রাজশাহী: আজ ২৫ নভেম্বর। একাত্তরের এই দিনে পাকিস্তানি সৈন্য ও তাদের দোসররা রাজশাহীর পদ্মা নদীর তীরে চালিয়েছিল বর্বর গণহত্যা।
একাত্তরের ২৫ নভেম্বর রাতে পাকিস্তানি সৈন্যরা তাদের এ দেশীয় দোসর রাজাকার-আলবদরদের সঙ্গে নিয়ে মুক্তিকামী শিক্ষক, আইনজীবী, বুদ্ধিজীবী, ব্যবসায়ী সংগঠক, সমাজসেবীসহ অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিকে হত্যা করে।
এর আগে চোখ-হাত বেঁধে তাদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় পাকিস্তানি বাহিনী।
বর্তমান রাজশাহীর শহীদ এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যানের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে টি-বাঁধ সংলগ্ন শ্রীরামপুর পদ্মা নদীর তীরে প্রথমে তাদের ওপর চালানো হয় লোমহর্ষক নির্যাতন। এরপর তাদের একসঙ্গে হাত-পা ও চোখ বেঁধে জীবন্ত অবস্থায় বালুর নিচে পুঁতে দেওয়া হয়।
সেইদিন যাদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয় তাদের মধ্যে ছিলেন- অধ্যাপক মীর আবদুল কাইউম, আজিজুল হক চৌধুরী, মকবুল চৌধুরী, আলতাফ হোসেন, তসলিম উদ্দিন, আবুল হোসেন, চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন, তৈয়ব আলী, নওরোজদৌল্লাহ খান, শহীদ মীর্জা সুলতান, শহীদ আমিনুল হক চৌধুরী। বাকি আরও ছয় জনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। পরে তাদের লাশ পাওয়া যায়।
১৯৯৫ সালের ২৫ নভেম্বর রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যানের দক্ষিণে টি-বাঁধ সংলগ্নস্থানে এই শহীদদের স্মরণে একটি স্মৃতিফলক স্থাপন করে।
এটির ফলক উন্মোচন করেছিলেন শহীদ অধ্যাপক মীর আবদুল কাইউমের স্ত্রী অধ্যাপক মাসতুরা খানম। সেদিন এখানকার মাটি ঢাকা মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের জন্য সংগ্রহ করেন বিশিষ্ট অভিনেতা ও টিভি ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর এমপি।
এই গণকবরস্থলে শহীদদের নাম সংবলিত স্মৃতিসৌধ স্থাপনের দীর্ঘদিনের দাবি রাজশাহীবাসীর।
দিবসটি স্মরণে রাজশাহী মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ পরিষদ আজ এক আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। চিলিস পার্টি জোনে বিকেল এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশ সময়: ১৬০৮ঘণ্টা, নভেম্বর ২৪, ২০১২
এসএস/সম্পাদনা: সোহেলুর রহমান, নিউজরুম এডিটর, সুকুমার সরকার, কো-অর্ডিনেশন এডিটর