 |
ঢাকা: গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) আসনের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সিমিন হোসেন রিমির হাতে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র তুলে দিয়েছেন দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা।
একই সঙ্গে রিমির পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য তিনি দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘‘কাপাসিয়ার মাটি, বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীনের স্মৃতিবিজড়িত। তার স্মৃতি ধরে রাখতে সবাইকে রিমির পক্ষে কাজ করে তাকে নির্বাচিত করতে হবে।’’
সোমবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে কাপাসিয়া ও গাজীপুরের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ডেকে এনে তাদের প্রতি এ আহ্বান জানান তিনি। পরে প্রধানমন্ত্রী সিমিন হোসেন রিমির হাতে দলীয় মনোনয়নপত্র তুলে দেন।
এ সময় সিমিন হোসেন রিমি সবার কাছে দোয়া চান এবং তার পক্ষে কাজ করার আহবান জানান। তিনি নির্বাচিত হলে এলাকার মানুষের জন্য কাজ করবেন বলেও আশ্বাস দেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সময় দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘‘রিমির ভাই সোহেল তাজ পারিবারিক কারণে তার আসন থেকে পদত্যাগ করেছেন, এটা আমি জানি। এখন রিমি এ এলাকার মানুষের জন্য কাজ করবেন। আমি এবং আমার বোন শেখ রেহানা আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, মতিয়া চৌধুরীসহ আমরা সবাই রিমির মা জোহরা তাজউদ্দীনের কাছে গিয়েছিলাম। তার মতামত নিয়েই রিমিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলের সংসদীয় বোর্ড। এখন রিমিকে আপনাদের হাতে তুলে দিলাম। আপনারা তাকে নির্বাচিত করবেন।’’
এ সময় আরও বক্তব্য দেন, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ এমপি, সাধারণ সম্পাদক স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মনত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি, গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আকম মোজাম্মেল হক প্রমুখ।
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘‘তাজউদ্দীন আহমেদের স্মৃতিবিজড়িত হওয়ায় কাপাসিয়ার এই আসনটির নির্বাচকে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রীর স্মৃতি রক্ষার্থে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সিমিন হোসেন রিমির জন্য কাজ করে রিমিকে বিজয়ী করতে হবে।’’
তাজউদ্দীনের প্রসঙ্গ উলে¬খ করে তিনি বলেন, তাজউদ্দীন সব সময় বঙ্গবন্ধুর পাশে ছিলেন। ১৯৫৮ সালে সামরিক শাসন জারি হবার পর বঙ্গবন্ধু গ্রেফতার হন। ’৫৯ এ মুক্তি পাবার পর তখন রাজনীতি বন্ধ ছিল। এ সময় বঙ্গবন্ধু কিছুদিনের জন্য আলফা ইন্স্যুরেন্সে চাকরি নেন। তখনও তাজউদ্দীন বঙ্গবন্ধুর পাশে ছিলেন। বঙ্গবন্ধু যেখানে গেছেন সেখানেই বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গেছেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘‘অফিসে যাবার সময় বঙ্গবন্ধু নিজে গাড়ি চালিয়ে আমাকে স্কুলে নিয়ে যেতেন। এ সময় তিনি তাজউদ্দীনকেও বাসা থেকে গাড়িতে তুলে নিতেন।’’
বর্তমান সরকারের সফলতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমরা মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। এবার রোজা ও ঈদে দ্রব্যমূল্য কম ছিল। একদিকে আমরা বেতন-ভাতা বাড়িয়েছি, অন্যদিকে দ্রব্যমূল্য কমিয়েছি। বাংলাদেশের ইতিহাসে রোজার মাসে দ্রব্যমূল্য কমে, এটা কেউ কখনো দেখেননি। কিন্তু এবার আমরা দ্রব্যমূল্য কমিয়েছি।’’
সরকারের সফলতা বর্ণনা করে শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে গ্রামে গ্রামে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়ছে। সাড়ে চার লাখ বেকার যুবককে চাকরি দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে ইন্টারনেট নেওয়া হয়েছে। ফলে গ্রামের মানুষ দেশে-বিদেশে যোগাযোগ করতে পারছেন। ঈদের আগে এক কোটি গরিব মানুষকে বিনা পয়সায় চাল দেওয়া হয়েছে। যাতে মানুষ কষ্ট না পান।’’
এ সময় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও উপ-নির্বাচনের সমন্বয়কারী তোফায়েল আহমেদ এমপি বলেন, ঘরে ঘরে গিয়ে রিমির পক্ষ্যে প্রচারণা চালাতে হবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ষড়যন্ত্র হতে পারে। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সব সময় ষড়যন্ত্র হয়। তবে ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো ষড়যন্ত্র সফল হবে না।
বিএনপিকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে ভালো হয়। আমরা চাই, বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিক।’’
বাংলাদেশ সময়: ১৮৪২ ঘণ্টা, আগস্ট ২৭, ২০১২
এসকে/সম্পাদনা: রোকনুল ইসলাম কাফী, নিউজরুম এডিটর ও অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর;
জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর jewel_mazhar@yahoo.com