 |
| ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
পাবনা: পাবনার ঈশ্বরদীর পদ্মা নদীতে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নে পদ্মা নদীর তীরবর্তী আড়ামবাড়িয়া গ্রামের শত শত মানুষ বর্তমানে ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন।
পাশাপাশি সাঁড়া, কোমরপুর, আড়ামবাড়িয়া, শেখেরচক, গোপালপুর, মাঝদিয়া, ঝাউদিয়াসহ নদীর বাম তীরে অবস্থিত ১০টি গ্রাম বর্তমানে হুমকির মধ্যে রয়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
মঙ্গলবার সরেজমিনে ভাঙন কবলিত এলাকায় গেলে এলাকাবাসী জানান, সাঁড়া ইউনিয়নের কোমরপুর থেকে সাঁড়া ঝাঁউদিয়া গ্রাম পর্যন্ত দীর্ঘ ৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পদ্মা নদীর বাম তীরে ভাঙন শুরু হয়েছে। এসব এলাকার মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে আড়ামবাড়িয়া গ্রাম।
গতবছর ওই ইউনিয়নের পালপাড়াসহ অন্তত ১০টি গ্রামের কয়েকশ বাড়িঘর, গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেলেও এখনও নদীর বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়নি। ফলে এ বছর ভাঙনের তীব্রতা আরও বেশি বলে বাংলানিউজকে জানিয়েছেন সাঁড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জার্জিস হোসেন।
তিনি আরও জানান, গতবছরের বিভীষিকাময় ভাঙনের অভিজ্ঞতায় এবারও সাঁড়া ইউনিয়নের আড়ামবাড়িয়া গ্রামের মানুষে চোখেমুখে সবসময় নদী ভাঙনে ঘরবাড়ি হারানোর আতঙ্ক বিরাজ করছে।
গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা প্রভাষক আলমাস আলী বাংলানিউজকে জানান, গত এক দশকে এই এলাকায় নদী ভাঙনের ফলে সাঁড়া ইউনিয়নের অন্তত ২০টি গ্রামের কাঁচা-পাকা বসতবাড়ি, স্কুল, মসজিদ-মন্দির, ব্রিজ, কালভার্ট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বরফকল, ফসলি জমিসহ প্রায় ৫০০ একর জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে নদীর তীরবর্তী এলাকায় বসবাসকারী ৩০০ পরিবার ঘর-বাড়ি হারিয়ে বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সাইদুর রহমান বাংলানিউজকে জানান, পদ্মা নদীর বাম তীর ঘেঁষে আড়ামবাড়িয়া গ্রামে শতবছর ধরে রয়েছে পাল সম্প্রদায়ের বসবাস। গত বছর ভয়াবহ নদী ভাঙনে সেই পালপাড়া নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এ বছর ভাঙনের কারণে অনেকে অন্যত্র আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, পদ্মা নদী ভাঙতে ভাঙতে বর্তমানে আড়ামবাড়িয়া বাজারের কাছাকাছি চলে এসেছে। নদীর মাত্র ২০ গজ দূরে আড়ামবাড়িয়া উচ্চ ও প্রাথমিক বিদ্যালয়।
ঈশ্বরদী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান বশির আহমেদ বকুল বাংলানিউজকে জানান, ঈশ্বরদীর পদ্মা নদী ভাঙন রোধ করতে সরকার যথেষ্ট আন্তরিক। ইতোমধ্যে নদীতে বাঁধ দেওয়ার জন্য একটি প্রকল্প একনেকের সভায় পাস হয়েছে বলে জানান তিনি।
পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শরীফ বাংলানিউজকে জানান, ঈশ্বরদীর পদ্মা নদীর ভাঙন রোধে যে বাঁধ নির্মাণ করার উদ্যোগ সরকার নিয়েছে, তার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। অর্থ বরাদ্দ হলেই এই নদীর বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে বলে জানান তিনি।
পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের(পাউবো) অতিরিক্ত উপ-পরিচালক আব্দুল মাবুদ শেখ বাংলানিউজকে জানান, নদীর স্থায়ী ভাঙন রোধে ২৫৬ কোটি টাকা প্রয়োজন। এ সংক্রান্ত একটি ডিপিপি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে দাখিল করা হয়েছে। সেটি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। একনেকে অনুমোদনের পর অর্থ বরাদ্দ পেলে কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশ সময়: ২১৩৩ ঘণ্টা, জুলাই ২৪ , ২০১২
সম্পাদনা: শামীম হোসেন ও রোকনুল ইসলাম কাফী, নিউজরুম এডিটর