 |
১
মধুবনে বুনে দিচ্ছি ধুপ, রোদচশমার আড়ালে ধারালো চোখ। প্রতিটি বাঁকেই গভীর দৃশ্য। একটা নীল সাইকেল আর পথের মাটিতে সন্ধি। ক্রমশ নেমে এলে সন্ধ্যা কোনও এক অগভীর জলাশয়ে ফেলে আসা পথটুকুর স্মৃতি জিইয়ে রাখি। বাড়ি ফিরে এসে দেখি মায়ের উনুনে শাদা ভাতের ফেনা। বাবার হাতের ঠোঙ্গায় শুকনো সন্দেশ। বাবা গভীর কণ্ঠে কাছে ডেকে হাতে তুলে দিয়ে বলেন- ‘খাও’। আমার চোখ পড়ে থাকে মধুবনে, সেখানে বুনে এসেছি ঝাউগাছ। রোদচশমাসহ ভুলে ফেলে এসেছি চোখ। বাবার কাছে উবু হয়ে বসি। মা পাশে এসে বসে হাত রাখেন শরীরে। বলেন, ভাত খা। বাবা বলেন, ওপাশে বারান্দায় ঝুলে পড়েছে তোমার শৈশব, তুমি ঘুমাও। মা আঁচলে মুছে দিতে থাকেন ক্লান্তি।
তাঁদের বলতে সাহস করিনি, আমি আত্মহত্যা করে ঘরে ফিরেছি।
২
একটা নগর রাতে জড়িয়ে নিচ্ছে বৃষ্টি। ল্যাম্পপোস্ট পাখি হয়ে উড়ে আর পাখিটা স্থির বসে থাকে ল্যাম্পপোস্টে। বাতাস ঢেলে দিয়ে যায় ইকারুসের পাখার ঘূর্ণি আর নাদ। শহরটা ঘুমিয়ে পড়ার আগেই জেগে ওঠে বাঁশিওয়ালা। এটা হ্যামিলন নয়। বাঁশি বাজবে না তবুও বৃষ্টির জলে মানুষেরা ইঁদুরের মতো গুটিসুটি মেরে হাঁটে। বৃষ্টি গায়ে মেখে মেখে ল্যাম্পপোস্টটাকে পাখি হতে দেখে।
তাদের শরীর থেকে ধুয়ে যাচ্ছে দিনের সূর্যপোড়া ঘ্রাণ।
৩
স্বপ্নে হারিয়ে ফেলেছি মায়ের নাকফুল। দাদীর নাক থেকে যেটি উত্তরাধিকারে মায়ের নাকে শোভা পেয়েছিল। ছোট্ট বড়ইয়ের ফুল। শেষ বিকেলে সবুজ পথটা সোনা রঙে ভাসে। আমি সেই সোনা বড়ইয়ের ফুল খুঁজে খুঁজে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আনি।
নাকফুল। জ্বল জ্বল করে জ্বলে সন্ধ্যার আকাশে। আমি একটাও কুড়াতে জানি না।
৪
সে আমাকে খুব ডাকে, ডেকে ডেকে বলে- আমার নাম বলো। বলো দীর্ঘ ই। আমি কবেই ভুলে গেছি ভাষা। তাই চুপচাপ তার চোখ দেখি। তার চোখে দীর্ঘ অমাবশ্যা। তার কণ্ঠে নদীর গাঢ়ো মায়া স্রোত। একদিন নদীতে ভেসে গিয়েছিল একটা মরা হিরামন পাখি। সেই থেকে সুর ভুলে গেছি।
ভেতরে তার নাম জপে বোবা হয়ে থাকি।
বাংলাদেশ সময়: ১৬৫০ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১২
সম্পাদনা: তানিম কবির