৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২০, রবিবার মে ১৯, ২০১৩ ১০:৩০ এএম BDST banglanew24
29 Jul 2012   01:17:29 PM   Sunday BdST
E-mail this

`রাস্তাই যানজটের সৃষ্টি করেছে, তাই বন্ধ’


সেরাজুল ইসলাম সিরাজ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
`রাস্তাই যানজটের সৃষ্টি করেছে, তাই বন্ধ’
ছবি: মোশাররফ / বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ঢাকা: `এখানে গাড়ি দাঁড় করানোর চিন্তাই করিবেন না’ বাক্যটি ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের। এবার তারা রাস্তাকেই যানজটের জন্য দায়ী বলছে। আর এ কারণে রাজধানীর একটি রাস্তা(কাকরাইল রাজমনি সিনেমা হল মোড় থেকে রাজস্ব ভবন লিংক রোড) একেবারে বন্ধই করে দিয়েছেন তারা।

মাস খানেক ধরে রাস্তাটির দুই তৃতীয়াংশ বন্ধ করা ছিলো। একটি অংশ খুলে রাখা হয়েছিলো। যে অংশ দিয়ে একটি গাড়ি কষ্টে যেতে পারত।

এখন কাকরাইল(রাজমনি সিনেমা হল মোড়) থেকে কেউ যদি সেগুন বাগিচা, রাজস্ব ভবন,  শিল্পকলা একাডেমি অথবা দুদকে যেতে চান। তাদেরকে কয়েক কিলোমিটার ঘুরতে হচ্ছে। নাইটিংগেল মোড় হয়েও যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। সেখানে ডানে মোড় বন্ধ করা হয়েছে। তাই ৫০ মিটার এই রাস্তা পাড়ি দিতে হলে নয়াপল্টন, ফকিরেরপুল, দৈনিক বাংলা হয়ে প্রায় ৮ কিলোমিটার ঘুরতে হচ্ছে।

আবার সেগুন বাগিচা থেকে বের হয়ে কাকরাইল মোড় পার হতে চাইলে প্রায় ৪ কিলোমিটার বাড়তি পথ ঘুরে (মৎস্য ভবন. কাকরাইল মসজিদ, প্রধান বিচারপতির বাসভবন) আসতে হচ্ছে। সব চেয়ে কষ্টের বিষয় হচ্ছে এর অর্ধেক রয়েছে ভিআইপি সড়ক। যাতে রিক্সা চলাচল নিষেধ। সবমিলে নিম্ন আয়ের লোকদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

সুমন মিয়া নামের সেগুন বাগিচার এক বাসিন্দা জানান, কাকরাইল মসজিদ মোড় থেকে কাকরাইল মোড় পর্যন্ত ভিআইপি সড়ক। এখানে রিক্সা চলাচল নিষেধ। সিএনজি তো পাওয়া যায় না। রিক্সায় শান্তিনগর বা মৌচাক মালিবাগে যেতে হলে কয়েক কিলোমিটার ঘুরতে হচ্ছে। আগে শান্তিগর যেতে ১০ টাকায় যাওয়া যেতো। সেই শান্তিনগর যেতে এখন ৪০ টাকায় যেতে চাচ্ছে না রিক্সা চালকেরা।

যানজট নিরসনের জন্যই নাকি এ ফর্মুলা বলছিলেন ট্রাফিক দক্ষিণ জোনের ডিসি আলমগীর কবির। মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তারা ডিসির নির্দেশ তামিল করলেও একমত হতে পারছেন না।

তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলানিউজকে জানান, আমরা মোটেই এটাকে সমর্থন করি না। এতে যানজট বেড়েছে। মানুষের তোপের মুখে পড়তে হচ্ছে।

মানুষের গালাগাল শুনার ভয়ে একজন আনসার দিয়ে তারা দুরে সরে আছেন বলে জানান।

শনিবার রাত ৯ টায় কাকরাইলে কর্মরত ট্রাফিক কনস্টেবল আব্দুল কাদের বাংলানিউজকে জানান, আমি কিছু বলতে পারব না। ডিসি স্যারের নির্দেশে রাস্তা বন্ধ করা হয়েছে।

অনেকে এসে হয়রান হয়ে ঘুরে যাচ্ছে স্বীকার করে বলেন মানুষ খুবই গালাগালি করছে আমাদেরকে।
 
রাস্তাটিই যদি যানজটের কারণ হয়ে থাকে তাহলে প্রশ্ন উঠেছে কোটি কোটি টাকা খরচ করে কেন রাস্তাটি তৈরি করা হয়েছে। তারা যদি ভুল করেই তৈরি করে থাকেন তাহলে তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা যায় কিনা।

সাইফুল ইসলাম নামের সেগুন বাগিচার এক বাসিন্দা বাংলানিউজকে জানান,এতদিন যানজট নিরসনে রাস্তাকে ওয়ান ওয়ে করানো, এবং ইউটার্ন (উল্টা ঘুরা) বন্ধ করার সঙ্গে পরিচিত ছিলাম আমরা। যদিও ইউটার্ন বন্ধ করা নিয়েও রয়েছে বিস্তর প্রশ্ন।

অনেক রাস্তায় ইউটার্ন নিতে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত ঘুরতে হচ্ছে। এতে যানজট না কমে বেড়েছে বলে দাবি করেন সাইফুল ইসলাম।

তিনি বলেন এখন নাইটিংগেল মোড় থেকে পুরানা পল্টন যেতে হলে ৭ কিলোমিটার ঘুরতে হচ্ছে। এতে অনেক গাড়িকে অযথা বাড়তি রাস্তা ঘুরতে হচ্ছে। এতে করে অহেতুক রাস্তায় গাড়ি বেড়ে গিয়ে যানজট বাড়ছে।

তিনি বলেন আগে গুলশান লিংক রোড থেকে টার্ন নিয়ে রামপুরার দিকে যাওয়া যেতো। অনেক দিন ধরে সেই টার্নটি বন্ধ করে দিয়ে শাহাজাদপুর গিয়ে টার্ন নিতে হচ্ছে। এতে কি যানজট কমেছে। বরং বেড়েছে। এমনি ভাবে প্রেস ক্লাবের সামনের ইউটার্ন বন্ধ করে পুরানা পল্টনে যানজট বাড়ানো হয়েছে।

নাইটিংগেল মোড় থেকে পুরানা পল্টন যাওয়ার রাস্তায় বেশ কয়েকটি ইউটার্ন ছিলো। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নিউ ইস্কাটন রোডে অনেক গুলো ইউটার্ন আটকে দেওয়া হয়েছে। কারওয়ান বাজার থেকে গ্রীন রোর্ডের সিগন্যাল পর্যন্ত সবগুলো ইউটার্ন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে কি যানজট কমেছে। কমে নাই।

এ রকম হাজারো নজির দেখানো যাবে। কিন্তু পুলিশের বোধদয় হয় না। তারা নানা সময়ে নানা ফর্মুলা নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন।

এ সব পাগলামি বন্ধ করে পুলিশ যদি ফুটপাত থেকে চাঁদাবাজি বন্ধ করে ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে রাস্তাগুলো খুলে দেয় ৫০ ভাগ যানজট কমে যাবে বলে তার দাবি।

সেগুন বাগিচার এক বাসিন্দা দাবি করেছেন, যানজট নিরসনে নতুন রাস্তা তৈরি করার কথা বিভিন্ন সময়ে শুনে এবং দেখে এসেছি। কিন্তু মহানগর পুলিশ যা করেছে এটাকে পাগলামি ছাড়া আর কিছু বলা যায় না।

শনিবার রাতে গিয়ে দেখা গেছে, অনেক রিক্সাচালক যাত্রী নামিয়ে দিয়ে ফুটপাত দিয়ে পার হচ্ছে। আর পুলিশের প্রতি খারাপ ভাষা ব্যবহার করছে।

তবে এক শ্রেণীর লোকের সুবিধা হয়েছে রাস্তাটি বন্ধ করে দেওয়ায়। আর তারা হলেন এই লিংক রোডের দুই পার্র ভবনের অফিস ওয়ালারা। তারা রাস্তার উপর গাড়ি পার্কিং করতে পারছেন। শনিবার রাতেও দেখা গেছে সারি সারি গাড়ির বহর।

ট্রাফিক পুলিশের ডিসি আলমগীর কবির বাংলানিউজকে জানান, পাইলট প্রকল্পের আওতায় রাস্তাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমরা ফলো করতেছি, যদি সফল হয় এটাকে স্থায়ী করা হবে।

উন্নত দেশগুলোতে এ রকম পদ্ধতি চালু আছে আর এতে অনেক সুবিধা পাওয়া যায় বলে দাবি করেন তিনি।

এই রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় বাড়তি রাস্তা ঘুরতে হচ্ছে। অনেকাংশে থাকা ভিআইপি সড়কে আবার রিক্সা চলাচল নিষিদ্ধ। এতে করে যাত্রীরা চরম হয়রানির শিকার হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে ডিসি দক্ষিণ বলেন, এ প্রশ্নের উত্তর আমি দিকে পারবো না। এর উত্তর আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দিতে পারবেন। আমি কর্তৃপক্ষের আদেশ বাস্তবায়ন করি মাত্র।

ঢাকা শহরে বেশিরভাগ ইউটার্ন বন্ধ করে দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বন্ধ করায় আমরা সুফল পাচ্ছি। যানজট অনেকটা কমে গেছে।  

বাংলাদেশ সময়: ১৩১৩ ঘণ্টা, জুলাই ২৯, ২০১২
সম্পাদনা: নূরনবী সিদ্দিক সুইন, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Bookmark and Share
REVE Systems
VISA Center Inc
Holy Hajj BD
RehabHousing.com

জাতীয়

8877
Kaspersky Lab - Antivirus Software [ Bangladesh ]
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম | এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১, ৮৪০২১৮২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ নিউজ রুম সেল: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, editor.banglanews@gmail.com, editor@banglanews24.com    বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম    এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

বাংলায় লেখা হলে ইউনিকোডে পরিবর্তন করে ইমেইল করুন    কপিরাইট © 2013 সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত    একটি ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড প্রতিষ্ঠান