত্বাধিকারী আলমগীর খানের সঙ্গে একটানা ৭ দিনের চেষ্টায় যোগাযোগ করা হলে তিনি খাল খননের বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। পরে তিনি বলেন, ‘আমি কাজটি সঠিকভাবেই করেছি।’
এপ্রসঙ্গে মাদারীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অখিল কুমার বিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি ঠিকাদারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, ‘আমি মনে করি, কাজটি সঠিকভাবেই করা হয়েছে। হয়ত এলাকাবাসী আপনাদের ভুল ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তবে আমরা সরেজমিন গিয়ে খালের কাজ বুঝে নিয়ে তবেই ঠিকাদারকে পাওনা পরিশোধ করবো।’
খাল খননের মাটি কোথায় রাখা হয়েছে, এ প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘খাল খননের মাটি এলাকাবাসী চুরি করে নিয়ে গেছে।’
এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের তো আর কোস্ট গার্ড নেই যে, খালের পাড়ে পাহারা বসিয়ে রাখবো। এলাকাবাসী খালের মাটি নিয়ে গেলে আমরা কী করবো?’
এদিকে, খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু এই একটি খালই নয়, জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের অর্থায়নে মাদারীপুর, রাজৈর ও কালকিনিতে ২৭টি খাল পুনর্খননের কাজ করা হয়েছে, যার প্রতিটি খাল পুনর্খননে ব্যাপক অনিয়ম দেখা গেছে।
আর এ খাল খনন প্রকল্পের অধিকাংশ ঠিকাদারই আবার ‘সরকার দলীয় সমর্থক’!
বাংলাদেশ সময়: ২২০৯ ঘণ্টা, জুন ২৪, ২০১২
সম্পাদনা: আশিস বিশ্বাস, অ্যাসিস্ট্যান্ট আউটপুট এডিটর