৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২০, বুধবার মে ২২, ২০১৩ ১:০৮ এএম BDST banglanew24
22 Nov 2012   05:05:37 PM   Thursday BdST
E-mail this

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য’র মুক্তগদ্য:

অলকানন্দা


নির্ঝর নৈঃশব্দ্য
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
অলকানন্দা নির্ঝর নৈঃশব্দ্য’র মুক্তগদ্য:

একদিন ভেবেছিলাম দেবী ছিন্নমস্তার গল্প তোমাকে শোনাবো। তুমি চক্রাকারে হারিয়ে গেলে অনেকদূরে। নদী আর সমুদ্রগুলি পার হলে তোমার পায়ের পাতায় আনত চুম্বন হয়ে প্রজাপতি হয় লাল গতকাল। এটা আমার নাম না-ও হতে পারে। তুমি জেনেছিলে ভবঘুরে দুপুরের আখ্যান সূর্যমুখী সন্ধ্যায়। দেবী দাঁড়িয়ে ছিলো মৈথুনরত ফুল ও প্রজাপতির শীৎকারের উপর। কেমন গর্বিত স্তনযুগল! চুইয়ে পড়ছে মধু ও মদ। আমি মন্দাকিনীর চোখের তারায় অশ্রু হয়ে দেখেছি সকালের রূপ— তোমাকে বলিনি, প্রিয়।

আর তুমি অলকানন্দা— গঙ্গা নাকি হলুদ ফুল। পারুলের দূরবর্তী আত্মজা। তোমার মায়ের মুখের রূপ তোমাকে দিয়েছিলো চারুময় চোখের মায়া। প্রাসাদের পেছনে অবরোহী পাহাড়ের খাঁজে ঝর্ণা আছে নির্ঝর। তার চোখের জলে ভিজে গেলে শঙ্খচরণ তোমার— তুমি কারো বাহুবন্দী নও। স্থির চিত্র ঝুলে থাকে জানলার পাশের দেয়ালে সবুজাভ ছায়াছবি। এই আলো লতাগুল্ম আর কানামাছি-ছায়া  আর রোদ্দুরের।

তুমি অলকানন্দা। আমি মেঘদূত হলে তোমার খোঁজে পাড়ি দিই কালরূপ পাথার। সুদূর অলকায় তোমার বসত। আমি কখনো পূর্বমেঘ, কখনো উত্তরমেঘ। ভেবেছিলে এইভাবে যক্ষের যাতনার সঙ্গী হলো আমারও আর্তহৃদয়! হাতের বলয় যার খসে গেলো কামার্ত যাতনায়। না, কেউ আমাকে করেনি মিনতি। তোমার আসলে কেউ ছিলো না সঘন রাতের চরাচর। তুমি তো কেবল জেনেছিলে কেমন করে সিঁদুরের রঙ গাঢ় হলো— কার রক্তে শীতল হলো সূর্য।

তুমি আঁকছো গজগামিনী। আঁকছো বসে তোমার রূপ। আঁকছো আদি ও সুন্দর। জলপাইবনের ভিতর যে গজ ধীরে হারিয়ে যায়— মনে হয় অপসৃয়মাণ জোছনার ঘাতক— তার পৃষ্ঠে তুমি ও তোমার কৌমার্য। তোমাকে দেখছে ছিন্নমস্তা; তার চোখ নেই— স্তনই চোখ। তার পদতলে পবিত্র কাম ও সৌন্দর্য। যক্ষিণী দুইধারে প্রহরায় নিষিক্তপ্রহর। দালিমের বনে হারিয়ে যাওয়া কাল ফিরে আসে সলাবণ্য সুষমায়। এই প্রেম তিনফোঁটা অশ্রুর বিনিময়ে পাওয়া যায়।

একটা উড়ালপঙ্খী সাপের পিঠে চড়ে আমাদের ভ্রমণ ছিলো না অলৌকিক। রক্তচন্দনের বনে তার চিহ্ন লেখা আছে হাওয়াচুর ঘ্রাণে। আমাদের কথা ছিলো ইন্দ্রধুন। তুমি আমাকে মেঘদূত বলে ডাকো! আমি তো আসিনি কোনো যক্ষের করুণ মিনতিতে। আমি মেঘ আমি আকাশের নিচে আর পৃথিবীর উপরে যে রাজ্য তার স্রষ্টা। এটাকে ওরা স্বর্গ বলে। স্বর্গে ধানক্ষেতের বদলে আমি চাষ করি অলকানন্দার তীরে সূর্যমুখী। দেবী আমাকে বলেছে ডেকে সূর্যমুখীর বীজে জন্ম নেয় সুন্দরের সন্তান। ললিত-রক্তের ভাষায় পাঠায় কথার অমিয় ঘ্রাণ। দেবী মিথুনকে যে শক্তি দেয়— তা সৃষ্টি করে ব্রহ্মাণ্ড। আমিই সেই শক্তি। প্রিয় নির্বাচন— তোর শঙ্খচরণ। যখন তুমি প্রবহমান গঙ্গা— তোমার বুকে আমি ছায়া হয়ে ছাই। পবিত্র জল আর আগুনে তুমি একাকার।

একদিন আমি অন্ধ হয়ে ঘুরে বেড়াই দালিমের বনে। আর তুমি ঘ্রাণের উৎসব এনে আমাকে শক্তি যোগাও। আমার রক্তের ভিতর জেগে ওঠে মাইল মাইল  সূর্যমুখীর বন। দালিমের কাঁটায় কেটে গেলে বিস্মৃত আঙুল— ক্ষরণে জন্ম নেয় সুন্দরের অবিরল সন্তানেরা।

বাংলাদেশ সময় : ১৬০০ ঘণ্টা, ২২ নভেম্বর ২০১২
টিকে, eic@banglanews24.com

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Bookmark and Share
REVE Systems
VISA Center Inc
Holy Hajj BD
RehabHousing.com

শিল্প-সাহিত্য

8877
Kaspersky Lab - Antivirus Software [ Bangladesh ]
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম | এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১, ৮৪০২১৮২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ নিউজ রুম সেল: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, editor.banglanews@gmail.com, editor@banglanews24.com    বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম    এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

বাংলায় লেখা হলে ইউনিকোডে পরিবর্তন করে ইমেইল করুন    কপিরাইট © 2013 সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত    একটি ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড প্রতিষ্ঠান