 |
| ছবি: আশিক/বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
ঢাকা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, বিশ্বব্যাংক ঋণচুক্তি বাতিল করায় বাংলাদেশ সংক্ষুব্ধ হয়েছে। এরপরও বাংলাদেশ নিজ অর্থায়নের পাশাপাশি দাতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে।
সোমবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ইন্ডিয়ান মিডিয়া করেসপন্ডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশ (ইমক্যাব) আয়োজিত মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাংকের কোনো অর্থ এ পর্যন্ত ব্যায় করা হয়নি। তারা যে অভিযোগে চুক্তিটি বাতিল করেছে তার বিপক্ষে কোনো বিশ্বাসযোগ্য তথ্য হাজির না করে, কোনো ডিউ প্রসেস ফলো না করে যে সিদ্ধান্ত বিশ্বব্যাংক নিয়েছে, তাতে সংক্ষুদ্ধ হয়েছে বাংলাদেশ।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তি খুব শিগগিরই হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইমক্যাব সভাপতি ফরিদ হোসেন (দ্য টেলিগ্রাফ), সাধারণ সম্পাদক সুকুমার সরকার (সংবাদ প্রতিদিন)। এছাড়া সংগঠনের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পদ্মাসেতুতে প্রবাসী অর্থ
পদ্মাসেতুতে প্রবাসীরা অর্থ দিতে আগ্রহ দেখিয়েছেন বলে জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘পদ্মাসেতু আমরা নির্মাণ করবোই, এটি বাংলাদেশের একটি সংকল্প। দেশে-বিদেশে আমাদের জনগণের মধ্যে সাড়া পড়েছে, আমরা নিজস্ব অর্থায়নে এ সেতুটি নির্মাণ করছি। সম্পূর্ণ না হলেও নিজেদের অর্থায়নে কাজ শুরু করা যেতে পারে।’’
‘‘এ বিষয়ে আমি অনেক এসএমএস পেয়েছি। এর মধ্যে একজন প্রবাসী নাগরিক জানিয়েছেন, ১২ বিলিয়ন ডলার আমরা বছরে পাঠাই। যদি এর ১০ শতাংশ অর্থ বেশি পাঠাই, তাহলে ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার হয় যা বিশ্বব্যাংকের প্রস্তাবিত ঋণের সমান।
জাপান সফর
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘জাপান আমাদের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন ও বাণিজ্য সহযোগী। গত সপ্তাহে জাপান সফরে সে দেশের উপপ্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাইকা‘র প্রেসিডেন্টের সঙ্গে পদ্মাসেতু প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যে প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে বিশ্বব্যংক এ চুক্তিটি বাতিল করেছে, সেক্ষেত্রে জাইকা প্রেসিডেন্ট আমাকে বলেছেন, আমরা বিশ্বব্যাংকের সিদ্ধান্তে একমত।’’
‘‘আমি জাপানের কর্তৃপক্ষকে বলেছি, এ সেতু আমাদের করতেই হবে। প্রয়োজনে নিজেদের অর্থে করবো। এ জন্য আমাদের হয়তো ত্যাগ স্বীকার করতে হবে, জীবনযাত্রায় কাটছাট করতে হবে। জাপান আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র। যদি তারা আমাদের পাশে দাঁড়ায়, তাহলে আমাদের কষ্ট কম হবে। আমরা চাই জাপান আমাদের পাশে দাঁড়াক। শুধু পদ্মাসেতু নয় সকলক্ষেত্রে আমরা স্বচ্ছতা বজায় রাখছি।’’
এরই পরিপেক্ষিতে জাপান জানিয়েছে, যেহেতু বিশ্বব্যাংক ঋণচুক্তিটি বাতিল করেছে, তাই আগের ফ্রেমওয়ার্কে নয় অন্য কোনো ফ্রেমওয়ার্কে বাংলাদেশকে কিভাবে সহযোগিতা করতে পারে, সেদিকে জাপান সরকার সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাদের সাড়া অত্যন্ত ইতিবাচক।’’
ভাবমূর্তি প্রসঙ্গ
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পদ্মাসেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংক চুক্তি বাতিল করায় দেশের ভাবমূর্তি কোনোভাবেই নষ্ট হয়নি। যে দুর্নীতিতে কোনো প্রমাণ নেই, সেখানে ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়ার প্রশ্নই আসে না।
রোহিঙ্গা প্রসঙ্গ
দীপু মনি বলেন, ‘‘মিয়ানমারের ওয়েবসাইটের বরাত দিয়ে সে দেশের রাষ্ট্রপতি যা বলেছেন বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে, বঙ্গানুবাদ করলে কথা তা নয়। সেখানে কথায় অনেক ভাজ আছে।’’
‘‘তারা বলছে, মিয়ানমারে অনেক রোহিঙ্গা রয়েছে। সেটি আমাদের বিষয় নয়। কিন্তু আমাদের দেশে যে রোহিঙ্গা রয়েছে, তারা জাতিতে মিয়ানমারের এবং তাদের প্রর্ত্যাবর্তনই আমাদের কাম্য। আমরা দ্বিপক্ষীয়ভাবে এ চেষ্টা চালিয়ে যাবো।’’
‘‘এখনই ইস্যুটির আন্তর্জাতিকরণ করার বিষয়ে বাংলাদেশ ভাবছে না’’ বলে মন্ত্রী তার সিদ্বান্ত জানান।
সমুদ্রসীমা প্রসঙ্গ
সমুদ্রসীমা নিয়ে (বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল) ভারতের সঙ্গে সালিশি আদালতের রায় ২০১৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে পাওয়া যাবে বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান। তিনি জানান, এ পর্যায়ে চারটি ধাপ রয়েছে। প্রথম ধাপে বাংলাদেশে পক্ষ থেকে তথ্য-উপাত্ত আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। ভারত এখনও তাদের প্রথম ধাপের তথ্য-উপাত্ত জমা দেয়নি বলেও মন্ত্রী জানান।
ছিটমহল বিনিময়
ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লোকসভায় ছিটমহল বিনিময় চুক্তিটি অনুমোদন করার বিষয়ে অতিদ্রুত পদক্ষেপ নেবে তারা। তবে কোন সেশনে তা পাস হবে এ সম্পর্কে ভারত সরকার বাংলাদেশকে কোন ওয়াদা করেনি বলে মন্ত্রী জানান।
তিনি বলেন, ‘‘তবে আশা করছি আগামী সেশনে এটি সে দেশের সংসদে অনুমোদিত হবে।’’
বাংলাদেশ সময়: ১৮০৬ ঘণ্টা, জুলাই ১৬, ২০১২
কেজেড/সম্পাদনা: রানা রায়হান ও অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর