 |
ঢাকা: নিম্ন আদালত ভাংচুরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়াসহ বিএনপি সমর্থক ২৫ আইনজীবীকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে চার্জশিটটি দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালী থানার উপ পরিদর্শক(এসআই) আজিজুল হক।
চার্জশিট দাখিলের বিষয়টি বাংলানিউজকে নিশ্চিত করেছেন এডিসি প্রসিকিউশন আনিসুর রহমান।
এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরেই অভিযুক্ত ২৫ আইনজীবীর মধ্যে ২২ আইনজীবী অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম সহিদুল ইসলামের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। কিন্তু তারা হাইকোর্ট থেকে ১০দিনের জামিনে থাকায় জামিন সংক্রান্ত শুনানির জন্য আগামী ৩ জুন দিন নির্ধারণ করেছেন।
গত ২২ মে আদালতে দরজায় লাথি মারাসহ ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। ২৩ মে রাতে কোতয়ালী থানায় বিএনপিদলীয় ২৯ আইনজীবীর বিরুদ্ধে এ মামলা করে পুলিশ। মামলায় অজ্ঞাত আরো ৭০ জন আইনজীবীকে আসামি করা হয়।
গত ২৪ মে অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়াসহ ২২ আইনজীবী হাইকোর্টে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান। ওইদিন হাইকোর্ট ২২ জনকে ১০ দিনের জন্য জামিন দেন এবং এর মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে নিদেশ দেন।
হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী বৃহস্পতিবার ঢাকা আইনজীবী সমিতির বর্তমান সভাপতি অ্যাডভোকেট বোরহান উদ্দিন, অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, মহসীন মিয়া, খোরশেদ আলম, গোলাম মোস্তফা, ইকবাল হোসেন, ওমর ফারুক ফারুকীসহ ২২ আইনজীবী সিএমএম আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থণা করেন। বেলা ১টায় ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম সহিদুল ইসলামের আদালতে শুনানি শুরু হয়।
বিচার বিভাগের ওপর আওয়ামী সরকারের নগ্ন হস্তক্ষেপ ও দলীয়করণের প্রতিবাদে আদালত বর্জনের কর্মসূচি পালনকালে গত ২২ মে আদালতকক্ষের দরজায় লাথি ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে।
আইনজীবী নেতাদের বিক্ষোভসহ মিছিল নিয়ে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত ভবনের দ্বিতীয় তলা দিয়ে যাওয়ার সময় কিছু বিক্ষুদ্ধ আইনজীবী মহানগর দায়রা জজ মো. জহুরুল হকের এজলাসে ঢোকার চেষ্টার করেন। পুলিশে বাধায় তারা ঢুকতে না পেরে বিচারকের উপস্থিতিতেই দরজায় লাথি মারেন।
এরপর ওই ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত মহানগর দায়রা জজের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও নাজিরের কক্ষের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় একাধিক কাচের জানালা ভাংচুর করেন।
এছাড়া আইনজীবীরা ঢাকা জজ আদালতের নতুন ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ মো. আব্দুল মজিদের আদালত কক্ষের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় তার স্টেনোগ্রাফারের কক্ষের জানালা ভাংচুর করেন।
উল্লেখ্য, গত ২১ মে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার খোকনের জামিনের আবেদন আদালত নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিলে এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার আদালত বর্জনের ঘোষণা দেয় জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম।
গত ২৪ মে বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীম ও বিচার শেখ মো. জাকি র হোসেনের বেঞ্চ শুনানি শেষে তাদের ১০ দিনের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছিলেন। একইদিন সকালে তাদের পক্ষে এই বেঞ্চে জামিন আবেদন করা হয়।
আসামিপক্ষে মামলার শুনানি করেন অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। এসময় বিপুল ।সংখ্যক বিএনপিপন্থি আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন, মহানগর পিপি আব্দুল্লাহ আবু ও জেলা পিপি খন্দকার আব্দুল মান্নান।
বাংলাদেশ সময়: ১৮০৩ ঘণ্টা, মে ৩১, ২০১২
এমআই/সম্পাদনা: নূরনবী সিদ্দিক সুইন, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর