 |
ঢাকা: বাংলাদেশসহ বিদেশে তুলা রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল ভারত। সোমবার থেকেই এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হয়েছে।
সোমবার সন্ধ্যার পর নয়াদিল্লিতে ভারতের কেন্দ্রিয় সরকারের তথ্য অধিদপ্তর থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
সর্বশেষ গত ৫ মার্চ ভারতের কেন্দ্রিয় সরকার কাঁচা তুলা রপ্তানি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
ভারতের তুলা রপ্তানির নিষেধাজ্ঞায় বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিল্প ব্যাপক হুমকির মুখে পড়ে। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিল্পে বড় ধরনের একটি সুখবর বয়ে এলো।
ভারতের তুলা রপ্তানির নিষেধাজ্ঞার পর কোথা থেকে তুলা আমদানি করা যায় তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ ব্যবসায়ীরা। এজন্য আগামী ৫ মে উজবেকিস্তানেও যাচ্ছেন বাণিজ্য সচিবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল।
ভারতের শাসকদল কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোটের অন্য শরিকদের তরফ থেকে তুলাচাষীদের স্বার্থের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি জানানোর পর এ সিদ্ধান্ত এলো।
সোমবার ভারত সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘তুলাচাষীদের স্বার্থের কথা বিবেচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
মন্ত্রীদের একটি প্যানেলের পর্যালোচনার পর তুলা রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়।
তুলা রপ্তানি বন্ধে ভারতের টেক্সটাইল শিল্প মালিকরা খুশি হলেও তুলাচাষীরা বিক্ষোভ ও সরকারের কাছে কয়েকদফা স্মারকলিপি দেয়। এর প্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জির নেতৃত্বে একটি মন্ত্রীসভা কমিটি গঠন করা হয়।
মন্ত্রীদের এ কমিটি কয়েকটি বৈঠক করে তুলা রপ্তানি ও উৎপাদনের বিষয়টি পর্যালোচনা করে। সর্বশেষ সোমবার এ বৈঠকে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তিন সপ্তাহ পর আবারো বৈঠকে বসবেন তারা।
সোমবার সন্ধ্যার পর নয়াদিল্লিতে শিল্প ও বস্ত্রমন্ত্রী আনন্দ শর্মা সাংবাদিকদের তুলা রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান।
বিশ্বের কাপড় উৎপাদনকারী দেশগুলোর তুলার চাহিদার প্রায় অর্ধেকই উৎপাদন করে ভারত। তারা তুলা উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে। তাদের উৎপাদিত তুলার প্রায় ৮০ শতাংশই চীনে রপ্তানি হয়।
বাংলাদেশ টেক্সটাইলস মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সূত্র জানায়, বাংলাদেশের বস্ত্র কারখানাগুলোর বার্ষিক তুলার চাহিদা প্রায় ৩৭ লাখ বেল তুলা। দেশে তুলা উৎপাদন দিনে দিনে কমে যাচ্ছে। চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়।
ভারত থেকে বাংলাদেশ তার চাহিদার প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ তুলা আমদানি করে।
এদিকে বাংলাদেশের তুলার চাহিদা মেটাতে রপ্তানির হার নির্ধারণে সরকারি পর্যায়ে চুক্তি করতে আগ্রহী ভারত। মে মাসের শেষ সপ্তাহে ঢাকায় তুলা রপ্তানি নিয়ে একটি বৈঠকেরও আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন ভারতের কেন্দ্রিয় বাণিজ্যসচিব রাহুল খুল্লার।
নয়াদিল্লি থেকে টেলিফোনে রাহুল খুল্লার গত সপ্তাহে বাংলানিউজকে এ তথ্য জানিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশ বছরে অন্তত ১৫ লাখ বেইল তুলা ভারত থেকে আমদানি করতে চায়।
রাহুল খুল্লার বলেন, ‘বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে এই তুলা রপ্তানির জন্য সরকারি পর্যায়ে একটি চুক্তির বিষয়টি আমাদের বিবেচনায় এসেছে।’
তিনি জানান, ঢাকার বৈঠকেই এ সম্পর্কিত একটি বৈঠক আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওই বৈঠকেই এ বিষয়টির একটি ফয়সালা হতে পারে।’
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে তুলা নিয়ে এ চুক্তি হলে পরবর্তীতে আবারো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও নির্দিষ্ট পরিমাণ তুলা বাংলাদেশে রপ্তানি করবে ভারত।
বাংলাদেশ সময়: ০১২০ঘণ্টা, মে ০১, ২০১২, একেআর
সম্পাদনা: আহমেদ রাজু, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
razu75bd@gmail.com