 |
‘মুক্তি ও মানবাধিকার বিষয়ক ষষ্ঠ আন্তর্জাতিক প্রামাণ্যচিত্র উৎসব’-এর আয়োজন করেছে ‘মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর’। গত সাত বছর ধরে আয়োজিত হয়ে আসছে এই উৎসব। অন্যান্য বছরের ন্যায় এবারও বাংলাদেশসহ পৃথিবীর দেশে দেশে মুক্তি ও মানবাধিকারের জন্যে মানুষের স্বপ্ন, স্বপ্নভঙ্গ এবং স্বপ্নপূরণের জন্যে নিরন্তর সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি- তা প্রদর্শিত হবে উৎসবে।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং অধিকার আদায়ের প্রেরণা নিয়ে অনেক বেশি দর্শকের কাছাকাছি পৌঁছাতে গত দু’বছর ধরে উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রাঙ্গণের বাইরে, গণগ্রন্থাগারের বড় পরিসরে।
এবারের উৎসবে মোট প্রামাণ্যচিত্র থাকছে ২৬টি। আন্তর্জাতিক বিভাগে ১১টি এবং বাংলাদেশ বিভাগে ১৫টি ছবি প্রদর্শিত হবে।
বিশ ও একুশ শতকের ঐতিহাসিক ঘটনা নানাভাবে উঠে এসেছে বিভিন্ন প্রামাণ্যচিত্রে। এবারের উৎসবের মূল কেন্দ্রে থাকছে ‘যুদ্ধ, বিপ্লব ও স্বাধীনতা’। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস, রুশ বিপ্লব, স্বাধীনতার জন্য পৃথিবীর দেশে-দেশে গড়ে ওঠা আন্দোলন, ভিয়েতনাম যুদ্ধ, কিউবার বিপ্লব - এমনিসব বিষয় নিয়ে বিশ্বখ্যাত অনেক চলচ্চিত্রকার নির্মাণ করেছেন অসাধারণ কিছু প্রামাণ্যচিত্র। এইসব বিশ্ববিখ্যাত প্রামাণ্যচিত্রের চারটি এবারের উৎসবে ‘যুদ্ধ, বিপ্লব ও স্বাধীনতার প্রামাণ্যচিত্র’ হিসেবে দেখতে পাবেন দর্শকগণ।
প্যাট্রিসিও গুজমান আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রামাণ্যচিত্র-নির্মাতা। চিলির রাজনৈতিক বিষয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্রগুলি এই চলচ্চিত্রনির্মাতাকে বিশ্বসেরা চলচ্চিত্রকারের মর্যাদা এনে দিয়েছে। এবারের প্রামাণ্যচিত্র উৎসবে রেট্রোস্পেকটিভ পর্বে প্রদর্শিত হচ্ছে প্যাট্রিসিও গুজমানের সেরা চারটি ছবি।
এর বাইরে পৃথিবীর দেশে দেশে স্বাধীনতা ও মানবাধিকার বিষয়ে নির্মিত উল্লেখযোগ্য ১১টি প্রামাণ্যচিত্র উৎসবের অন্তর্জাতিক প্রামাণ্যচিত্রের পর্বে প্রদর্শিত হবে।
উৎসবে গত দু’বছরে বাংলাদেশে নির্মিত ১৫টি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হচ্ছে। গত উৎসব থেকে জাতীয় বিভাগে পুরস্কার দেয়া হচ্ছে। এবার ২০১০ সালের পর থেকে বাংলাদেশে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রতিযোগিতা বিভাগে অংশগ্রহণ করছে। প্রতিযোগিতায় দুটি ধরন রয়েছে- একটি শ্রেষ্ঠ প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা পুরস্কার এবং অন্যটি শ্রেষ্ঠ নবীন প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা পুরস্কার।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর সবসময়ই চাওয়া ইতিহাস সচেতনতার একটা শক্ত ভিত তৈরি হোক আমাদের সমাজে। সেজন্যে গত উৎসব থেকে আমরা শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করছি। ৫ ও ৬ অক্টোবর সকালের অধিবেশনে মুক্তিযুদ্ধের সময় নির্মিত ‘স্টপ জেনোসাইড’ এবং মুক্তিযুদ্ধের পরে নির্মিত ‘স্বাধীনতা’, ‘কোথায় পাবো তারে’, ‘ডাই মিলিয়ন ৭১’, ‘ইতিহাসের সন্ধানে’, ‘অ্যামনেশিয়া’ প্রদর্শিত হবে স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য। এই প্রদর্শনীগুলোতে শিক্ষার্থীরা উপস্থিত চলচ্চিত্র-নির্মাতা এবং বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে চলচ্চিত্র ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে মতবিনিময় করার সুযোগ নিতে পারছে।
পৃথিবীর দেশে দেশে ইতিহাস-সংগ্রহ ও সংরক্ষণের অন্যতম এক উপায় হচ্ছে স্মৃতি ধারণ। বাংলাদেশে নানানভাবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নানানভাবে বিভ্রান্তিতে পড়েছে- রাজনৈতিক নানান পট পরিবর্তনে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নানাভাবে লাঞ্ছিত হয়েছে, যুক্ত হয়েছে অনেক ব্ল্যাকহোল। এইরকমের বাস্তবতায় যুদ্ধস্মৃতি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণের এক অন্যতম উৎস হিসেবে কাজ করতে পারে। এই বিবেচনা থেকেই ৫ অক্টোবর বিকেল ৫টায় গণগ্রন্থাগারের সেমিনার হলে অনুষ্ঠিত হচ্ছে সেমিনার। এখানে ‘যুদ্ধ ও স্মৃতি: প্রেক্ষিত বাংলাদেশ’ বিষয়ে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করবেন অধ্যাপক আবু মো. দেলোয়ার হোসেন। আলোচনায় অংশ নেবেন আলী যাকের, নাসির উদ্দীন ইউসুফ প্রমুখ।
উৎসবের শেষদিন তিন সদস্যবিশিষ্ট জুরি কমিটির বিবেচনায় বাংলাদেশে নির্মিত মুক্তি ও মানবাধিকার বিষয়ক শ্রেষ্ঠ প্রামাণ্যচিত্রকারের নাম ঘোষণা ও সম্মাননা জানানো হবে।
বাংলাদেশের প্রামাণ্যচিত্রের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য দু’জন মানুষ প্রয়াত তারেক মাসুদ এবং মিশুক মুনীর-এর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে উৎসর্গ করা হয়েছে এবারের মুক্তিযুদ্ধ ও মানবাধিকার বিষয়ক ষষ্ঠ অন্তর্জাতিক প্রামাণ্যচিত্র উৎসব।
বাংরাদেশ সময়: ১৯০৫ ঘণ্টা, ০৪ অক্টোবর, ২০১২
সম্পাদনা: এম জে ফেরদৌস mjferdous0@gmail.com