 |
ঢাকা: বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে ব্রাদার্স ও রহমতগঞ্জের মধ্যকার আলোচিত ম্যাচটির পাতানো ছিলো না বলে রায় দিয়েছে বাফুফের তদন্ত কমিটি। ওই ম্যাচটিকে ‘মানহীন ম্যাচ’ বলেই দায় এড়িয়েছে তারা। ওই রিপোর্টের সঙ্গে একমত পোষণ করেছে পেশাদার লিগ কমিটি।
পাতানো খেলা সনাক্ত করার নামে কয়েক মাস ধরেই বাফুফে ও লিগ কমিটির বিজ্ঞাপন চলছে সংবাদ মাধ্যমগুলোতে। মিডিয়া কাভারেজ পাগল লিগ কমিটি সন্দেহজনক ওই ম্যাচটিকে তাদের বিজ্ঞাপন প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের স্টাইলে ম্যাচটিকে লিগ কমিটি ও বাফুফের বিজ্ঞাপন হিসেবে ভালোই কাজে লাগিয়েছেন তারা। ঘটা করে মিডিয়ায় উপস্থাপন করেছেন নিজেদের। এক্ষেত্রে তারা যে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন সেটি এককথায় অনবদ্য।
তদন্তের নামে তিন মাস সময়ক্ষেপণ করে তদন্ত শেষে পাতানো খেলা সনাক্তকরণ কমিটি রিপোর্টে উল্লেখ করেছে যথেষ্ট তথ্য প্রমাণ না পাওয়ায় ব্রাদার্স ও রহমতগঞ্জ ম্যাচটিকে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না পাতানো ম্যাচ। মুখ বাঁচানোর জন্য তারা এটাও বলছেন ম্যাচটি আশানুরুপ প্রতিদ্ব›দ্বিতাপূর্ণ হয়নি। এক্ষেত্রে তাদের ব্যাখ্যা প্রতিটি ম্যাচ সব দলের পক্ষে ভালো খেলা সম্ভব নয়।
বিশেষ কমিটি তদন্তের সহায়তার জন্য ফুটবল টেকনিক্যাল ব্যক্তির সাহায্য চেয়েছিলো। বাফুফের টেকনিক্যাল ডাইরেক্টর বিএ জোবায়ের নিপুর রিপোর্টটিও ছিলো হাস্যকর। রিপোর্ট জমা দেবার কিছুদিন আগে তিনি একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে বলেছিলেন প্রথম গোলটি ছাড়া রহমতগঞ্জের অন্য তিনটি গোল সন্দেহজনক। এ মন্তব্য প্রকাশ করার পর অনেক চাপে ছিলেন। এর প্রমাণ তার রিপোর্টে। সেখানে তিনি বিশেষজ্ঞ মতামত হিসেবে বলেছেন ব্রাদার্সের ২ জন খেলোয়াড় ইনজুরি ও কার্ড সমস্যা থাকায় পরিপূর্ণ শক্তি নিয়ে মাঠে নামতে পারেনি। এছাড়া রহমতগঞ্জ রেলিগেশন এড়ানোর জন্য উজ্জ্বীবিত হয়ে খেলায় এমন ফলাফল হয়েছে।
তদন্ত কমিটির রিপোর্ট জনসম্মুখে প্রকাশ করার জন্য মঙ্গলবার ঘটা করে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে যাফুফে। সম্মেলনে জানানো হয়, পর্যাপ্ত তথ্য উপাত্ত না পাওয়ায় তদন্ত কমিটি পরিপূর্ণভাবে তদন্ত করতে পারেনি। তাহলে কি বাফুফে থেকে কমিটিকে পর্যাপ্ত তথ্য উপাত্ত সরবরাহ করা হয়নি? এই প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেননি সালাম মুর্শেদী। তদন্ত কমিটির সুপারিশগুলো হচ্ছে, কমিটিতে স্বরাষ্ট্র ও দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রতিনিধি, সাবেক জাতীয় ফুটবলারদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। সে সঙ্গে টেলিফোন ও মোবাইলের কথপোকথন রেকর্ড, প্রচলিত আইনের সংশোধন ও বিদেশে পাতানো ম্যাচ নিয়ে নেওয়া পদক্ষেপগুলো দৃষ্টিপাত করা। তদন্ত কমিটি সুপারিশ দেওয়ার মাধ্যমে তাদের দায় এড়িয়ে গেছেন।
বাংলাদেশ সময়: ২০০৫ ঘণ্টা, আগস্ট ০৭, ২০১২
এএইচবি
সম্পাদনা: চঞ্চল ঘোষ, নিউজরুম এডিটর