বিলাইছড়ি (রাঙামাটি): রাঙামাটি জেলার বিলাইছড়ি থেকে ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে প্রত্যন্ত অঞ্বলে পাহাড়ের কোল ঘেঁষে নাড়াইছড়ি আগেরেপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
প্রত্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চল হওয়ায় সমাজের মূল ধারার কোনো ধরনের সুযোগ-সুবিধাই নেই এখানে। ভালো কোনো বিদ্যালয় ভবন নেই। নেই পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা। অতি সাধারণ গরিব ঘরের সন্তানরা পড়াশুনা করে এখানে। দুর্গম পাহাড়ি পথ পেরিয়ে তাদের আসতে হয়। অভিভাবকদের এমন সামর্থ্য নেই যে, তাদের ভালো খাওয়াবে, পরাবে, লেখাপড়া শেখাবে। তারপরও চোখভরা স্বপ্ন নিয়ে তাদের সন্তানদের বিদ্যালয়টিতে পাঠান যেন তারা মানুষ হতে পারে। মানুষ হয়ে সম্মান নিয়ে সমাজে বেঁচে থাকতে পারে। কিন্তু সে স্বপ্ন বুঝি ভেস্তে যেতে বসেছে অভিভাবকদের।
পাড়ভাঙার কবলে পড়ে আগেরেপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি খালে হারিয়ে যেতে পারে যেকোনো সময়। তখন এই কোমলমতি শিশুদের আর কিছু করার থাকবেনা। সে কারণে অভিভাবকরা দুশ্চিন্তায় সময় কাটাচ্ছেন। তাদের আর্থিক সামর্থ্য নেই বিদ্যালয়টিকে ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা করার।
এমনকী অভিভাবকরা জানেননা কী দিয়ে করতে হয়। জানেন না, বিদ্যালয়টি ভেঙে পড়লে তারা কী করবেন। তাদের সন্তানদের কীভাবে একটুখানি আলোর পথ দেখাবেন, কী করে সন্তানদের মুখে হাসি ফোটাবেন সে চিন্তায় দিশেহারা তারা।
জানতে চাইলে ভাঙনের কবলে পড়া আগেরেপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আনন্দ লাল চাকমা বাংলানিউজকে জানান, ইউএনডিপি-সিএইচটিডিএফ-এর অর্থায়নে ও জেলা পরিষদ বাস্তবায়ন সহযোগিতায় ‘মৌলিক শিক্ষা সহায়তাদান” প্রকল্পের অধীনে গত ২০০৮ সালে বেসরকারি বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়।
বিদ্যালয়টিতে প্রাক-প্রাথমিক থেকে শুরু করে ৩য় শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীদের পড়াশুনা করা সুযোগ রয়েছে। এ বছর বিদ্যালয়টি ৪র্থ শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করা হবে। কিন্তু, পাড়ভাঙার কবলে থাকায় কোমলমতি শিশুদের যে কী হবে, তা ভাবতে গেলে মন খারাপ লাগছে!
তিনি জানান, প্রকল্পের অধীনে নাড়াইছড়ি আগেরেপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থাপিত হলেও এর অর্থসংকট রয়েছে। রয়েছে অবকাঠামোগত সমস্যা। এর পরে যদি বিদ্যালয়ের ঘরটি ভেঙে যায়, তাহলে এ এলাকার গরিব ছাত্রছাত্রীরা লেখাপড়া করার সুযোগ আর পাবেনা। সে কারণে, বিদ্যালয়টি রক্ষা করতে সবার এগিয়ে আসা দরকার। দরকার আর্থিক সহযোগিতা আর মানবিক সহযোগিতাও।
এবিষয়ে এক অভিভাবক প্রিয়লাল চাকমা বাংলানিউজকে বলেন, ‘স্কুলের পাড়ভাঙন রোধ করতে হলে ৭০ থেকে ৮০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি আরসিসি ধারক দেওয়াল দরকার। তা না হলে, স্কুলটিকে রক্ষা করা যাবেনা।
এজন্য সবার সাহায্য-সহযোগিতা দরকার। সবার কাছে আমাদের আবেদন জানাচ্ছি। যদি স্কুলটি ভেঙে যায়, তাহলে আমাদের সন্তানদের কোথায় পড়াবো, তা জানি না। তাদের লেখাপড়া করানোর কোনো সামর্থ্য আমাদের নেই। তাদের পড়াশুনা বন্ধ হয়ে যাবে।’
বাংলাদেশ সময়: ০০২৫ ঘণ্টা, আগস্ট ২১, ২০১২
প্রতিবেদন: পুষ্প মোহন চাকমা, সম্পাদনা: আশিস বিশ্বাস, অ্যাসিস্ট্যান্ট আউটপুট এডিটর