 |
| ছবি: মিথুন/ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
খুলনা: ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্র্যাকটিস ম্যাচের ব্যাটিং এবং বোলিংয়ের ভিডিও চুলচেরা বিশ্লেষণ করে ক্রিকেটারদের একটা নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। কাকে কি করতে হবে শেন জার্গেনসেন পই পই করে তা বুঝিয়েও দিয়েছেন। এখন খেলা পর্যন্ত তা মনে থাকলেই হয়।
মানিয়ে যাওয়ার পর ব্যাটসম্যানরা যাতে উইকেট দিয়ে না আসেন, তারওপর একটু বেশিই জোর দিয়েছেন কোচ। এর কারণও আছে, টেস্টের মতো একদিনের প্রস্তুতি ম্যাচেও ৩০ রান হওয়ার পর আউট হয়েছেন বেশিরভাগ ব্যাটসম্যান। প্রথম ওয়ানডেতে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, সেজন্য তাত্ত্বিক এবং ব্যবহারিক
কিছু কাজও হয়েছে। মুশফিকুর রহিম সংবাদ সম্মেলনে এনিয়ে বললেনও,‘অনেকদিন পর খেললে কিছু ভুলত্রুটি হয়েই থাকে। প্র্যাকটিসে কেউ কেউ হয়তো ভুল শটে আউট হয়েছে। তারপরেও আমরা উইকেটে পুরো সময়টা ছিলাম। আজকে কিছু ব্যাটিং প্র্যাকটিস হয়েছে। আশা করি, কাল (শুক্রবার) প্রত্যেকে চেষ্টা করবে সেট হওয়ার পর বড় ইনিংস খেলতে।’
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দল টেস্টের চেয়েও ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টিতে ভালো খেলে। এনিয়ে কেউ দ্বিমতও করছে না। ওপেনার তামিম ইকবাল ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ফেবারিট হিসেবেই গণ্য করছেন,‘তারা ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টিতে অনেক শক্তিশালী। এই দুই ফর্মেটেই সম্প্রতি ভালো ক্রিকেট খেলছে তারা। কিন্তু ওয়ানডে ক্রিকেটে নির্দিষ্ট দিনে যারা ভালো খেলে তারাই জেতে। ওয়ানডেতে আমরাও এখন একটা জায়গায় পৌঁছে গেছি। আশা করি কালকের ম্যাচে ভালো ক্রিকেট হবে।’
প্রথম ওয়ানডেতে যে, একাধিক নতুন মুখ থাকবে এনিয়ে কোন সন্দেহ নেই। সোহাগ গাজীর অভিষেক একপ্রকার নিশ্চিত। ডানহাতি এই স্পিনার তার টেস্ট অভিষেক স্মরণীয় করে রেখেছেন ইনিংসে ছয় আর ম্যাচে নয় উইকেট নিয়ে। ওয়ানডেতেও একটা কিছু করার সুপ্ত বাসনা যে তার মনের ভেতরে লুকায়িত আছে, তা বোঝা গেলো তার কথাতেই,‘টেস্ট যেরকম খেলেছি, কখনো মনে হয়নি কে ব্যাট করছে, ওয়ানডেতেও একই পরিকল্পনা থাকবে। অভিষেক ম্যাচে প্রচন্ড চাপ থাকে। কিন্তু আমি চাপটা সেভাবে নেইনি। সে জন্যই স্বাভাবিক বোলিংটা করতে পেরেছি। এখন আত্মবিশ্বাস অনেক উঁচুতে। চেষ্টা করবো লিগের বোলিংটা করতে।’
সাকিবের অনুপস্থিতিতে নাসির হোসেনের ওপর প্রত্যাশা একটু বেশিই থাকবে, তিনি তা জানেনও। টেস্ট সিরিজে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রান পাওয়া মিডল অর্ডার এই ব্যাটসম্যান তৈরিও আছেন,‘এক ফর্মেট থেকে আরেক ফর্মেটে যেতে কিছুটা সমস্যা হয়। সে জন্যই প্র্যাকটিস ম্যাচ। আশা করি মূল ম্যাচে ভুলগুলো হবে না। একই সঙ্গে বড় স্কোর গড়ারও একটা পরিকল্পনা থাকবে। আমার মনে হয় ওয়ানডেতে আমরা ভালো খেলবো। যদিও তাদের ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি দল টেস্ট দলের চেয়েও ভালো। আর ব্যক্তিগত ভাবে আমি চেষ্টা করবো খেলা শেষ করে আসতে।’
একাদশে থাকা নিয়ে দোদুল্যমান জহুরুল ইসলাম। খেললে ওপেনিংয়ে তামিমের জুড়ি হতে পারেন। জহুরুলেরও ইচ্ছে ব্যাটিং ওপেন করার,‘ওপেনিংয়ে খেলার সুযোগ পেলে খুব ভালো হবে। কারণ আমি ওপেনিংয়ে ব্যাটিং করে অভ্যস্ত। এছাড়া একেক জন ব্যাটসম্যানের ‘মাইন্ড সেট’ একেক রকম থাকে। ওপেনিংয়ে নামলে বোর্ডে কোন উইকেট থাকে না, আত্মববিশ্বাস নিয়ে খেলা যায়। কিন্তু দুই তিনটা উইকেট পড়ে যাওয়ার পর ব্যাটিংয়ে গেলে চাপ মনে হয়।’
টেস্ট সিরিজে শট বল খেলতে গিয়ে লেজেগোবরে অবস্থা হয়েছিলো ব্যাটসম্যানদের। চলতি সিরিজের ক্যারিবীয় ফাস্ট বোলাররা শট বলেই বেশি ভুগিয়েছেন। ওয়ানডে সিরিজেও যে শট বল ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াবে ক্রিকেটাররা তা ভালো করেই জানেন,‘জোরে বলে আউট হওয়ার একটা বড় কারণ আমরা লিগে এই ধরণের বলে খেলি না। সাধারণত আমাদের পেসারদের ১২৫-১৩০ গতি থাকে। কিন্তু এখানে ১০ কিলোমিটার গতি বেড়ে যাচ্ছে। ফলে বাউন্সার ছাড়ার জন্য যে ক্ষিপ্রতা থাকা দরকার, তা আমাদের নেই। ওটার প্র্যাকটিস থাকতে হয়। সে জন্যই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাউন্সার খেলতে আমাদের সমস্যা হচ্ছে। তারা টেস্টে শট বল করে যখন সফল হয়েছে, ওয়ানডেতেও শট বল দিবে। আমাদের উচিৎ একটু সতর্ক হয়ে শট বল খেলা।’
বাংলাদেশ সময়: ১৬০১ ঘণ্টা, নভেম্বর ২৯, ২০১২
এসএ/এএইচবি