 |
| ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
ঢাকা: উড়োজাহাজ সঙ্কটের কারণে গন্তব্যে যেতে না পারায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুবাই, সৌদি আরবের রিয়াদ ও জেদ্দা, মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুরগামী ছয় শতাধিক যাত্রী বিক্ষোভ করছেন। এসব যাত্রী উড়োজাহাজ সঙ্কটে বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট সিডিউল বিপর্যয়ের শিকার হয়ে ৩/৪ দিন ধরে বিমানবন্দরে আটকা পড়ে আছেন।
গত ৩/৪ দিন ধরেই বিমানের ফ্লাইট সিডিউল বিপর্যয় এবং যাত্রী বিক্ষোভের ঘটনা নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
বিক্ষুদ্ধ যাত্রীরা মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টা থেকে ফ্লাইট না দেওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু করেন। এক পর্যায়ে রাত পৌনে ১০টার দিকে তারা মিছিল নিয়ে বহির্গমন লাউঞ্জের রো-ডি বিমান কাউন্টারে অবস্থান নেন। তারা এখনো সেখানে অবস্থান করছেন।
এদিন বিকেল থেকে এসব আটকে পড়া যাত্রী বিমান বন্দরে আসেন। এসে কাউন্টারে বোর্ডিং পাস না পাওয়ায় রাত সাড়ে ৮টা থেকে শুরু বিক্ষোভ করেন।
আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের বিপুল সংখ্যক সদস্য অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কায় বিমানের কাউন্টার ও রো-ডি এলাকা ঘিরে রেখেছে।
আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের এএসপি এহতেশাম যাত্রীদের বুঝিয়ে শান্ত রাখার চেষ্টা করছেন।
এদিকে, রাত ১১টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কাউন্টার থেকে রিয়াদগামী একটি ফ্লাইটের সীমিত আকারে বোর্ডিং কার্ড দেওয়া শুরু হয়েছে।
বিক্ষুব্ধ অন্য রুটের যাত্রীরা বোর্ডিংকার্ড দেওয়ার ঘটনায় আবারো উত্তেজিত হয়ে পড়েন। যাত্রীদের তোপের মুখে বিমান কাউন্টারের কর্মীরা কাউন্টার ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন।
এ ব্যাপারে বিমানের স্টেশন ম্যানেজারের সঙ্গে যোগাযোগের করার চেষ্টা করা হলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।
এ ব্যাপারে বিমানবন্দরের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা ওয়াহিদুর রহমান বাংলানিউজক বলেন, “উড়োজাহাজ সঙ্কটের কারণে গত এক সপ্তাহ থেকে বিমানের কয়েকটি রুটে সিডিউল বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। আর এ জন্য প্রতিদিন বিক্ষুব্ধ যাত্রীদের কাছে নাজেহাল হতে হচ্ছে। আমরা যাত্রীদের বুঝিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করছি।”
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (রাত সাড়ে ১১টা) আটকে পড়া যাত্রীদের বিক্ষোভ চলছিল।
যাত্রীদের অভিযোগ, গত ৩/৪ দিন ধরে বিমান কর্তৃপক্ষ কেবলই তাদের ফ্লাইটের সময় পরিবর্তন করছেন। বার বার সময় দিয়েও তাদের ফ্লাইট দেওয়া হচ্ছে না। এর কারণ হিসেবে উড়োজাহাজ সঙ্কটের কথা বলা হচ্ছে।
অনেকেই বিমানবন্দরেই অবস্থান নিয়ে আছেন। অনেকে সর্বশেষ সময়সূচি অনুসারে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় বিমানবন্দরে হাজির হন। বিমান কর্তৃপক্ষ মোবাইল ফোনে যাত্রীদের ওই সময়ে বিমানবন্দরে ডেকে আনে। তারও প্রায় আড়াই ঘণ্টা পরেও ফ্লাইট না পেয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন যাত্রীরা।
এদিকে, ওই সব ফ্লাইটের অপেক্ষায় আটকে পড়া বেশ কয়েকজন যাত্রীর ভিসার মেয়াদ ২/১ দিনের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে বলে জানান ওই যাত্রী।
বাংলাদেশ সময়: ২২১৭ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১২
জেএস/ সম্পাদনা: অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর/ জাহাঙ্গীর আলম, নিউজরুম এডিটর