 |
চট্টগ্রাম: বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলার সময় অবকাঠামোগত উন্নয়নের নামে দুর্নীতি ও লুটপাটের অভিযোগে দুদকের ফাইল তলবের ঘটনায় বুধবার মেয়র এম মনজুর আলমের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন সিটি কর্পোরেশনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা।
এ বৈঠকে দুদকের কাছে ফাইল পাঠানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে সিটি কর্পোরেশন।
চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ারা বেগম বাংলানিউজকে বলেন, ``মেয়র সাহেব ঢাকায় আছেন। আজ (মঙ্গলবার) রাতে তিনি ফিরবেন। কাল (বুধবার) সকালে তিনি অফিসে আসার পর আমরা বৈঠক করব। এরপর কোন প্রক্রিয়ায় দুদকের কাছে ফাইল যাবে, এসব ফাইল তৈরি করাসহ সার্বিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।``
চসিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুদকের চিঠি পৌঁছানোর খবর পাবার পর চসিকের চার ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী এ বিষয়ে বৈঠক করেন।
এরপর মঙ্গলবার সকালে দুদকের চিঠি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আসার পর তিনি বিষয়টি নিয়ে কয়েকজন উর্দ্ধতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেন। বৈঠক থেকে মেয়রের সঙ্গে যোগাযোগের পর বুধবার এ বিষয়ে বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয় বলে সূত্র জানিয়েছে।
এর আগে ২০১০-১১ অর্থবছরে উন্নয়নের নামে প্রায় ৮৫ কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে বলে অভিযোগ পাবার পর এ বিষয়ে তদন্তে নামে দুদক। তদন্তের অংশ হিসেবে দুদক সিটি কর্পোরেশনের কাছে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের এক হাজার ৩৮০টি নথি তলব করেছে।
সোমবার দুদক চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আবদুল আজিজ ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত চিঠি সিটি কর্পোরেশনে পৌঁছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালের মার্চে চট্টগ্রামে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের দু’টি ম্যাচ এবং একটি প্রস্তুতি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে সরকারিভাবে সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম নগরীতে প্রায় ১৭৫ কোটি ১৫ লক্ষ টাকার উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়িত হয়।
সূত্র জানায়, ২০১০-১১ অর্থবছরের পাঁচটি বিভাগের মধ্যে চারটি বিভাগের উন্নয়ন প্রকল্পের ফাইল দুদকের পক্ষ থেকে তলব করা হয়েছে। এসব ফাইলের মধ্যে রয়েছে এক নম্বর বিভাগের ২৫ কোটি ৮১ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৬৩ প্রকল্প, দুই নম্বর বিভাগে ৪৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩৩৫ প্রকল্প ও ১৪কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৬৬টি প্রকল্প, তিন নম্বর বিভাগে ৫০ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩৪৭ প্রকল্প এবং চার নম্বর বিভাগে ৩৬ কোটি ৮৪লাখ টাকা ব্যয়ে ২৬৯টি প্রকল্পের ফাইল।
অভিযোগ আছে, বিশ্বকাপ উপলক্ষে সিটি কর্পোরেশনে যখন এসব উন্নয়ন কর্মকা- পরিচালনা করছিল তখন মেয়র এম মনজুর আলমের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতায় তালিকাভুক্ত ঠিকাদারের পাশাপাশি আরও নতুন ৫০০ ব্যক্তি ঠিকাদার হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। এদের মধ্যে বেশিরভাগই বিএনপি দলীয় নেতাকর্মী।
চট্টগ্রামের ৪২৮ কিলোমিটার সড়কে কার্পেটিং করার ক্ষেত্রে ঠিকাদার হিসেবে থাকা বিএনপির নেতাকর্মীরাই বেশিরভাগ দায়িত্ব পালন করেন বলে অভিযোগ আছে।
খোদ সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তাদেরই অভিযোগ, দলীয় বিবেচনায় তালিকাভুক্ত হওয়া এসব ঠিকাদারের পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় তাদের উন্নয়ন কর্মকা- শুরুতেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।
বাংলাদেশ সময় : ২০২১ ঘণ্টা, জুলাই ১০, ২০১২
আরডিজি/ সম্পাদনা: জাকারিয়া মন্ডল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর; জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর jewel_mazhar@yahoo.com