 |
ঢাকা: বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দল বুধবার রাতে মালয়েশিয়া যাচ্ছে যুব এশিয়া কাপে খেলার জন্য। এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য নিয়ে বাংলানিউজের সঙ্গে কথা বলেছেন অধিনায়ক আসিফ আহমেদ রাতুল। সাক্ষাৎকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।
বাংলানিউজ: অধিনায়ক হওয়ায় কতটা খুশি?
রাতুল: বোর্ডের হয়ে এই প্রথম কোনো দলের অধিনায়কত্ব করবো। আমি খুব খুশি। পাশাপাশি অধিনায়ককে অনেক চাপও নিতে হয়। সেগুলোকে জয় করে ভালো খেলার চেষ্টা করবো। দলের ওপর আমার বিশ্বাস আছে ভালো খেলবে।
বাংলানিউজ: দলের ওপর অধিনায়কের প্রভাব থাকতে হয়, আপনি কতটা প্রভাব ফেলতে পেরেছেন?
রাতুল: আল্লাহ’র রহমতে সবাই খুব ভালো। এক-দুইজন ছাড়া বেশিরভাগ খেলোয়াড় আমার জুনিয়র। প্রত্যেকে আমাকে খুব মানে এবং সম্মান করে। আমাদের সম্পর্ক অনেক দিনের। আশা করি ভালো ভাবে সামলাতে পারবো।
বাংলানিউজ: অধিনায়ক পারফর্মার হলে বাকিরাও ভালো খেলে, নিজের ওপর কতটা আস্থা আছে?
রাতুল: আমি ছোটবেলা থেকে খেলার পরিবেশে বড় হয়েছি। অনেক দিন ধরে ক্রিকেট খেলছি। জাতীয় লিগে এবং ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেটে গাজী ট্যাঙ্কের হয়েও পারফর্ম করেছি। সবচেয়ে বড় বিষয় আগে অনেকগুলো টুর্নামেন্ট খেলার অভিজ্ঞতা আছে। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে খেলেছি। লিগে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের মোকাবেলা করেছি। আমার মনে হয় এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারবো। এই টুর্নামেন্ট এবং বিশ্বকাপে ভালো খেলে জাতীয় দল নির্বাচকদের দৃষ্টিতে আসতে চাই। আমি বয়সভিত্তিক সব দলে খেলেছি। এবার জাতীয় দলে ঢুকতে হবে। অতএব সেভাবেই আমাকে খেলতে হবে।
বাংলানিউজ: প্রতিপক্ষ সম্পর্কে কতটা ধারণা আছে?
রাতুল: শ্রীলঙ্কার সঙ্গে খেলেছি। তাদের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সঙ্গে আমাদের খুব একটা পার্থক্য নেই। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আমরা এগিয়ে। আমাদের বলা হয়েছে আফগানিস্তানে পাকিস্তানের ক্রিকেটার খেলতে পারে। কাতার দলেও হয়তো পাকিস্তানের ক্রিকেটার খেলবে। আমরা সব ধরণের পরিস্থিতি মোবাবেলা করতে প্রস্তুত।
বাংলানিউজ: আপনার দলে কোনো ঘাটতি আছে?
রাতুল: একাদশের চারজন ক্রিকেটারকে পাচ্ছি না। তাদের মধ্যে তিনজন চোটাক্রান্ত। আনামূল হক বিজয় জাতীয় দলের সঙ্গে জিম্বাবুয়েতে। বিশেষ করে দু’জন পেসার তাসকিন আহমেদ তাজিন ও আবু জাহেদ রাহির চোট থাকায় যেতে পারছে না। তাদের পেলে আরও ভালো হতো।
বাংলানিউজ: প্রতিযোগিতায় আপনাদের লক্ষ্য কী?
রাতুল: এই কদিন ভালো প্র্যাকটিস হয়েছে। সিসিডিএম অনূর্ধ্ব-২১ দলের বিপক্ষে আমরা তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলে জিতেছি। প্রত্যেকে পারফর্ম করেছে। আমাদের লক্ষ্য থাকবে প্রতিটি ম্যাচ আলাদা আলাদা করে জেতা। গ্রুপে শ্রীলঙ্কা ছাড়া আফগানিস্তান এবং কাতারের বিপক্ষে কখনো খেলিনি। কোনো প্রতিপক্ষকে খাটো করে দেখছি না। আফগানিস্তান এবং কাতারকে হারাতে পারলে সেমিফাইনালে খেলতে পারবো। আমাদের প্রথম লক্ষ্য থাকবে সেমিফাইনালে উন্নীত হওয়া। সেমিফাইনালে যেতে পারলে টার্গেট করবো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য।
বাংলানিউজ: অনূর্ধ্ব-১৯ দলে একবার অধিনায়কের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ হয়েছিলো। অধিনায়কের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিলো তিনি মুড মারেন। আপনার বিরুদ্ধেও বেশি কিছু অভিযোগ আছে?
রাতুল: যখন একাএকা থাকি তখন ইচ্ছে মতো চলতাম। এখন আমি অধিনায়ক, অনেক দায়িত্ব। অন্যের ভালো মন্দ আমাকে খেয়াল রাখতে হবে। আমি প্রত্যেকের রুমে রুমে গিয়ে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। প্রত্যেকে আমাকে খুব সহযোগিতা করছে। কারণ আমার দলের সবাই খুব ভালো। আর আমিও আগের চেয়ে অনেক পরিণত।
বাংলানিউজ: অধিনায়ক হিসেবে আপনি কাউকে অনুসরণ করেন?
রাতুল: জাতীয় দলের অধিনায়ক মুশফিক ভাইকে। তিনি একদিন আমাদের ক্লাস নিয়েছেন। সেখানে অনেক বিষয়ে কথা বলেন, তারমধ্যে তিনটি বিষয় আমি মনে রেখেছি এবং সেভাবে চলার চেষ্টা করছি। তিনি বলেছেন, এশিয়া কাপের আগে প্রত্যেকের রুমে গেছেন এবং তারা কি করতে চায় তা জানার চেষ্টা করেছেন। অধিনায়কের কাছে কি ধরণের সহযোগিতা আশা করে তাও জেনেছেন এবং সেগুলো সমাধানের চেষ্টাও করেন। আমিও প্রত্যেকের কাছে গিয়ে তাদের প্রত্যাশা, দেশের জন্য কি করতে চায় এবং আমি তাদের কিভাবে সাহায্য করতে পারি তা জানার চেষ্টা করেছি। সব কিছু পরিকল্পনা মতো এগোচ্ছে। আশা করি আমি এবং আমার দল সফল হব।
বাংলাদেশ সময়: ২০০০ ঘণ্টা, জুন ২০, ২০১২
এসএ
সম্পাদনা: চঞ্চল ঘোষ, নিউজরুম এডিটর