চট্টগ্রাম: `আমরা ঠেকেও শিখিনা, দেখেও না` বলে মন্তব্য করেছেন নগরীর বহদ্দারহাটে সিডিএ`র নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের গার্ডার ভেঙে পড়ার ঘটনায় পূর্ত মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব(প্রশাসন) শ্যামসুন্দর সিকদার।
গত ২৯ জুন এবং ২১ নভেম্বর নির্মাণাধীন ওই ফ্লাইওভারে দু`বার দুর্ঘটনার পরও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সতর্ক হয়ে কাজ না করায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে অতিরিক্ত সচিবসহ কমিটির আরো তিন সদস্য ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন।
পরিদর্শন শেষে তদন্ত কমিটির প্রধান শ্যামসুন্দর সিকদার সাংবাদিকদের বলেন, `গত ২৬ জুন একটি গার্ডার ভেঙে পড়েছে। এরপরও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যথেষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়নি। এ ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক হয়ে কাজ করা উচিৎ ছিল।`
তিনি বলেন, `আসলে আমরা ঠেকেও শিখি না, দেখেও শিখি না। আগের দুটি দুর্ঘটনার পর সতর্ক হলে এতো বড়ো দুর্ঘটনা হতো না।`
পরিদর্শনের বিষয়ে অতিরিক্ত সচিব বলেন, `প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে ধারণা নিয়েছি। তবে টেকনিক্যাল বিষয়ে বিষয়ে ধারণা নিতে হবে।`
ঘটনার সঙ্গে জড়িত শ্রমিক ও আহত শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলার আগ পর্যন্ত এ দুর্ঘটনা সম্পর্কে কোন মন্তব্য করতে রাজি না হলেও কাজের স্থান ঝুঁকিপূর্ণ ছিল বলে মন্তব্য করেছেন।
তিনি বলেন, দুটি দুর্ঘটনা ঘটার পর যথেষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকার প্রয়োজন ছিল। পরিদর্শনে দেখেছি, যেখানে কাজ চলছে ওই স্থানটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। কাজ চলার সময় প্রয়োজনে চলাচল বন্ধ রাখা উচিত ছিল।
কি কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে, কারও অবহেলা ছিল কিনা, সিডিএ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও কনসালটেন্ট প্রতিষ্ঠান যথাযথ দায়িত্ব পালন করেছে কিনা কমিটি এজন্য কাজ করবে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, তদন্ত কমিটির প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে যথেষ্ট নিরাপত্তার অভাবে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
তদন্ত কমিটি আহত শ্রমিক, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গঠিত তদন্ত কমিটি ও সিডিএ কতৃপক্ষের সঙ্গেও কথা বলবেন বলে সাংবাদিকদের জানান।
গত শনিবার রাতে নগরীর বহদ্দারহাটে নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের তিনটি গার্ডার ভেঙে পড়ে ১৫ জন নিহতের ঘটনা ঘটে। একই ঘটনায় অর্ধশতাধিক আহত হযেছে।
এ ঘটনার পর চট্টগ্রাম গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। এছাড়া চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও সিডিএ আলাদা দুটি কমিটি গঠন করেছে।
পূর্ত মন্ত্রণালয় গঠিত ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক শ্যামসুন্দর সিকদারের নের্তৃত্বে বুধবার বিকালে চট্টগ্রাম পৌছেন। এরপর বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে বহদ্দারহাট সংলগ্ন ঘটনাস্থলে পৌছেন।
সেখানে কমিটি প্রত্যক্ষ দর্শী ও সংশিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনা সম্পর্কে ধারণা নেন। সেখান থেকে গত ২৯ জুন গার্ডার ভেঙে পড়ার স্থানে যান তারা। এরপর নগরীর চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাবুল চন্দ্র বণিকের কার্যালয়ে গিয়ে যান। সেখানে তার সঙ্গে কথা হতাহতদের নামের তালিকা সংগ্রহ করেন তারা।
সেখান থেকে তারা চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে যান। সেখান থেকে চট্টগ্রাম মেডিক্যালে আহতদের দেখতে যাওয়ার কথা রযেছে।
বাংলাদেশ সময়:১৬ ৩০ঘন্টা, নভেম্বর ২৯ ২০১২
এমইউ/আরডিজি