 |
২৬ জুন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কবি চন্দ্র কুমার দে স্মরণে নেত্রকোনায় এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন অধ্যাপক যতীন সরকার।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কেন্দুয়া উপজেলার লোক ঐতিহ্য সংগ্রাহক সাংবাদিক সন্তোষ সরকার। সন্তোষ সরকার বলেন, চন্দ্র কুমার দে শুধু কবিই ছিলেন না। তিনি একাধারে গল্প, উপন্যাস ও প্রবন্ধ লিখেছেন। তবে তার বিস্তৃত পরিচয় ফুটে উঠেছিল লোক-ঐতিহ্য সংগ্রাহক হিসেবে। মৈমনসিংহ গীতিকার মূল সংগ্রাহকই তিনি।
প্রধান আলোচকের আলোচনায় প্রাবন্ধিক অধ্যাপক যতীন সরকার বলেন, চন্দ্র কুমার দে’র জীবন ছিল কণ্টকাকীর্ন। প্রতিকূল অবস্থার মাঝেই গ্রামে গ্রামে বেরিয়ে পালা ও লোক সাহিত্য সংগ্রহ করে বাংলা সাহিত্যের ভাণ্ডার পূর্ণ করেন। তার এ পালা ও গীতিসংগ্রহই আজ বাংলাদেশের সম্পদ। বাংলা একাডেমীর সম্পদ, ময়মনসিংহের সম্পদ, কেন্দুয়ার সম্পদ, নেত্রকোনার সম্পদ। নতুন প্রজন্মকে তাকে জানতে দেয়া উচিত।
তিনি আরও বলেন চন্দ্র কুমার দে’র সংগৃহীত ও রচিত চন্দ্রাবতী, মহুয়া মলুয়া কঙ্কাবতী এসব পালাগানের ভাষা ও কাহিনী বাংলাদেশের আর কোথাও নাই। তার মর্যাদায় বাংলা একাডেমী যে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে সত্যিই প্রশংসনীয়।
জেলা প্রশাসক আনিস মাহমুদের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মাঝে বাংলা একাডেমীর লোক গবেষক শাহিদা খাতুন, লোক গবেষক মুক্তিযোদ্ধা গোলাম এরশাদুর রহমান, নেত্রকোনা সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ বিধান মিত্র প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
উল্লেখ্য কবি চন্দ্র কুমার দে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার আইথর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৬ সালে অল্প বয়সে তার মৃত্যু ঘটে।
বাংলাদেশ সময় ১৬০৯, জুন ২৭, ২০১২
সম্পাদনা : ফেরদৌস মাহমুদ, শিল্প-সাহিত্য সম্পাদক