 |
ভ্রম
‘ডোরাকাটা দাগ দেখে বাঘ চেনা যায়’
(প্রচলিত গান)
খানিক আলাপচারিতায় যাকে তুমি জলের জাতক ভেবে নাও
সে আসলে গোপনে পুষে আগুন,
কল্পিত কক্ষপথে ঘুরেফিরে মূলত নিজেকেই পোড়ায়।
অথচ ভেবেছিলে তুমি বোধের বাগানে তার ফোটে না কখনো যাতনা কুসুম।
মুষ্ঠিবদ্ধ হাতে জ্বলন্ত অঙ্গার রেখে ধ্যানকলা শিখেছে যে যজ্ঞ পুরোহিত
সে আসলে কবি— প্রকৃত মানুষ কোনো;
বরফে বরফ ঘষেও জ্বালতে পারে সে নীলাভ আগুন।
কলস ভরা জলের অর্ঘ্য নিয়ে কেন তবে তার কাছে যাও?
তুমি হয়তো জানো না—
প্রত্যাশিত জল পেলেও মানুষ কেবলি আগুন ভালোবাসে;
পতঙ্গের মতো ভুল দিয়েই সাজাতে চায় তার ইচ্ছামৃত্যুর চিতা।
আফ্রোদিতি ও নপুংসক
অবচেতনের কুহক নয়, চেতনার কার্নিশ ধরেই হেঁটে যাচ্ছে আফ্রোদিতির যুগল স্তন।
কামুক দেবতারা গভীর ঘুমে অচেতন;
অথচ মৃত অশ্বের মতো পড়ে আছে কারো কারো অচরিতার্থ কাম।
নদীর নিতম্বে হাত রেখে নদী ও নারীকে
এক ভেবে বসে থাকে স্তব্ধ নপুংসক।
বর্ষার কোলাজ
রাস্তার ঘিনঘিনে কাদার ত্বকে লেপ্টে পরে থাকে
জোঁকের অলস দেহ— বিনয়বাঁশী জলদাশের ঢোল।
লালায় রক্তের অমৃত আস্বাদ নিয়ে
বেঘোর ঘুমে তার আকণ্ঠ আচমন।
প্রত্যেক প্রাণীই নিজস্ব পছন্দ অপছন্দের কাছে জিম্মি,
বাঘের মেন্যুতে প্রাধান্য পায় চিত্রল হরিণ;
আর জোঁক?
তার বাঘেও অরুচি নেই।
বাংলাদেশ সময় : ১৬৩০ ঘণ্টা, ০৭ অক্টোবর, ২০১২