 |
ঢাকা: বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর অভিমুখে মার্কিন সপ্তম নৌবহর পাঠানোর খবরে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
শনিবার এক বিবৃতির মাধ্যমে সিপিবির সভাপতি মনজুরুল আহসান খান ও সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সেই সঙ্গে তারা চট্টগ্রাম বন্দরে মার্কিন ঘাঁটি স্থাপনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এর বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তীব্র গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলারও আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে সিপিবি নেতারা বলেছেন, ‘বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সপ্তম নৌবহর চট্টগ্রাম বন্দর অভিমুখে রওয়ানা দেওয়ার খবরে আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি।’
এই কুখ্যাত সপ্তম নৌবহরই একাত্তরে এদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিজয়কে নসাৎ করার জন্য পাকিস্তান বাহিনীকে মদত দেওয়ার জন্য বঙ্গোপসাগরে পাঠানোর হয়েছিল। আবার তার আগমনের চেষ্টা দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ছাড়া অন্য কিছু বলে বিবেচিত হতে পারে না।
সিপিবি নেতারা বলেন, ‘ভারত মহাসাগরের দিয়াগো গার্সিয়া দ্বীপে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে। ইতিমধ্যে এই ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক শক্তি বাড়িয়েছে। তারপর চট্টগ্রামের বন্দরে মার্কিন ঘাঁটি স্থাপনের এই চেষ্টা আমাদের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করে তুলবে।’
‘আমাদের দেশের তেল-গ্যাস-কয়লাসহ প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর সাম্রাজ্যবাদী বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর লোলুপ দৃষ্টি রয়েছে। এগুলো তাদের দখলে নেওয়ার জন্য তারা নানাভাবে তৎপর রয়েছে।’
নেতারা বলেন, ‘আমাদের দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের কথাও দেশবাসীর জানা আছে। চট্টগ্রাম বন্দরে তাদের ঘাঁটি স্থাপনের মধ্য দিয়ে এই হস্তক্ষেপ আরও বাড়বে। আমাদের দেশের রাজনীতিতে অস্থিতিশীলতার উপাদানও বহুল পরিমাণে বেড়ে যাবে।’
‘বাংলাদেশকে হানা, সোফা, পিআইএসসিইএসসহ বিভিন্ন সামরিক চুক্তিতে বেঁধে ফেলা হয়েছে। আকফা, টিকফা ইত্যাদি চুক্তি করার জন্য মরিয়া চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এসব চুক্তির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হয়েছে।’
সিপিবি নেতারা আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতির কথা সে দেশের সামরিক কর্মকর্তার মুখ থেকেই জানা গেছে। এ পরিস্থিতিতে সপ্তম নৌবহরের উপস্থিতি তেল-গ্যাস-কয়লাসহ প্রাকৃতিক সম্পদের উপর শতভাগ রাষ্ট্রের মালিকানা প্রতিষ্ঠা ও রফতানি নিষিদ্ধ করার গণদাবি প্রতিষ্ঠা কঠিন হয়ে পড়বে।’
বামপন্থী, দেশপ্রেমিক, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তি, ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর প্রতি নৌবহরের উপস্থিতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তীব্র গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তারা।
বাংলাদেশ সময় ২১১৪ ঘণ্টা, জুন ০২, ২০১২
এসকে/সম্পাদনা: রানা রায়হান, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর