 |
| ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
নড়াইল: ১২৬ বছরের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজ আজ নানা সমস্যায় জর্জরিত।
শিক্ষক, শ্রেণিকক্ষ, সেমিনার ও আবাসন সংকটের পাশাপাশি লাইব্রেরি, অডিটোরিয়াম, একাডেমিক ভবন ও পূর্ণাঙ্গ সীমানা প্রাচীর না থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।
দেশের ঐতিহ্যবাহী এ প্রাচীন বিদ্যাপীঠ শিক্ষার্থীদের চাহিদা পূরণ করতে পারছে না।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, ১৮৮৬ সালে তৎকালীন জমিদারদের প্রচেষ্টায় ঐতিহ্যবাহী এ কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন থেকে সুনাম ও গৌরোজ্জ্বল ফলাফল দেখিয়ে আসছে কলেজটি।
এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন দেশের বরেণ্য ও খ্যাতিমান অনেক ব্যক্তিত্ব।
১৯৮০ সালে কলেজটি সরকারিকরণ করা হয়। শিক্ষার আলো আরও প্রসারিত করতে ১৯৯৭ সালে চারটি বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু হলেও বর্তমানে ১১টি বিষয়ে অনার্স চালু রয়েছে। পরবর্তীতে এ কলেজে চারটি বিষয়ে মাস্টার্স কোর্স খোলা হয়। এক বছর পার হতে না হতেই মাস্টার্স কোর্স প্রত্যাহার করা হয়।
এখানকার শিক্ষার্থীদের মাস্টার্স পড়ার জন্য যশোর এমএম কলেজ অথবা খুলনা বিএল কলেজসহ অন্য কলেজে যেতে হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে এইচএসসি, বিএ, বিএসএস, অনার্স কোর্সে প্রায় ৬ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে এখানে।
৫৮ জন শিক্ষকের বিপরিতে কর্মরত আছেন ৪১ জন। বর্তমানে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষসহ ১৭ জন শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। শিক্ষকের প্রয়োজন থাকলেও পদ সৃষ্টি করা হচ্ছে না।
প্রতিটি অনার্স বিষয়ে ৭টি শিক্ষকের পদ থাকার কথা থাকলেও ৪টি পদ রয়েছে। ৪টি পদ থাকলেও কোনো কোনো বিভাগে রয়েছে এক জন শিক্ষক।
বর্তমানে কলেজটিতে বাংলা, ইংরেজি, অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, দর্শন, ইতিহাস, উদ্ভিদবিজ্ঞান, প্রাণিবিজ্ঞান, গণিত, হিসাববিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা বিষয়ে অর্নাস চালু রয়েছে।
বাংলা, অর্থনীতি, ইতিহাস, প্রাণিবিজ্ঞান, গণিত বিভাগে ৪ জন করে শিক্ষক রয়েছে। ইংরেজি, দর্শন, উদ্ভিদবিজ্ঞান, রসায়ন ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে শিক্ষক আছেন ৩ জন করে।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান, পদার্থ বিজ্ঞান, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে শিক্ষক আছেন ২ জন। এছাড়া হিসাববিজ্ঞান বিভাগে আছেন ১ জন, কৃষি বিজ্ঞান বিষয়ে কোনো শিক্ষক নেই।
শিক্ষক স্বল্পতার কারণে এক জন শিক্ষককে প্রতিদিন ১২ থেকে ১৩টি ক্লাস নিতে হচ্ছে।
এদিকে, ১৯৮০ সাল থেকে দীর্ঘ ২৮ বছর লাইব্রেরিয়ান এবং ১৮ বছর ধরে শরীরচর্চা শিক্ষক নেই। লাইব্রেরি, অডিটোরিয়াম, ক্যান্টিন ও একাডেমিক ভবন আলাদা না থাকায় প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
শ্রেণিকক্ষের সংকটের কারণে মাল্টিপারপাস হলরুমে ক্লাস নিয়েও সংকট দূর হচ্ছে না।
ছাত্র-ছাত্রীদের দাবি আদায়ের লক্ষে ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে থাকলেও ১১ বছর ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ রয়েছে।
সর্বশেষ ২০০০-০১ সালের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে মোল্যা মাসুল হাসান সাবু ভিপি এবং এস এম পলাশ জিএস নির্বাচিত হন। এর পর থেকে নির্বাচন বন্ধ রয়েছে।
ছাত্র-ছাত্রীরা দীর্ঘদিন যাবৎ ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসলেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।
আবু সুফিয়ান বাহার, চঞ্চল শাহারিয়ার মিম, মীনা করিমুল হক পলাশ, মৌসুমি আক্তার, সাদিয়া ফেরদৌস, আফরোজা নাজনিনসহ কলেজের শিক্ষার্থীরা কলেজে মাস্টার্স কোর্স চালু করে এ অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ লাঘবের দাবি জানান।
সেই সঙ্গে কলেজের সব সমস্যা সমাধান করে ঐতিহ্যবাহী নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের পুরোনো গৌরব ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষক, ক্লাসরুম, লাইব্রেরির ভবনের সমস্যার কথা স্বীকার করে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বরুন কুমার বিশ্বাস বাংলানিউজকে জানান, শিক্ষক সমস্যা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করা হয়েছে কোনো লাভ হয়নি।
কলেজে মাস্টার্স কোর্স চালুর বিষয়ে অধ্যক্ষ বাংলানিউজকে বলেন, বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ ডিজি মহোদয়ের অফিসে আমরা একাধিকবার চেষ্টা করেছি বিভিন্ন সময়ে। অদৃশ্য কারণে নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের মতো একটি প্রাচীন কলেজে মাস্টার্স চালু হচ্ছে না।
কলেজের সব সমস্যা সমাধানের জন্য তিনি সরকারের সংশ্লিষ্টদের সুদৃষ্টি কামনা করেন।
পাঠক আগামীকাল বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের প্রতিবেদন পড়তে banglanews24.com ভিজিট করুন।
বাংলাদেশ সময়: ০০০৮ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১২,২০১২
সম্পাদনা: মাহাবুর আলম সোহাগ, নিউজরুম এডিটর