 |
ঢাকা: সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির হত্যাকারীদের চিহ্নিত ও গ্রেফতার করা নিয়ে সাংবাদিকদের ধৈর্যের ওপর আর চাপ সৃষ্টি না করার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা।
সাংবাদিক নেতারা বলেছেন, নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১০ অক্টোবরের মধ্যে যদি এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য না পাওয়া যায়, তাহলে আগামী ১৫ অক্টোবর ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য সারা দেশের সাংবাদিকদের মহাসমাবেশ থেকে কঠিন আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাগর-রুনির হত্যাকারীদের চিহ্নিত ও গ্রেফতার করার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক মতবিনিময় সভায় সাংবাদিক নেতারা এ কথা বলেন।
সাগর-রুনির হত্যাকারীদের চিহ্নিত ও গ্রেফতার করার দাবিতে চলমান আন্দোলন কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে), ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে), ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটি(ডিআরইউ) ও জাতীয় প্রেস ক্লাব বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন ও গণমাধ্যমগুলোর ডিইউজে’র ইউনিট প্রধান ও ডেপুটি প্রধানদের নিয়ে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।
বিএফইউজে’র একাংশের সভাপতি ইকবাল সোবহান চৌধুরীর সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএফইউজে’র অপর অংশের সভাপতি রুহুল আমীন গাজী, সাধারণ সম্পাদক শওকত মাহমুদ, ডিইউজে’র একাংশের সভাপতি আবদুস শহীদ, ডিইউজে’র অপর অংশের সভাপতি ওমর ফারুক, সাধারণ সম্পাদক শাবান মাহমুদ, ডিআরইউ’র সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা প্রমুখ।
এতে আরো বক্তব্য রাখেন ঢাকা সাব এডিটরস কাউন্সিল’র সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, সিনিয়র সাংবাদিক কার্তিক চট্টোপাধ্যায়, নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি নাসিমুন আরা হক, টিভি ক্যামেরা জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন’র (টিসিএ) শাহীন হাওলাদার, বাংলাবাজার পত্রিকার ইউনিট চিফ মনিরুল ইসলাম, ইনডিপেনডেন্ট টিভির ইলিয়াস হোসেন, বাংলাবাজার পত্রিকার মশিউর রহমান, সাংবাদিক কামার ফরিদ, মাছরাঙার প্ল্যানিং এডিটর রাশেদ আহমেদ, সাংবাদিক রফিকুল বাশার, আরটিভির আখতার হোসেন প্রমুখ।
মতবিনিময় সভায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা সাগর-রুনির হত্যার বিচারের দাবিতে প্রয়োজনে সংবাদ মাধ্যম বন্ধ রাখা, ধর্মঘট আহবান, রাজপথ বন্ধ করে দিয়ে প্রেস ক্লাব চত্ত্বরে লাগাতার অবস্থান গ্রহণ, সাগর-রুনির হত্যাকারীদের চিহ্নিত করতে গণতদন্ত কমিশন গঠন, এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমানকে গ্রেফতার করে তাকে রিমান্ডে নেওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচির প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।
বিএফইউজে’র সভাপতি ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, ‘‘নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ১০ অক্টোবরের মধ্যে সাগর-রুনির হত্যাকান্ড সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রদানের সকল কথা বলেছেন। আমরা সেটাকে সরকারের বক্তব্য বলেই মনে করি। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল সরকারি সংস্থার উচিত সরকারের এ প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা।’’
তিনি বলেন, ‘‘সাংবাদিক জামাল উদ্দিনের হত্যাকারী ও হলমার্ক কেলেঙ্কারির হোতাকে গ্রেফতারের ক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যে দক্ষতা দেখিয়েছে সাগর-রুনির হত্যাকারীদের গ্রেফতারের ক্ষেত্রেও তাদের একই দক্ষতা দেখাতে হবে।’’
তিনি আরো বলেন, ‘সাগর-রুনির হত্যার বিচারের বিরুদ্ধে যারা অবস্থান নিয়েছেন, বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন ও টকশো করছেন এগুলো বন্ধ না হলে তাদের চিহ্নিত ও অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হবে।’’
বিএফইউজে’র অপর অংশের সভাপতি রুহুল আমীন গাজী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তার পিতা-মাতা হত্যার বিচার যেমন বিলম্বিত হয়েছে, সাগর-রুনির বিচারও তেমনি বিলম্বিত হবে। এ কথা প্রধানমন্ত্রী কেন বলেছেন, আমি জানি না।’’
তিনি বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রীর বাবা-মা তথা বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ড আর সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড এক নয়। সাংবাদিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে, স্বাধীনভাবে কাজ করার স্বার্থে সাগর-রুনিসহ সকল সাংবাদিক হত্যার বিচার হওয়া প্রয়োজন।’’
বিএফইউজে’র সাধারণ সম্পাদক শওকত মাহমুদ বলেন, ‘‘১০ অক্টোবরের মধ্যে সরকার যদি সাগর-রুনি হত্যাকান্ডের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু জানাতে না পারে, তাহলে এ সরকারের কাছে আমাদের চাওয়ার আর কিছুই নেই। এ হত্যার বিচারের দাবিতে প্রয়োজনে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’’
গত ১১ ফেব্রুয়ারি পশ্চিম রাজাবাজারের বাসা থেকে মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও তার স্ত্রী এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনির ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই দিনই তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন খুনিদের গ্রেফতারে ৪৮ ঘণ্টা সময় বেধে দিয়েছিলেন। কিন্তু আট মাস পূর্ণ হতে চললেও এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হয়নি।
এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই খুনিদের গ্রেফতারের দাবিতে সাংবাদিক সংগঠনগুলো বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচি পালন করছে। সর্বশেষ গত ২৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সাংবাদিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ওই সমাবেশে সাংবাদিক নেতারা বলেন, ১০ অক্টোবরের মধ্যে সাগর-রুনি হত্যার রহস্যের জট খুলবে বলে নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর ঘোষণা দিয়েছেন। এটি বাস্তবায়ন না হলে আগামী ১৫ অক্টোবর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সারা দেশের সাংবাদিকদের নিয়ে মহাসমাবেশ করা হবে এবং সেদিন পুরো ঢাকা অচল করে দেওয়া হবে। বৃহত্তর এই আন্দোলনের প্রস্তুতির জন্য ৭ অক্টোবর সব সাংবাদিক সংগঠনের নেতা ও সদস্যদের নিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবে মতবিনিময় সভার সিদ্ধান্ত হয়। পরে সভাটি একদিন পেছানো হয়।
আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে বলে গত ২৫ সেপ্টেম্বর আশা প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর।
আগামী ১১ অক্টোবর সাগর-রুনি হত্যার আট মাস পূর্ণ হচ্ছে। এদিন তাদের স্মরণে জাতীয় প্রেস ক্লাবে শোকসভা করবেন সাংবাদিকরা।
বাংলাদেশ সময়: ১৭১২ ঘণ্টা, অক্টোবর ০৮, ২০১২
এসআর/ সম্পাদনা: অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর