 |
জাবি: উপাচার্য পতন আন্দোলনের আমেজ কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আবারও আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) গত ৩ বছরে নিয়োগপ্রাপ্ত নতুন শিক্ষকরা।
শনিবার বিকেল ৩টায় নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা ‘মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে আমরা’ ব্যানারে একত্রিত হয়ে ১০ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা তারা।
এ সময় এক বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষকরা বলেন, ‘আমাদের প্রথম পত্রে অধ্যাপক নাসিমকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তার বক্তব্যের স্বপক্ষে প্রমাণ উপস্থাপনের অনুরোধ করেছিলাম। ৭২ ঘণ্টা সময় ইতোমধ্যে অতিবাহিত হলেও তিনি তাঁর বক্তব্যের পক্ষে কোনো প্রমাণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা জনসম্মুখে উপস্থাপন করতে পেরেছেন বলে আমাদের জানা নেই। আমাদের এই আন্দোলন শুধু অধ্যাপক নাসিমের মিথ্যাচার ও শিষ্টাচার বহির্ভূত বক্তব্যের প্রতিবাদে।’
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘তিনি (অধ্যাপক নাসিম) প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় বিভিন্নভাবে আমাদেরকে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা করে চলেছেন। তিনি আমাদের সম্পর্কে “সন্ত্রাসী”, “গুণ্ডা”, “পেটোয়া বাহিনী”, “মেধাহীন”, “অযোগ্য” ইত্যাদি শিষ্টাচার বহির্ভূত শব্দ প্রয়োগ করেছেন এবং লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে আমরা চাকরি পেয়েছি বলে বক্তব্য দিয়েছেন।’
তারা বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিগত ৩ বছরে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকবৃন্দ অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে নিয়োগ লাভ করেছেন বলে সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক নাসিম আখতার হোসাইন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় যে সুনির্দিষ্ট মিথ্যাচার ও মানহানিকর বক্তব্য প্রদান করেছেন, তা কেবল নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকবৃন্দকেই জাতির সামনে হেয় প্রতিপন্ন করেনি, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
এছাড়াও গত ২ এপ্রিল প্রকাশিত দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় অধ্যাপক নাসিমের “মেধাবীদের বাদ দিয়ে ১৯২ জন ভোটার শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে” বলে মন্তব্য করেছেন যা আমাদেরকে অপমানিত ও ক্ষুব্ধ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ও মর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
আমরা গত ২২ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে এই মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ১৪৬ জন শিক্ষকের স্বাক্ষর সম্বলিত স্মারকলিপি পেশ করেছি এবং সেই স্মারকলিপির অনুলিপি অধ্যাপক নাসিম আখতার হোসাইনকেও প্রদান করেছি। অধ্যাপক নাসিম তাঁর বক্তব্যের পক্ষে প্রমাণ উপস্থিত করতে ব্যর্থ হলে তাঁর বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমরা মাননীয় উপাচার্যকে অনুরোধ জানিয়েছি।’
‘মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে আমরা’ শিক্ষকদের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- ২৭ মে থেকে ২৯ মে পর্যন্ত বিভিন্ন বিভাগে গণসংযোগের মাধ্যমে অধ্যাপক নাসিমের সাম্প্রতিক মিথ্যাচার ও নতুন শিক্ষকদের হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টি করা, ৩০ মে থেকে ৪ জুন পর্যন্ত অধ্যাপক নাসিমের মিথ্যাচার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা এবং ভাবমূর্তিক্ষুণ্ণকারী অন্যান্য কার্যকলাপের খতিয়ান তৈরির কাজ, ৫ মে মঙ্গলবার মৌনমিছিল (পুরাতন কলা ভবন থেকে অমর একুশের পাদদেশ), ৬ মে বুধবার পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা।
বাংলাদেশ সময়: ১৭৪০ ঘন্টা, মে ২৬, ২০১২
সম্পাদনা: আশিস বিশ্বাস, অ্যাসিস্ট্যান্ট আউটপুট এডিটর