 |
| ছবি:উজ্জ্বল ধর/বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
চট্টগ্রাম : বৃষ্টি মাথায় নিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন বন্দরনগর চট্টগ্রামের মানুষ।
রোববার রাত থেকে বৃষ্টি শুরুর পর থেকে থেমে থেমে তা অব্যাহত রয়েছে। ভোরেও কখনও টিপটিপ বৃষ্টি আবার কখনও মুষলধারে বৃষ্টিতে মুসল্লিদের দুর্ভোগ চরমে ওঠে। ঘর থেকে বেরিয়ে বৃষ্টিতে কাকভেজা হয়ে বিভিন্ন বয়সের মানুষ বিভিন্ন জায়গায় ঈদ জামাতে শরিক হয়েছেন নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে।
প্রকৃতির এ বিরুপতাকে সঙ্গী করেই বর্ণিল ঈদ উৎসবে মেতেছেন বৃষ্টিস্নাত চট্টগ্রামবাসী। উৎসবের নানা রঙে বর্ণিল আনন্দ আর যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর।
যথারীতি নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়েই সোমবার চট্টগ্রামে শুরু হয়েছে ঈদুল ফিতরের আনুষ্ঠানিকতা। সিটি করপোরেশন এবং জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নগরীতে এবার ১৪০টিসহ পুরো চট্টগ্রামে প্রায় ৫শ স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এরমধ্যে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে সোমবার সকাল সাড়ে আটটায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় নগরীর জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদে। বিশ্ব মসজিদ হিসেবে খ্যাত এ মসজিদের সামনের ময়দানে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে বিশাল সামিয়ানা টাঙিয়ে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হলেও বৃষ্টির কারণে সেখানে নামাজের আয়োজন করা যায়নি। পরে হাজার হাজার মুসল্লি মসজিদের ভেতরে গিয়ে নামাজ আদায় করেন।
চট্টগ্রামের মেয়র এম মনজুর আলম বাংলানিউজকে বলেন, আমরা ময়দানে নামাজ আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিলাম। কিন্তু রাতে বৃষ্টি হওয়ায় মাটি ভিজে গেছে। সেজন্য মসজিদের ভেতরে নামাজ পড়তে হয়েছে।
জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদের এ জামাতে ইমামতি করেন জামেয়া আহম্মদীয়া সুন্নীয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ জালালুদ্দিন আল কাদেরী। এ স্থানে পরপর তিনটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
সেখানে গিয়ে দেখা গেছে, বৃষ্টিতে ভিজে, কেউবা ছাতা হাতে ঈদের নামাজে যোগ দিতে মসজিদে এসেছেন। অনেকে মসজিদের ভেতরে জায়গা না পেয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভিজেছেন।
জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদের ঈদ জামাতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী-শিল্পপতিসহ নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে আসা হাজার হাজার মুসল্লির সমাগম ঘটে।
এছাড়া নগরীর লালদিঘীর পাড়ে আরও একটি প্রধান জামাত সহ নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে আলাদা আলাদা ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজ আদায় শেষে মুসল্লিরা পরস্পরের সঙ্গে কোলাকুলি করেন।
এদিকে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধবের বাড়ি গিয়ে চিরাচরিত ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন বয়সী লোকজন নেমে এসেছেন রাস্তায়। পরিচিত, অপরিচিত, বিভিন্ন বয়সী লোকজন পরস্পরের সঙ্গে কোলাকুলি, করমর্দন, হাসি, ঠাট্টায় মেতে উঠছেন।
নগরীর বিভিন্ন স্থানে তরুণ, যুবকরা জড়ো হয়ে গান বাজিয়ে কিংবা হৈ, হুল্লোড় করে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিয়েছেন।
ঈদ উপলক্ষে নগর ভবন সহ নগরীর বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ভবনে আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়েছে। চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার, হাসপাতাল, এতিমখানা এবং জেলা প্রশাসনের সমাজসেবা অধিদফতর পরিচালিত চট্টগ্রামের বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ সময় : ১০৪৫ ঘন্টা, আগস্ট ২০, ২০১২
আরডিজি/সম্পাদনা : বেনু সূত্রধর,নিউজরুম এডিটর,/ সুকুমার সরকার, কো-অর্ডিনেশন এডিটর
kumar.sarkerbd@gmail.com