 |
| ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
ময়মনসিংহ: আজ ৩০ নভেম্বর গৌরীপুর পলাশকান্দা ট্র্যাজেডি দিবস। ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ১৯৭১ সনের এ দিনে পাক হানাদার বাহিনীর সাথে এক সম্মুখযুদ্ধে গৌরীপুর ও ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রাম পলাশকান্দায় শহীদ হন সিরাজ, মনজু, মতি ও জসিম নামের ৪ মুক্তিযোদ্ধা।
স্বাধিকারের জন্য গৌরীপুরসহ সারাদেশে মুক্তিযোদ্ধাদের উপুর্যপরি গেরিলা হামলার মুখে পাক হানাদার বাহিনী যখন দিশেহারা। ঠিক সেই মুহুর্তে মুজিব বাহিনীর একটি গেরিলা দল ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী পাক হানাদার বাহিনীর কনভয়ে হামলা করার জন্য গৌরীপুর ও ঈশ্বরগঞ্জের সীমান্তবর্তী গ্রাম পলাশকান্দা গ্রামে অবস্থান নেয়।
মুজিব বাহিনীর কমান্ডার মোঃ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এ দলে ছিলেন মোঃ তমিজ উদ্দিন, আনোয়ারুল হক খায়ের , আঃ জলিল, নুরুল আমীন, আঃ সাত্তার, এ কে এম নজরুল ইসলাম, গিয়াস উদ্দিন, জসিম উদ্দিন, আনোয়ারুল ইসলাম মনজু, সিরাজুল ইসলাম, মোখলেছুর রহমান চাকদার, মতিউর রহমানসহ ৪০ জন মুক্তিযোদ্ধা।
কিন্তু উল্লেখিত গ্রামে অবস্থান নেয়া মুক্তিযোদ্ধাদের খবর ময়মনসিংহে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে হানাদার বাহিনীর ক্যাম্পে অত্যন্ত সুকৌশলে পৌছে দেয় একই গ্রামের স্বাধীনতাবিরোধী ব্যক্তি মজিদ মাষ্টার।
মুজিব বাহিনীর দলটি আক্রমণ পরিকল্পনা শেষ করে যখন দুপুরের খাবার খেতে বসে ঠিক সেই মুহুর্তে পাক হানাদার, রাজাকার ও আলবদর বাহিনীর সম্মিলিত একটি টিম মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থানের তিনদিকে ঘিরে ফেলে বৃষ্টির মত গুলি ছুঁড়তে থাকে।
অপ্রস্তুত অবস্থায় অতর্কিত আক্রান্ত মুক্তিযোদ্ধারা এ পর্যায়ে প্রতিরোধে গেলেও পাক বাহিনীর ভারি অস্ত্রের মুখে তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়। এ সময় হানাদার বাহিনীর ব্রাশ ফায়ারে মুক্তিযোদ্ধা জসিম উদ্দিন ঘটনাস্থলেই শহীদ হয়।
হানাদারের হাতে আহত অবস্থায় ধরা পড়ে আনোয়ারুল ইসলাম মনজু, মতিউর রহমান ও সিরাজুল ইসলাম।
জানা গেছে, পাকিদের হাতে ধরা পড়া এ ৩ অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধাকে হানাদার বাহিনীর ক্যাম্পে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতনের পর ব্রক্ষপুত্র নদের চরে এনে তাদের চোখ বেয়নেট দিয়ে খুচিয়ে খুচিয়ে উপরে ফেলে হত্যা করা হয়।
স্বাধীনতার পর থেকে প্রতি বছর এ দিবসটিকে পলাশকান্দা ট্র্যাজেডি দিবস হিসেবে গৌরীপুরবাসী বিভিন্ন কমর্সূচীর মধ্য দিয়ে পালন করে আসছে।
দিবসটি পালন উপলক্ষে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, সংগীত নিকেতন, চাঁদের হাট শিশু-কিশোর সংগঠন, গৌরীপুর প্রেসক্লাব, গৌরীপুর সরকারী কলেজ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ উপজেলার বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচী গ্রহণ করেছে।
বাংলাদেশ সময়: ০৬০৫ঘণ্টা, ৩০ নভেম্বর, ২০১২
সম্পাদনা: সোহেলুর রহমান, নিউজরুম এডিটর