 |
ঢাকা: ক্রিকেটের মতো এবার ফুটবলও প্রযুক্তি ব্যবহারের পথেই হাঁটলো। জুরিখে ফিফার কার্যনির্বাহী কমিটি বৃহস্পতিবার মাঠে গোললাইন প্রযুক্তির প্রয়োগের বিষয়টি অনুমোদন করেছেন।
মাঠে একই সঙ্গে দুই পদ্ধতি (রেফারি ও প্রযুক্তি) ব্যবহার শুরু হবে ডিসেম্বর থেকেই। জাপানে অনুষ্ঠেয় সাত দলের ক্লাব বিশ্বকাপে মাঠে একই সঙ্গে দুই পদ্ধতির ব্যবহার প্রথম প্রত্যক্ষ করবে ফুটবলবিশ্ব। এছাড়া ২০১৩ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠেয় কনফেডারেশন কাপ এবং ২০১৪ সালের বিশ্বকাপেও একই পদ্ধতি প্রয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান ফিফার সাধারণ সম্পাদক জেরোমে ভালকে।
‘আমরা বিশ্বকাপে এমন পদ্ধতির বিষয়ে নিশ্চিত করতে চাই যা নির্ভুলতার বিষয়ে বতর্মানের ৯০% নয়, ১৫০ ভাগ কাজে দেবে।’ বলেন ফিফা সাধারণ সম্পাদক।
ভালকে জানান, ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (ইফাব)প্যানেলের নিরঙ্কুশ সমর্থন লাভের পর ফিফা জাপানে হক-আই ও গোলরেফ সিস্টেম উভয় পদ্ধতিই প্রয়োগ করবে।
গোললাইন প্রযুক্তির ব্যবহারে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তটি নেয় ফিফা ও চারটি বৃটিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত ইফাব প্যানেল। ফিফা সভাপতি সেপ ব্লাটারও ইফাব প্যানেলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। ইফাব প্যানেল প্রযুক্তির পদ্ধতি দুটির বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন, বল গোললাইন অতিক্রম করেছে কিনা সেটা দ্রুততা ও নির্ভুলতার সঙ্গে জানাতে সক্ষম হক-আই ও গোলরেফ পদ্ধতি দুটি। বৃটিশ ক্যামেরা-ভিত্তিক হক-আই এরই মধ্যে টেনিস ও ক্রিকেটে ব্যবহৃত হচ্ছে। অন্যদিকে গোলরেফ হচ্ছে ড্যানিস-জার্মান প্রজেক্টের। কোনো নির্দিষ্ট বলকে চুম্বকীয় সেন্সরের সাহায্যে অনুসরণ করে এই প্রযুক্তি।
বৃহস্পতিবারের এই সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আগের অবস্থান পরিবর্তন করেন ফিফা সভাপতি সেপ ব্ল্যাটার। ২০১০ সালের বিশ্বকাপে জার্মান ও ইংল্যান্ডের ম্যাচে রেফারির ভুল সিদ্ধান্তের পর মাঠে রেফারীর সিদ্ধান্তে প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়ার বিষয়ে ফুটবলাঙ্গনে বিভিন্ন পক্ষ থেকে দাবি উঠলেও সেটি আমলে নেয়নি ফিফা। ইংলিশ স্ট্রাইকার ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের একটি শট জার্মান গোললাইনের ভেতরে পড়লেও সেটি এড়িয়ে যান রেফারি। টিভি রিপ্লেতে দেখা যায় ওই বলটি স্পষ্টতই গোললাইন অতিক্রম করেছিলো। তবে সদ্য সমাপ্ত ইউরোতে ইউক্রেন ও ইংল্যান্ডের ম্যাচে রেফারির একই ধরনের ভুলের পর অবস্থান পরিবর্তনে বাধ্য হন ব্ল্যাটার। এবার অবশ্য রেফারির সিদ্ধান্ত ইংলিশদের পক্ষেই যায়। ইউক্রেনের মার্কো দেভিচের একটি গোল রেফারির চোখ এড়িয়ে যাওয়ায় বাতিল হয়ে যায়। বলটি গোললাইনের ভেতর থেকে ফিরিয়ে দেন ইংল্যান্ড ডিফেন্ডার জন টেরি।
ফিফার সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের পর বার্কলেইস প্রিমিয়ার লিগের আগামী মৌসুমে গোললাইন প্রযুক্তি ব্যবহারের আশা করা হচ্ছে। ব্যয়বহুল প্রযুক্তিটি স্থাপনের জন্য প্রতিটি স্টেডিয়ামে প্রায় আড়াই লাখ মার্কিন ডলার ব্যয় হবে।
বাংলাদেশ সময়: ১৪২৫ ঘণ্টা, জুলাই ০৬, ২০১২
এএইচবি/