 |
| ছবি : উজ্জ্বল ধর / বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
চট্টগ্রাম: সকাল সাড়ে ৮টা। নগরীর কোতয়ালী থানার রিয়াজউদ্দিন বাজারের (কাঁচাবাজার) প্রবেশপথ তিন পুলের মাথা এলাকায় অন্যান্য দিনের চেয়ে কম হলেও শুরু হয়েছে ব্যস্ততা, ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাক। ঢিমেতালে বের হচ্ছিল কিছু ট্রাক, আসা-যাওয়ার পথে ছিল কিছু রিক্সা, টেম্পু, অটোরিক্সাও।
সেখানে অবস্থান করে দেখা গেছে, হঠাৎ করে গোলাম রসুল মার্কেটের ভেতর ও আশপাশ থেকে আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ বছর বয়সী ৭-৮ জন ছেলে `নারায়ে তকবির আল্লাহু আকবর` বলে শ্লোগান দিতে দিতে বের হয়ে আসল। রাস্তায় এসেই তারা আগে থেকে জ্বালানী তেল দিয়ে ভিজিয়ে প্রস্তুত রাখা টায়ারে আগুন লাগিয়ে দিল।
এরপর কাঁবাজারের আড়ত থেকে রাস্তায় বের হওয়ার পথে থাকা দু`টি ট্রাকে (ঢাকামেট্রো-ট-১৬-৪৭৯৫ ও চট্টমেট্রো-ট-১১-২৭৫১) নির্বিচারে ভাংচুর চালায় ওই ছেলেরা। চার থেকে পাঁচ মিনিটের মধ্যে এ তান্ডব শেষ করে ছেলেগুলো আবারও ঢুকে পড়ে কাঁচাবাজারের ভেতর কিংবা আশপাশের অলিগলিতে।
এর কিছুক্ষণ পর ভাংচুর করা একটি ট্রাকের হেল্পার এমদাদুল গাড়ির সামনে আসেন। ভাঙ্গা ট্রাকের সামনের অংশ দেখে কান্নাজড়িত কণ্ঠে এমদাদুল ফোন দেয় পালিয়ে যাওয়া চালককে, `ওস্তাদ, গাড়ি ভাইঙ্গ্যা দ্যাছে। এহন কি করুম ?`
এমদাদুল বাংলানিউজকে জানান, রংপুর থেকে আলু নিয়ে সোমবার রাতে তারা চট্টগ্রামে আসেন। আলুগুলো আড়তে ফেলে সীতাকুন্ডের মাদামবিবিরহাটে ডিপোতে ফেরত যাওয়ার জন্য ট্রাকটি বের করা হচ্ছিল।
জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের ছোঁড়া ইটের টুকরার আঘাতে এমদাদুল পেটে এবং চালক ইব্রাহিম মাথায় আঘাত পেয়েছেন বলে তিনি জানালেন।
ঘটনার সময় দেখা গেছে, হরতালকারী জামায়াত-শিবিরের পিকেটাররা যখন এ তান্ডব চালাচ্ছিল তখন তিনপুলের মাথা থেকে আনুমানিক তিন`শ গজ দূরত্বে এনায়েতবাজার মসজিদের সামনে বসে একদল পুলিশ সদস্য খোশগল্প করছিলেন। অন্যদিকে আনুমানিক এক`শ গজ দূরত্বে আমতল মোড়ে আরেক দল পুলিশ দায়িত্বরত ছিল। শুধু পুলিশ ছিলনা তিন পুলের মাথায়।
জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা যখন এ হামলা-ভাংচুর চালাচ্ছিল তখন ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে তিন পুলের মাথায় সব দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। আতংকে লোকজন ছুটোছুটি শুরু করেন। এরপরও হরতালকারীদের তান্ডবের এসব খবর পৌঁছায়নি কয়েক`শ গজ দূরত্বে বসে থাকা পুলিশ সদস্যদের কাছে।
ঘটনার প্রায় ১৫ মিনিট পর একদল টহল পুলিশ ঘটনাস্থলে আসেন। এসেই আমিনুল নামে এক কনস্টেবল হাঁক ছাড়েন, `অমানুষের বাচ্চারা, কেউ কি টায়ারে একটু পানি দিয়া আগুন নেভাইতে পারনাই ? সবাই মিইল্যা কি হেগো ধইরা গণপিটুনি দিতে পারনাই ?`
শুনেই ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন তিন পুলের মাথার একটি মিষ্টি দোকানের এক কারিগর। প্রতিবাদ করে বলেন, `আপনারা কোথায় ছিলেন ? এখানে কারা জামায়াত করে সেটা কি আপনারা জানেন না ? আওয়ামী লীগ জানে না ? আমরা তাদের ধরি আর পরে মাইর খাই আর কি।` এসময় উপস্থিত অনেকে চিৎকার করে তার কথাকে সমর্থন জানান।
দূর থেকে দাঁড়িয়ে কনস্টেবল আমিনুলসহ পুলিশ সদস্যরা প্রতিবাদের ভাষা শুনে নিশ্চুপ হয়ে যান।
বাংলাদেশ সময়: ১০০০, ফেব্রুয়ারি ০৫,২০১৩
আরডিজি/টিসি