অপমৃত্যু
মৃত্যুতে আমার ভয় আছে, দ্বিধা নেই
তুমি বললে-
তুলে নেব হাতে হেমলক
মুহূর্তে খেয়ে নেব সায়ানাইড
ঝাঁপ দেব বাংলার সবচেয়ে উঁচু ভবন থেকে
২৩ তলা এপার্টমেন্টে সঙ্গমরত বুদ্ধিজীবীর বুকে
হয়তো সাবেক কুমারী বালিকাটি জানালায়
আমার পড়ন্ত অবয়ব দেখে ভয় পেলে
সে দায় সরকার কিংবা কারও নয়, কেবলই আমার।
অথবা হেঁটে যাব সহরের ব্যস্ততম রাস্তায়
আমার প্রতিভাবান মগজ ছড়িয়ে পড়বে বিমূর্ত
শরীরের মাংসল অংশ খেয়ে নেবে
ফুটপাথের ক্ষুধার্থ শিশু
অথবা চীনের ইয়েসি হব
আগুনে ঝলসাবো চুল, নখ, হার, রক্ত...
শুনব নববধূর যৌতুক-আর্তনাদ।
এক নদী এসিডে ঝাঁপ দেব
ভুলে যাব বোনের দগ্ধ অসহ্য মুখ
অশ্রু ভোলা, স্বপ্ন ভোলা চোখ।
অথবা এখুনি উঠে যাব লাইনহীন ট্রেনে
ঝরে যাবে পাপ সবুজ মাটিতে।
গোলাপ গুলো তোমায় দিয়ে বুকে গেঁথে নেব
কাঁটা একটি একটি করে অপার্থিব উল্লাসে।
৩৩ হাজার ভোল্ট বৈদ্যুতিক তারে দেব শেষ চুমু
ভুলে যাব ১৭ আগস্ট।
অথবা র্যাবের গাড়িতে ছুড়ে দেব
গত শীতে পঁচে যাওয়া
লিমনের কাটা হাড়
বলব আপনাদের মধ্যে যে লোকটি শৈশবে বালক ছিলেন
এবং ভয় পেতেন তেলাপোকা কিংবা অন্ধকার
হাতে তুলে নিন রাইফেল, ট্রিগার চাপুন নির্ভয়ে।
অথবা একটি কবিতা লিখব
বলব, কবি ছাড়া কেউ রাজনীতি করতে পারবে না।
এবং বলব ফাঁসি চাই এ যাবত কালের
সরকারি ও বেসরকারি সমস্ত মৃত এবং জীবিত রাজকর্মচারীর
যারা অর্থের বিনিময়ে দিয়েছেন অর্থহীন স্বাধিকার
ঘুমের বিনিময়ে দুঃস্বপ্ন বেঁচে থাকার,
ভোটের বিনিময়ে মৃত্যুর উপত্যকা ঘরে এবং বাইরে
পরস্ত্রী বুকে নিয়ে সত্য প্রেমিকাকে
ভালোবাসার অপরাধে করেছেন রক্তাক্ত
ক্ষমতার প্রতিদানে সাধারণ জনতাকে করেছেন অক্ষম।
আমি তোমার এবং তোমাদের পক্ষপাতী ঈশ্বরের নামে
শপথ করে বলছি-
আমি নিজ আত্মাকে হত্যা করব সবেচেয়ে নিষ্ঠুরতম উপায়ে
নগ্ন প্রবেশ করব লাল পিঁপড়ের গুহায়;
আমি কবি, কাব্যের চেয়ে প্রিয় কিছু নেই আমার
সেই আমার সমস্ত কবিতার নামে শপথ করে বলছি
আমি চলে যাব। (কবিরা কখনও মিথ্যে বলে না)
শুধু তোমাকে কথা দিতে হবে
আমার মৃত্যুর পর
এ দেশের ত্রিশলক্ষ একতম মৃত্যুর পর
আর কোন অপমৃত্যু হবেনা
শেষ অপমৃত্যুর নাম হবে ‘কালপুরুষ’।।
বাংলাদেশ সময়: ১৬১৫ ঘণ্টা, ১৫ অক্টোবর, ২০১২