 |
সিলেট: টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে সিলেট অঞ্চলের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সুরমা কুশিয়ারাসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।
জেলার জৈন্তাপুর গোয়াইঘাট, কানাইঘাট, জকিগঞ্জ. বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ভেঙ্গে পড়েছে এসব এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা। বেকার হয়ে পড়েছেন জৈন্তাপুর, গোয়াইঘাট ও ভোলাগঞ্জের লক্ষাধিক পাথর ও বালুশ্রমিক।
বর্ষার শুরুতে পাহাড়ি ঢল ও অবিরাম বর্ষণে কানাইঘাটে সুরমা ও জকিগঞ্জে কুশিয়ার নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেট অফিস সূত্র জানায়, কানাইঘাটে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ০.৩৮ সে. মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জকিগঞ্জের আমলসীদে কুশিয়ারার পানি ০.৩৮ সে. মি. ও শেওলায় ০.৪৭ সে. মি. এবং সিলেটে সুরমা নদীর পানি ০.৩২ সে. মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও কয়েকদিনের অবিরাম বৃষ্টিতে জৈন্তাপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। অনেক এলাকার গ্রামীণ রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে। উপজেলার সারী, রাংপানি, বড়গাং, নয়াগাং নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার পাথর ও বালু উত্তোলন কাজ বন্ধ রয়েছে। উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের মধ্যে জৈন্তাপুর, দরবস্ত ফতেপুর ও চিকনাগুল ইউনিয়নের বেশিরভাগ নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে।
জৈন্তাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন জানান, এ ইউনিয়নের ডুলটিরপার, কেন্দ্রী হাওর, বাউরভাগ, সেওলারটুক, বাওন হাওর, বিরাইমারসহ আরো কয়েকটি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। দরবস্ত ইউনিয়নের সেনগ্রাম,গর্দ্দনা, কাঞ্জর এলাকার অনেকের ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে।
চিকনাগুল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এ বি এম জাকারিয়া জানান, কাপনাকান্দি, খাটুয়াকান্দি গ্রামের অনেক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল মালিক মানিক জানিয়েছেন এ ইউনিয়নের খিলারতল, ডিবির হাওর, হর্নি, বাইরাখেলসহ আরো কয়েকটি গ্রামে বন্যার পানি প্রবেশ করায় গ্রামীণ রাস্তাঘাট এখন জনসাধারণের চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
তিনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পানিবন্দি মানুষের জন্য সরকারি ত্রাণ সহায়তা দেওয়ার অনুরোধ জানান।
সিলেটের গোলাপগঞ্জে প্রবল বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি অস্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। দু’নদীর পার বন্যার পানিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেছে এবং পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে দু’নদীর বিভিন্ন স্থানে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। অনেক স্থানে নদীর বাঁধ হুমকির মুখে রয়েছে।
বিয়ানীবাজারের উপজেলার নিম্নাঞ্চল এখনো প্লাবিত রয়েছে। উপজেলায় এখনো কয়েকহাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার লোকজনের বসত ভিটায় পানি উঠায় মানবেতর দিন কাটছে এসব বানবাসী মানুষের।
বন্যা কবলিত এলাকায় ত্রান তৎপরতার বৃদ্ধি এবং বিয়ানীবাজার উপজেলার দুর্গত এলাকা ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।
বিয়নীবাজারের ৩টি নদী সুরমা, কুশিয়ারা ও সুনাই নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বন্যার পানিতে বিয়ানীনবাজার-সিলেট সড়কের অনেক জায়গায় হাটু পানি থাকায় যান চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে।
উপজেলার তিলপাড়া, মাটিজুরা, পিররচক, দাসউরা, গাংকুল, শানেশ্বর, রজব, কুড়ারবাজার, বৈরাগীবাজার, খশির, আকাখাজনা, গধারবাজার, আঙ্গুরা মোহাম্মদপুর, লাউঝারি, মাথিউরা, বেজগ্রাম, কান্দ্রিগ্রাম, নালবহর, দুধবকশি, শেওলা, দুবাগ, চারখাই, আলীনগর, মোলাপুর ও লাউতা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।
বাংলাদেশ সময়: ১১৫২ ঘণ্টা, জুন ১৭, ২০১২
এসএ/সম্পাদনা: বেনু সূত্রধর, নিউজরুম এডিটর; নূরনবী সিদ্দিক সুইন, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর