 |
ঢাকা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ওভার দ্যা কাউন্টার বা ওটিসি মার্কেটে পড়ে থাকা কোম্পানিগুলোকে সক্রিয় করতে উদ্যোগ নিয়েছে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)।
এরই অংশ হিসেবে সোমবার দুই স্টক এক্সচেঞ্জের সঙ্গে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম খায়রুল হোসেনের সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।
এদিকে বাজারকে সক্রিয় করতে ইতিমধ্যে দুই স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে এ বিষয়ে এসইসিতে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এসব প্রস্তাবনার বিষয়ে সোমবারের বৈঠকে আলোচনা হবে।
অনুষ্ঠিতব্য এ বৈঠকের মাধ্যমে লেনদেনহীন ওটিসি মার্কেটের কোম্পানিগুলোতে বিনিয়োগ করে আটকে থাকা বিনিয়োগকারীদের রক্ষায় ফলপ্রশু উদ্যোগ আসবে বলে আশা করছেন তারা।
জানা গেছে, নানা অনিয়মের কারণে পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে ওটিসি মার্কেটে স্থানান্তরিত করা হয়। এতে কোম্পানিগুলো পুরোপুরি জবাবদিহিতার বাইরে চলে যায়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে এ সুযোগে অনেক প্রতিষ্ঠান কোম্পানি বন্ধ করে উধাও হয়ে যায়। আর এ কারণে ওই সমস্ত কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারদের পড়তে হয় বিপাকে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় কয়েক মাসেও ওটিসি মার্কেটে লেনদেন হয় না। পড়ে রয়েছে লাখ লাখ শেয়ার বিক্রয় আদেশ।
এমন অবস্থায় এসইসির উদ্যোগকে ইতিবাচক দৃষ্টিতেই দেখছেন ওটিসি মার্কেটের কোম্পানির শেয়ারধারীরা।
ওটিসি মার্কেটের উন্নয়নে দেওয়া সিএসইর প্রস্তাবে ওটিসি মার্কেটে থাকা কোম্পানিগুলোকে নিয়ে নতুন ক্যাটাগরি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া ‘ওটিসি’ বা ‘বিকল্প’ বাজার নামে আলাদা একটি বাজার গঠনেরও প্রস্তাব করেছে সংস্থাটি। সেখানে বর্তমান বাজারের ন্যায় লেনদেন হবে।
এর আগেও সিএসইর পক্ষ থেকে এসইসিতে এসব প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যা সোমবারের বৈঠকেও পেশ করা হবে।
সিএসই প্রস্তাবে আরো বলা হয়, বাজারে কোম্পানির তালিকাচ্যুতি (ডিলিস্ট) বলতে কিছু থাকবে না। কোনো কোম্পানি আইন ভঙ্গ করলে অথবা আইন পরিপালন করতে ব্যর্থ হলে (যে কারণে তালিকাচ্যুত হয়) ওই কোম্পানিকে শাস্তি স্বরূপ নতুন একটি ক্যাটাগরি গঠন করে ওই ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করতে হবে। এতে মূল বাজারেই ওই কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হবে।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বাজারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে নতুন করে ওটিসি বাজার গঠনের প্রস্তাব করেছে সিএসই।
সিএসইর প্রস্তাবে বলা হয়, অনেক ভালো ভালো কোম্পানি মনে করে যে, তাদের মূল বাজারে তালকাভুক্ত হওয়ার দরকার নেই। তাই তাঁরা ওটিসি বাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারবে। একই সঙ্গে অনেক কোম্পানি বাজারে আসতে চায়। কিন্তু সাধারণ বাজারে আসতে হলে তাকে পর পর তিন বছর মুনাফা অর্জন করতে হয়।
এক্ষেত্রে কোনো কোম্পানি পর পর তিন বছর মুনাফা অর্জনে ব্যর্থ হলে তারা ওটিসি বাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারবে। কম মূলধনী ভালো কোম্পানিও এ বাজারে তালিকাভুক্তির বিষয়েও প্রস্তাব করেছে স্টক এক্সচেঞ্জটি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিএসইর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ সাজিদ হোসেন রোববার জানান, ‘ওটিসি বাজারের উন্নয়নে সিএসইর পক্ষ থেকে বেশ কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে যেসব কোম্পানির কর্মকা- ভালো তাদেরকে মূল বাজারে ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা এসইসিকে অনুরোধ জানাবো। একই সঙ্গে যে সব কোম্পানির অস্তিত্ব নেই তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলা হবে।’
নতুন ক্যাটগরির সম্পর্কে সিএসইর সিইও বলেন, ‘সিএসইর পক্ষ থেকে খারাপ কোম্পানিগুলো নিয়ে নতুন ক্যাটাগরি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। খারাপ ক্যাটাগরিতে যাওয়ার পর ওই কোম্পানিকে একটি নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হবে। এর মধ্যে ওই কোম্পানি মূল বাজারে ফিরে না আসলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বাংলাদেশ সময়: ১৯১৪ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ০৯, ২০১২
এইচএমএম/সম্পাদনা: আহমেদ জুয়েল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর