 |
পাল্লেকেলে: মুশফিকুর রহিম প্রায়শ বলে থাকেন টি-টোয়েন্টিতে ছোট দল বড় দলে পার্থক্য থাকে না! সত্যিই যদি তা হবে তাহলে এই বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের কাছে হেরে যেতো ভারত। আয়ারল্যান্ডের কাছে হেরে যেতো অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে শীর্ষ আটে জায়গা করে নিতো জিম্বাবুয়ে।
আসলে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত কোন অঘটন ঘটেনি। ফেভারিটরাই জিতেছে। নিউজিল্যান্ডের কাছে পরাজয়ের পর বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিক হয়তো বিষয়টি নিয়ে আরেকবার ভাববেন। ফেভারিটদেরই জেতার সম্ভাবনা বেশি থাকে। ছোট দল বড় দলকে হারালে অঘটন হিসেবে ধরে নেওয়া হয়।
টি-টোয়েন্টিতে ৫৯ রানের পরাজয়কে অনেক বড় করে দেখা হয়। ২০ ওভারের খেলায় রানই বা হয় কত। তাতেও ৫৯ রানের পরাজয়! এই ফল বাংলাদেশ দলের কোচকে নিশ্চয়ই একটা বিষয় মনে করে দিয়েছে, বেসিক ক্রিকেট প্রদর্শন করতে পারলে যে কোন ফর্মেটে ভালো খেলা সম্ভব। নিউজিল্যান্ড তা প্রমাণ করে দিয়েছে। বিশ্বকাপের আগে তারা খুব বেশি টি-টোয়েন্টি খেলেনি। ওয়ানডে এবং টেস্ট ক্রিকেটও খেলেছে।
বাংলাদেশ দলের ক্ষেত্রে হয়েছে উল্টো, এশিয়া কাপের পর কোন আন্তর্জাতিক ওয়ানডে খেলেনি। টেস্ট ক্রিকেট থেকে দূরে আছে আরও বেশি দিন। কেবল টি-টোয়েন্টিই ছিলো তাদের ধ্যানজ্ঞান। কোচ রিচার্ড পাইবাস দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ২০ ওভারের ক্রিকেট শেখাচ্ছেন। বিশ্বকাপের আগে সব মিলে অন্তত ২০টি টি-টোয়েন্টি খেলেছে। এত বেশিসংখ্যক ২০ ওভারের ম্যাচ আর কোন দল খেলেছে বলে কারো জানা নেই।
তার অধীনে জিম্ববুয়েতে তিনজাতি টি-টোয়েন্টি সিরিজে খেলতে গিয়ে প্রথম দুটোতে হেরেছে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে এবং দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে। পরের দুটোতে অবশ্য জিতেছে। এরপর আয়ারল্যান্ডকে তিন ম্যাচের সিরিজে ধবলধোলাই দিলেও স্কটল্যান্ড এবং নেদারল্যান্ডসের মতো দলের কাছে হেরেছে। ত্রিনিদাদ এন্ড টোবাগোর চারজাতি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের প্রথম দুটো ম্যাচে জিতে শেষ ম্যাচে স্বাগতিক ত্রিনিদাদের কাছে হেরেছে। কলম্বোতে এসে জিম্বাবুয়ে এবং আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে দ্বিতীয়টিতে হেরে গেছে আইরিশদের কাছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে সর্বশেষ যে তিনটি ম্যাচ খেলেছে তার দুটিতে হেরেছে।
তারপরও কোচ এবং ক্রিকেটারদের বিশ্বাস ছিলো বিশ্বকাপ ম্যাচে তারা ভালো খেলবেন। প্রধান নির্বাচক আকরাম খানপর্যন্ত বলেছিলেন, তাদের দল এখন টি-টোয়েন্টিতে অভ্যস্ত হয়েছে। ১৬০ থেকে ১৭০ রান চেজ করতে পারে। জিততে শিখেছে। এমনকি তিনি গর্ব করেই বলেছিলেন তাদের দলের মতো অত ভালো প্রস্তুতি আর কোন দলের হয়নি।
বাংলাদেশ দল অনেক ম্যাচ খেলেছে এবং ভালো প্রস্তুতি হয়েছে ঠিক। কিন্তু তাতে যে গলদ ছিলো সেটা কারো চোখে পড়েনি। মুশফিকুর রহিমরা সেই দলের সঙ্গে খেলেছেন যাদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কোন মজবুত ভিত নেই। র্যাঙ্কিংয়ের তাদের পেছনে থাকা দলের সঙ্গে লড়াই করে জিতেছে এবং হেরেও গেছে। ছোট দলগুলোর কাছে হারের অভিজ্ঞতা থেকেই বোধহয় এতদিন মুশফিক বলে এসেছেন টি-টোয়েন্টিতে ছোটদল বড়দলে খুব একটা পার্থক্য নেই। নিউজিল্যান্ডের কাছে হারের পর বললেন, ‘গতকাল রাতে বসে ভাবছিলাম সবগুলো ছোট দল হেরে যাচ্ছে। আসলে বড় দলগুলো অনেক ভালো প্রস্তুতি নিয়েছে। ফলে পারফর্ম করছে এবং জিতছে।’
ক্যান্ডি সময়: ১৯২০ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২১, ২০১২
এসএ/সিজি