নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় পুলিশের তালিকাভুক্ত দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী কামরুজ্জামান কামু (৪৫) মারা গেছেন। রোববার বিকেল সাড়ে ৪টায় ঢাকার একটি হাসপাতালে তিনি মারা যান।
কামু বন্দরের মুরাদপুর এলাকার কামালউদ্দিনের ছেলে। রোববার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কামু হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বন্দরের ধামগড় ফাঁড়ির ইনচার্জ কাজী গোলাম মোস্তফা জানান, কামুর মৃত্যুর খবর শুনে তারা রোববার সন্ধ্যায় কামুর হরিপুরস্থ বাড়িতে যান। কামুর বাড়িটি দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ রয়েছে।
গত ২১ অক্টোবর কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান কামু। এরপর রাজধানী ঢাকার একটি বাড়িতে বসবাস করতেন তিনি।
প্রায় ৫ বছর ধরে কামু বিভিন্ন মামলায় কারাগারে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে হত্যা, রাহাজানি, জবর দখলসহ ২ ডজন মামলা ছিলো।
জানা গেছে, ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই বন্দরে কামু বাহিনীর উত্থান ঘটে। সে সময়ে বন্দরে সুরুত আলী, কাবিলা, কামরুজ্জামান কামু বন্দর উপজেলার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করতেন। তখন থেকেই কামু বাহিনী বন্দরের বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতেন। এ নিয়ে সে সময়ে কামু বাহিনীর সঙ্গে সুরুত আলী বাহিনীর বিরোধ দেখা দেয়। বিরোধের জের ধরে দুই গ্রুপের মধ্যে ৫-৬টি পাল্টাপাল্টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বন্দরে সুরুজ আলী নামের এক ব্যবসায়ী কামু ও সুরুত আলী গ্রুপের মধ্যে বিরোধ তৈরি করে রেখেছিলেন। সুরুজ আলী দুই বাহিনীর মধ্যে বিভেদ তৈরি করে ফায়দা লুটতে চেয়েছিলেন।
১৯৯৯ সালের দিকে যখন সুরুজ আলী প্রতিষ্ঠিত হচ্ছিলেন, তখনই বিদ্রোহ করেন সুরুত আলী। সুরুত আলীকে শিক্ষা দিতে তার পেছনে লেলিয়ে দেন সুরত আলীরই আত্মীয় কামু বাহিনীকে। এক সময়ে তারা একে অন্যকে ঘায়েল করতে মরিয়া হয়ে ওঠে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সুরুত আলীকে হত্যার পর তার মাথা ও দেহ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া যায়।
অভিযোগ রয়েছে, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কামু বাহিনীর সম্পর্ক ছিলো। অপরদিকে প্রতিশোধ নিতে কামুর বোন রেহানাকে হত্যা করে প্রতিপক্ষ। এছাডাও কামু বাহিনীর সদস্য দুই সহোদর ৠাবের ক্রসফায়ারে নিহত হন।
সম্প্রতি বন্দরে নিহত কলেজ ছাত্র মাসুদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত ৩ কিলার পুলিশের কাছে স্বীকার করেছিলেন, এজন্য তারা কামু বাহিনীর এক কিলারের সঙ্গে ১০ হাজার টাকায় চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন।
বাংলাদেশ সময়: ২১১৫ ঘণ্টা, নভেম্বর ২৫, ২০১২
সম্পাদনা: জয়নাল আবেদীন, নিউজরুম এডিটর ও অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর