ঢাকা: বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাদের নিয়ে দেশ ও জাতি বড্ড বিপাকে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ঈদের আগেই তার উপদেষ্টাদের মুখে তালা লাগানোর ব্যবস্থা করলে মানুষের ঈদের আনন্দ বাড়বে।
তিনি শুক্রবার বিকালে রাজধানীর উত্তরার আজমপুরে ভূতের আড্ডা রেস্টুরেন্টে ঢাকা মহানগর বিকল্পধারা (উত্তর) আয়োজিত ইফতারপূর্ব আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন।
মহানগর বিকল্পধারার সভাপতি মাহবুব আলীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তৃতা করেন বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান, যুগ্ম মহাসচিব আবদুর রউফ মান্নান, শেখ শহিদুজ্জামান, স্থপতি মাহফুজুর রহমান, নাজমুল করিম বাচ্চু, আজিজ আখন্দ, আইনুল হক, ওবায়দুল হক মৃধা, আসাদুজ্জামান বাচ্চু, বি এম নিজাম প্রমুখ।
দেশ ও জাতি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাদের নিয়ে বড্ড বিপাকে রয়েছে উল্লেখ করে বি. চৌধুরী বলেন, উপদেষ্টাদের কার্যকলাপ দেখে মনে হয় তারা দলীয় কর্মকর্তা হলেই মানানসই হতো। একজন উপদেষ্টার পদত্যাগের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্যসব পদত্যাগপত্রের মতো এ পদত্যাগপত্রটিও হয়তো প্রধানমন্ত্রীর দফতরে ঝুলছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর উচিত হবে ঈদের আগেই তার উপদেষ্টাদের মুখে তালা লাগানোর ব্যবস্থা করা। তা হলে মানুষের ঈদের আনন্দ বাড়বে।
ঈদের ছুটিতে গ্রামে যাওয়ার আগে অবশ্যই বাড়ি-ঘরে তালা লাগিয়ে যাওয়ার জন্য রাজধানীর বাসিন্দাদের প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আহ্বানের সমালোচনা করে বি. চৌধুরী প্রশ্ন করেন “আপনি কি সতর্ক করার মাধ্যমে জনগণকে ভয় দেখালেন? ঘরে তালা বন্ধ না করে কি কেউ বাইরে যায়! আশা করি, চোর-ডাকাতরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে যেন উৎসাহী না হয়।’’
তিনি বলেন, এসব উদ্ভট বক্তব্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত না করে বরং স্বরাষ্টমন্ত্রীর উচিত ছিল, রাজধানীর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বেশি করে পুলিশ মোতায়েন করা।
নতুন করে বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের ৩৯ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি বাতিল প্রসঙ্গে সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বলেন, এটা দেশের জন্য অসম্মানজনক।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘‘ঈদ এসে গেল। কিন্তু রাস্তা-ঘাট, লঞ্চ, বাস ও ট্রেনের অবস্থা দেখে মনে হয় মানুষের ঘরে ফেরার স্বপ্ন এখনও দু:স্বপ্ন হয়েই রয়েছে। করিৎকর্মা যোগাযোগমন্ত্রীকে বাস্তবে কাজ করার অনুরোধ জানাই।”
বি. চৌধুরী আরো বলেন, বর্তমান সরকারের কাছ থেকেও নাজাত চাইতে হবে। এতোদিন তারা বলেছিলো, আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন হবে না। এখন তাদের ভিন্ন সুর। আমাদের দাবি, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচন সম্ভব হবে না। কারণ, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক আচরণ ঠিক না হলে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না।
তিনি বলেন, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনও জরুরি। কিন্তু এই সরকার নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন করতে পারবে না। এজন্য নির্দলীয় সরকার দরকার।
বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান বলেন, জনগণের ভোটে এই সরকার আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না। কারণ, এই সরকার জনগণের জন্য কাজ করেনি। মানুষ নানা কাজে অতিষ্ট হয়ে বিকল্প একটি ব্যবস্থার খোঁজ করছে। বিকল্পধারা সাধারণ মানুষের বিকল্প সেই প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।
আলোচনা সভা শেষে বিকল্পধারার ঢাকা মহানগর উত্তরের ৮ থানা কমিটি ঘোষণা করা হয়। থানা কমিটির আহ্বায়করা হলেন, উত্তরা-ডা. আলাউল হক, তুরাগ-শেখ রবিউল ইসলাম, উত্তরখান-মো. আল আমিন, দক্ষিণখান-মো. ওসমান আলী, ভাটারা-মো. মোশাররফ হোসেন, বাড্ডা-মওলানা কবীর হোসেন, বনানী-উত্তম কুমার দে ও ক্যান্টনমেন্ট-মো. আইন উদ্দিন।
বাংলাদেশ সময়: ১৮২৬ ঘণ্টা, আগস্ট ১০, ২০১২
এমএম/ এমআইআর/ সম্পাদনা: অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর