 |
| ছবি: নূর /বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
র্যাম্প মডেলিং দিয়ে মিডিয়ায় যাত্রা শুরু হয় কল্যাণের। এরপর টিভি পর্দায় অভিনয় ও মডেলিংয়ের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা পান।
এবার এই অভিনেতা দর্শকের মন জয় করতে আসছেন বড় পর্দায় ।
আগামী ১৬ডিসেম্বর মুক্তি পাচ্ছে পরিচালক মাসুদ আখন্দ ও কল্যাণের অভিনীত প্রথম ছবি `পিতা’।পাশাপাশি সম্প্রতি খালিদ মাহমুদ মিঠুর নতুন চলচ্চিত্র `জোনাকির আলো`র কাজ শেষ করেছেন তিনি।
বর্তমানে ঈদের জন্য নির্মিত বেশ কিছু নাটকের কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কল্যাণ। ঢাকাতেই বেড়ে ওঠা ছেলেটির। পুরো নাম কল্যাণ অ্যান্থনি কোরাইয়া। বাবা পিটার কোরাইয়া একজন অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবী। পরিবারে দুই বোন এক ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট।
অনেকটা শখের বসেই মিডিয়ায় কাজ শুরু করেন।কল্যাণ এ বিষয় নিয়ে বাংলানিউজকে বললেন, তখন ২০০৫ সাল। মাত্র `ও লেভেল` পরীক্ষা শেষ। এখনো ফলাফল হাতে আসেনি।এক বন্ধুর সহযোগিতায় নিজের একটি ফটোসেশন করি এবং বিভিন্ন বিজ্ঞাপনী সংস্থায় ছবিগুলো জমা দেই।এরপর র্যাম্প মডেল হিসেবে মিডিয়ায় নিজের নাম লেখায় এবং একের পর এক পত্রিকা, ম্যাগাজিনের জন্য ফটোসেশনে অংশ নেন। এভাবেই কাজ করা শুরু।’
প্রবল ইচ্ছা এবং আত্মবিশ্বাসের ধীরে ধীরে এগোতে এগোতে সেদিনের সেই ছেলেটি আজ ছোটপর্দার অন্যতম ব্যস্ত অভিনেতা কল্যাণ। ২০০৭ সালে টিভি দর্শক তাঁকে আরো ভালো করে চিনলেন মেজবাউর রহমান সুমনের `প্রেম ও পরাবাস্তবতা` নাটকটির মাধ্যমে।ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এ নাটকটি। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয় না তাকে।
কল্যাণ অভিনীত বর্তমানে দর্শকনন্দিত নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে_ `নক্ষত্র ঘাস ও চন্দ্র মলি্লকার রাত`, `আমেরিকা`, `ভাগফল শূন্য`, `হ্যালো`, `মারমেইড`, `মানিব্যাগ` ও `রুমডেট`।
এছাড়া তাঁর অভিনীত জনপ্রিয় ধারাবাহিকের তালিকায় আছে `হাউসফুল`, `বাড়ি বাড়ি সারি সারি`, `লাকি থার্টিন`, `ফিরে ফিরে আসি`, `নো প্রবলেম`, `ও চাঁদ`, `চৈতা পাগল`,‘অচেনা প্রতিবিম্ব’সহ আরো বেশ কিছু নাটক।
আগামী ২৪অক্টোবর রুবায়েত মাহমুদের পরিচালনায় দেশ টিভিতে প্রচান হবে খন্ড নাটক ‘মায়াকানন’।এখানে তার বিপরীতে অভিনয় করেছে শশী।
এছাড়া এবার ঈদের জন্য নির্মিত বেশ কিছু নাটকে দেখা যাবে তাকে। এর মধ্যে আরিফ খানের‘ ‘তোমাকে এনে দিব জোৎস্না’, হাসিব মোহম্মদ রাফির ‘ইনফ্যাচুয়েশন’, মতিয়া বানু শুকুর‘দিনের শেষে’ এবং ‘গীত’সহ আরো বেশ কিছু নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি।
নাটকের পাশাপাশি মডেল হিসেবে কাজ করেন বেশি কিছু বিজ্ঞাপনচিত্রে। যার মধ্যে গ্রামীণফোনের `বিজয় দিবস`, `একাত্তরের চিঠি`, `ডিজুস রিচার্জ`, `ক্লেমন আন্ডার ওয়াটার`, `টমটম ক্রেকারস`, `সিমফনি মোবাইল ফোন` উল্লেখযোগ্য।
এবার আসি কল্যাণ অভিনীত প্রথম ছবি ‘পিতা‘ কথা প্রসঙ্গে।জানতে চাইলামে এ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের কথা। কল্যাণ বললেন, এটা আমার প্রথম চলচ্চিত্র । ছবির গল্প অনুযায়ী যে ধরনের নায়ক প্রয়োজন তা খুঁজে পাচ্ছিলেন না পরিচালক। এরপর একদিন আমাকে ডাকলেন । কথা বলে পছন্দ হলো। এরপর `পিতা`র একজন হয়ে ওঠলাম।’
এই ছিল কল্যাণের প্রথম ছবিতে নির্বাচিত হওয়ার গল্প। কিন্তু এ গল্প এখানেই শেষ নয়।
কল্যাণ আরো বললেন, ‘এর আগেও ছবিতে অভিনয়ের অনেক প্রস্তাব এসেছে। কিন্তু গল্প ও চরিত্র পছন্দ না হওয়ায় কাজ করা হয় নাই। এ ছবির সব কিছুই পছন্দ হয়েছে আমার। ‘পিতা’ ছবিতে আমার চরিত্রের নাম শরৎ। আশা করি সবার ছবিটি অনেক ভালোলাগবে। আর আমার অভিনীত পরবর্তী ছবি‘জোনাকীর আলো‘ নিয়েও আমি অনেক আশাবাদী। এ গল্পে আমি একজন আলোকচিত্রী, যেখানে আমি একটি মাত্র পাখি খোঁজার জন্য সেন্টমার্টিন যাই। দিনের পর দিন সাগরের পাশে পাখিটি খুঁজে বেড়াই। পাখিটির নাম `প্যাসিফিক রিফ ইগ্রেট`। পাখির দেখা না পেলেও হঠাৎ করে সেখানে পরিচয় ঘটে আমার নায়িকার সঙ্গে।এরপর নানা ঘটনা।’
এখন মাসে ২৫ দিনই অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটে তাঁর।
সবশেষে অভিনয় নিয়ে কল্যাণ বলেন, ‘চলচ্চিত্র আমার প্রথম পছন্দ। আর ভালো কাজ সবসময়ই করতে চাই। সততা, পরিশ্রম ও দর্শকদের ভালোবাসা দিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চাই।’
বাংলাদেশ সময়: ২২৩৮ ঘণ্টা, অক্টোবর১৫,২০১২
এমকে