 |
ঢাকা: সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে নিরস্ত্র বাংলাদেশিদের হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।
সোমবার মানবাধিকার সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামালের পাঠানো বিবৃতিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “সীমান্তে নিরস্ত্র বাংলাদেশিদের হত্যাকাণ্ড শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে ‘সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ’ নেওয়ার আশ্বাসের পরও বিএসএফের গুলি বর্ষণ আর নির্যাতন বন্ধ না হয়ে তা অতীতের মতো অব্যাহত থাকায় আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।” সম্প্রতি বিএসএফের মহাপরিচালক পর্যায় থেকে সীমান্তে হত্যা বন্ধে আশ্বাস দেওয়া হয়।
গত ২৬-২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত দুই দেশের সীমান্তরক্ষীদের নিয়ে চারদিনের এই সম্মেলনে নিরস্ত্র বাংলাদেশিদের হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষে বিজিবির মহাপরিচালক আনুষ্ঠানিকভাবে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এ বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে নিয়ে সম্মেলনে বিএসএফের মহাপরিচালক ইউকে বনশল সীমান্তে হত্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে সম্ভাব্য সব ধরনের প্রতিশ্রুতি দেন।
আসকি উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায়, বিএসএফের মহাপরিচালকের এমন সব প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও মহাপরিচালক পর্যায়ের আনুষ্ঠানিক বৈঠকের শেষ হওয়ার পরদিন (৩০ সেপ্টেম্বর) চাপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফের বর্বর নির্যাতনে হান্নান (৩০) নামে এক বাংলাদেশি নিহত হন। ২ অক্টোবর বিএসএফের গুলিতে মাসুদপুর সীমান্তে এনামুল হক (২৫) এক বাংলাদেশি নিহত এবং আরো চারজন আহত হন। অন্যদিকে লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুরের কিসামত নিমজ্জা সীমান্ত থেকে জুয়েল হোসেন (৩০) নামক এক বাংলাদেশিকে বিএসএফের একটি দল ২৪ সেপ্টেম্বর আটক করলেও আজ অব্দি তাকে ফেরত দেয়নি। সর্বশেষ গত ৭ অক্টোবর চাপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের চকপাড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে সেতাবুল ইসলাম, আবু সায়েম ও সাইদুর রহমান নামক তিন বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ হন।”
আসক আরো জানায়, গত ৭ জানুয়ারি, ২০১১ কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ির অনন্তপুর সীমান্তে বিএসএফ সদস্যদের গুলিতে ১৫ বছরের কিশোরী ফেলানীর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সদস্যদের ২১ মাস পরেও ভারতীয় কর্তৃপক্ষ সনাক্ত করতে পারেনি বলে ভারতীয় মহাপরিচালক পর্যায় থেকে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে বিএসএফ মহাপরিচালক এ ব্যাপারে আদালতে তদন্ত চলছে বলে জানান এবং ‘শিগগিরই’ চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।”
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৩০ জুলাই ভারতীয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরম ঢাকা সফরকালে সীমান্তে নিরীহ ব্যক্তির ওপর আর গুলি চালানো হবে না বলে আশ্বাস দেন। ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের মতো শীর্ষ কর্তাব্যক্তিদের এমন সব প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বন্ধ হচ্ছে না। বরং সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিরীহ মানুষকে হত্যার সঙ্গে সঙ্গে তাদের ওপর নির্মম নির্যাতনের সংখ্যা বিগত সময়ের তুলনায় বেড়েই যাচ্ছে এবং এর পরিসংখ্যানও বেশ উদ্বেগজনক বলে জানায় আসক।
“২০১২ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিএসএফের গুলিতে ও নির্যাতনে ১৯ জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ৫৬ জন এবং অপহরণের শিকার হয়েছেন ৫৩ জন।”
আসক আশা প্রকাশ করে, “ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নাগরিকদের মৃত্যু নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর বিএসএফের ট্রিগারের শিকার হচ্ছেন কিংবা নির্মম নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন যে বাংলাদেশি নাগরিকরা তারা সবসময় নিরস্ত্র অবস্থায় ছিল। আমরা বিএসএফ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষার ব্যাপারে দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করি। আমরা আশা করি, বাংলাদেশ সরকার সীমান্তে নিরন্তর এই হত্যাকাণ্ড বন্ধে আরও কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করবে।”
উল্লেখ্য, সোমবার রাজশাহীর পবা উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের চর মাজারদিয়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে সুজন (১৬) নামে বাংলাদেশি এক কিশোর নিহত হয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ১৬৪০ ঘণ্টা, অক্টোবর ০৮, ২০১২
সম্পাদনা: রানা রায়হান, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর