ঢাকা: আগামী ১৫ জুলাই তিন দিনের সফরে ঢাকা আসছেন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট উ থিন সিন।
সম্পর্ক উন্নয়নসহ বাণিজ্য ও যোগাযোগের বিষয়ে আলোচনার জন্যই তিনি বাংলাদেশে আসছেন।
এ সম্পর্কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট উইংয়ের মহাপরিচালক গোলম সারওয়ার বাংলানিউজকে বলেন, “বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিশ্বের প্রায় সব দেশই মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্ঠা করছে, সেখানে বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের সম্পর্ক তো আগের থেকেই সুদৃঢ়। মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের ঢাকা আগমনের মাধ্যমে তা ঐতিহাসিক ঘটনায় রূপ লাভ করবে।”
তিনি বলেন, “মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের ঢাকা সফরে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়া ইস্যু থেকে শুরু করে বাণিজ্য, বিনিয়োগসহ সরাসরি ঢাকা-ইয়াঙ্গুন বিমান চলাচল ইস্যুসহ সকল বিষয় আলোচনায় উঠে আসবে।”
গোলাম সারওয়ার বলেন, “মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের আসার আগেই ২২ জুন দুই দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী প্রধানের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে ঢাকায়। তারপর ১ জুলাই সে দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েরে একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা আসবে। এ দলটি মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের সফরের অগ্রবতী দল হিসাবে মনে করা হচ্ছে।”
সূত্র জানায়, সফরকালে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। তার সঙ্গে মিয়ানমারের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী এবং একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলও আসবে। তার এই ঢাকা সফরে বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ডিসেম্বরে মিয়ানমারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফিরতি সফর ও প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে তিনি ঢাকা আসছেন।
মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট উ থিন থিনের ঢাকা সফরে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলো বাস্তবায়নের অগ্রগতি হতে পারে। এছাড়া উভয় দেশের মধ্যে সংযোগ সড়ক স্থাপন, বাণিজ্য বৃদ্ধি, রোহিঙ্গা সমস্যা, দুই দেশের মধ্যে বিমান চলাচল, গ্যাস ও বিদুৎ আমদানীসহ বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় ইস্যুতে আলোচনা হবে। বর্তমানে মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য রয়েছে। কিন্তু দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধির আরো সুযোগ রয়েছে। তবে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের সফরে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান ও সংযোগ সড়ক স্থাপনের বিষয়টি অগ্রাধিকার পাবে বলে সূত্র জানিয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ১৮৪৫ ঘণ্টা, জুন ১৩, ২০১২
কেজে/সম্পাদনা: আহমেদ জুয়েল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর