 |
| জাকাতের কাপড় দিচ্ছেন বসুন্ধরা গ্রুপের প্রধান উপদেষ্টা (হিসাব ও অর্থ)ময়নাল হোসেন চৌধুরী |
বাঞ্ছারামপুর: ঈদের আগে জাকাতের কাপড় পেয়ে আনন্দিত বাঞ্ছারামপুরের দুঃস্থরা। লুঙ্গি হাতে পেয়ে তাই ৭০ বছরের বৃদ্ধ হতদরিদ্র বাচ্চু মিয়া বললেন, ‘‘আমার ঈদ অহনই শুরু হইয়্যা গেছে গা।’’ আর ‘‘শাড়িডা পাইয়া ঈদের খুশির চাইতে বেশি খুশি হইছিরে...’’ বলে অতিরিক্ত আনন্দে কেঁদেই ফেললেন দুঃস্থ নারী সুফিয়া বেগম।
বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ১২৩ গ্রামের ২৫ হাজার হতদরিদ্র, দুঃস্থ, অসহায় ও এতিম নারী-পুরুষের মাঝে জাকাতের এ কাপড় বিতরণ করা হয় দেশের সর্ববৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আলহাজ আহমেদ আকবর সোবহানের পক্ষ থেকে।
শুক্রবার দ্বিতীয় দিনের মতো জাকাতের কাপড় বিতরণ করা হলে শাড়ি-লুঙ্গি পাওয়া মমতাজ-বাচ্চুদের মতো হাজারো মানুষের ঈদের আগেই ঈদের খুশি চোখে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার প্রতি বছরের মতো বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের পৈত্রিক বাড়ি দূর্গারামপুর থেকে দু’দিনব্যাপী জাকাতের কাপড় বিতরণ শুরু হয়। শুক্রবার শেষ দিনে সকাল ৭টায় উপজেলার সোনারামপুর গ্রাম শুরু করা হয় এ কাপড় বিতরণ কার্যক্রম। চলে বিকেল পর্যন্ত।
বসুন্ধরা চেয়ারম্যানের পক্ষে কাপড় বিতরণ করেন বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের প্রধান সমন্বয়ক ও বসুন্ধরা গ্রুপের প্রধান উপদেষ্টা (অর্থ ও হিসাব) ময়নাল হোসেন চৌধুরী।
১৯৮৯ সাল থেকে প্রতি বছরই রমজানের ঈদকে সামনে রেখে জাকাতের কাপড় বিতরণ করে আসছে বসুন্ধরা গ্রুপ। এ বছর ১৩টি ইউনিয়নের মোট ১২৩টি গ্রামের ২৫ হাজারের বেশি দুঃস্থ নারী, হতদরিদ্র, অসহায় ও এতিম মানুষের মাঝে কাপড় বিতরণ করা হয়। এ লক্ষ্যে বুধবার তাদের মাঝে ২৫ হাজার টোকেন বিতরণ করা হয়।
বৃহস্পতিবার কাপড় পান ৬৩টি গ্রামের ১৩ হাজার মানুষ। শুক্রবার দিনভর আরো ৬০টির মতো গ্রামের প্রায় ১২ হাজারের অধিক কাপড় বিতরণের মাধ্যমে এ বছরের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। বলে জানা গেছে।
শুক্রবার প্রথমেই কাপড় বিতরণ করা হয় সোনারামপুর গ্রামে। এরপর বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যানের নানা বাড়ি উপজেলার পাহাড়িয়াকান্দি, হিজলাকান্দি, তাতুয়াকান্দি ইত্যাদি গ্রামে নারীদের জন্য শাড়ি-কাপড় ও পুরুষদের জন্য লুঙ্গি বিতরণ করেন বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের প্রধান সমন্ধয়ক ও বসুন্ধরা গ্রুপের প্রধান উপদেষ্টা (অর্থ ও হিসাব) ময়নাল হোসেন চৌধুরী।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কাপড় বিতরণে অংশ নেন পাহাড়িয়াকান্দি ইউপির চেয়ারম্যান আ. গণি তালুকদার (গণি চেয়ারম্যান), বসুন্ধরা গ্রুপের উপ-মহাব্যবস্থাপক মাইমুন কবীর, আনোয়ার হোসেন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সফিকুল ইসলাম।
বসুন্ধরা গ্রুপের শতাধিক সদস্যসহ এলাকার যুবকরা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যাকাতের কাপড় বিতরণে সহায়তা করেন।
বাঞ্ছারামপুর উপজেলার শেষ প্রান্ত দুলারামপুর গ্রাম। হতদরিদ্র বাচ্চু মিয়া (৭০) লাঠিতে ভর করে একটি লুঙ্গি নিতে সকাল থেকে অপেক্ষা করছিলেন। ময়নাল হোসেন চৌধুরী সিরিয়াল ভেঙে নিজে এগিয়ে যান অসুস্থ ও অতিশয় বৃদ্ধ বাচ্চু মিয়াকে লুঙ্গি দিতে। লুঙ্গি পেয়ে তিনি বলেন, ‘‘আমার ঈদ অহনই শুরু হইয়্যা গেছে গা, একটা লুঙ্গি না হইলে কি ঈদ হয়?’’
ছেলের বৌ মোমেনাকে নিয়ে লাঠিতে ভর করে প্রখর রোদ উপেক্ষা করে অপেক্ষা করছিলেন সুফিয়া বেগমও। তিনি এসেছেন ১২ কিলোমিটার দূরের শান্তিনগর থেকে। ভোরে নৌকাযোগে আসেন পাহাড়িয়াকান্দির কাপড় বিতরণের নির্দিষ্ট স্থানে।
বসুন্ধরা গ্রুপের প্রধান উপদেষ্টা (অর্থ ও হিসাব) ময়নাল হোসেন চৌধুরীর কাছ থেকে যখন শাড়ি হাতে পান তখন খুশিতে সুফিয়া বেগমের দন্তবিহীন বা ফোঁকলা দাঁতে হাসি আর চোখে পানি এসে পড়ে। তিনি বলেন, ‘‘গত এক বছর ধরে ২টি শাড়ি লইয়া চলতাছি। ঈদে সোবহান সাবের শাড়িডা পাইয়া ঈদের খুশির চাইতে বেশি খুশি হইছিরে...।’’ এ পর্যন্ত বলেই অতিরিক্ত আনন্দে কাঁদতে শুরু করেন তিনি। সুফিয়া বেগম আরো বলেন, ‘‘আল্লাহ সোবহান বেডারে অনেক দিন বাঁচাইয়া রাখুক।’’
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার প্রথম দিনে বাঞ্ছারামপুরের দুর্গারামপুর গ্রাম থেকে শুরু করে জাকাতের কাপড় বিতরণ করা হয় পাড়াতলী, সলিমাবাদ, উজানচর, মানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদসহ বিভিন্ন স্থানে। এদিন কাপড় পান ৬৩ গ্রামের ১৩ হাজার দুঃস্থ-অসহায় মানুষ।
প্রথম দিনও বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যানের পক্ষে জাকাতের কাপড় বিতরণ করেন প্রধান উপদেষ্টা (অর্থ ও হিসাব) ময়নাল হোসেন চৌধুরী।
আরো উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা গ্রুপের অ্যাসিসট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার মাইমুন কবির, বাঞ্ছারামপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হযরত আলীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
বাংলাদেশ সময়: ১৬৩৭ ঘণ্টা, আগস্ট ১৭, ২০১২
সম্পাদনা: অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর