 |
ঢাকা: তিন দিনের সফরে যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্সের (আইএসআই) প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল জহির-উল-ইসলাম। ১-৩ আগস্ট পর্যন্ত এ সফরে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র প্রধান ডেভিড পেট্ট্রাউসের সঙ্গে তিনি বৈঠক করবেন।
গত বছরের ২ মে পাকিস্তানের গ্যারিসন শহর অ্যাবোটাবাদে মার্কিন বাহিনীর একক অভিযানে আল কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেন নিহত হওয়া এবং নভেম্বরে মার্কিন বিমান হামলায় ২৪ পাকিস্তানি সেনা নিহত হওয়ার পর পাক-মার্কিন সম্পর্কের ব্যাপক অবনতি ঘটে।
এ ঘটনার পর কৌশলগত মিত্র দু’দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে এ-ই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন আইএসআই প্রধান।
রোববার পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে এ সফরের কথা জানিয়েছে। তারা জানিয়েছে, দুই দেশের গোয়েন্দা প্রধানের বৈঠকে পাকিস্তানের উপজাতীয় এলাকায় মার্কিন ড্রোন হামলার বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিবৃতিতে দুই দেশের গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে এটি দ্বিপক্ষীয় সফর বলে বর্ণনা করা হয়েছে।
আইএসআই প্রধানের যুক্তরাষ্ট্র সফরের ব্যাপারে বিবৃতিতে আর বিস্তারিত কিছু না জানালেও পাকিস্তানের একজন জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেছেন, বৈঠকে সন্ত্রাস বিরোধী অভিযানে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের ব্যাপারে আলোচনা হবে।
তিনি আরো জানান, বৈঠকে আইসএসআই প্রধান সীমান্তে আল কায়েদা ও তালেবানের বিরুদ্ধে ড্রোন হামলা বন্ধের দাবি জানাবেন। উপজাতীয় এলাকায় এ অভিযানে দায়িত্ব বরং পাকিস্তানের হাতেই ছেড়ে দেওয়ার দাবি পুনর্ব্যক্ত করবেন তিনি।
জেনারেল জহির-উল-ইসলামের যুক্তরাষ্ট্র সফরের কথা ছিল মে মাসে। কিন্তু আফগানিস্তানে ন্যাটোর রসদ সরবরাহ পথ খুলে দেওয়ার ব্যাপারে সমঝোতা না হওয়ায় পরে তা স্থগিত করা হয়।
তবে চলতি মাসেই সফরের দিন পুনর্নির্ধারিত করা হলেও তা কেন আবার পেছানো হলো সে ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ কিছু বলেনি।
আফগান সীমান্ত সংলগ্ন উপজাতীয় এলাকায় মার্কিন ড্রোন হামলা বন্ধের জন্য ইসলাবাদ অনেক আগে থেকেই দাবি জানিয়ে আসছে। ড্রোন হামলায় অনেক সময় বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়া এবং অনুমতি ছাড়াই পাকিস্তানি ভূখণ্ডে সামরিক অভিযান সার্বভৌমত্বের জন্য অবমাননাকর অভিহিত করে এর বিরোধিতা করে পাকিস্তানি জনগণ।
জনগণের চাপেই পাক সরকারও ইদানীং মার্কিন ড্রোন হামলার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলছে।
তবে কৌশলগত মিত্র পাকিস্তানের জনগণের মধ্যে মার্কিন বিরোধী মনোভাব তীব্র থেকে তীব্রতর হওয়া সত্বেও যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি ইতিবাচকভাবে ভাবছে না। মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করেন, জঙ্গি দমনে এ অভিযান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং তা এখনই বন্ধ করা ঠিক হবে না। অবশ্য দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে অভিযানের সংখ্যা কিছুটা কমেছে।
সূত্র বলছে, আইএসআই প্রধান এবার তার মার্কিন প্রতিপক্ষে সঙ্গে শক্ত অবস্থানে থেকেই কথা বলবেন এবং জোরালোভাবেই তার দাবির তালিকা মেলে ধরবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ সময়: ১৮২৮ ঘণ্টা, জুলাই ২৯, ২০১২
সম্পাদনা: জাহাঙ্গীর আলম, নিউজরুম এডিটর