ঢাকা: রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মোবাইল ফোন নিয়ন্ত্রিত বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় নতুন করে গ্রেফতার আরও তিন আসামির চারদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
রিমান্ডকৃতরা হলেন, সোহরাব হোসেন উজ্জ্বল, খন্দকার এনামুল হক মিতুল ও এসএম আবু হোসাইন সারওয়ার।
মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক প্রফুল্ল কুমার সাহা প্রত্যেককে ১০ দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন।
ঢাকা মহানগর হাকিম হারুন অর রশিদ শুনানি শেষে প্রত্যেকের চারদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে গ্রেফতার ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী জোবায়ের আহম্মেদ ও তার সহযোগী নুরুল ইসলাম প্রথম দফায় সাতদিন ও দ্বিতীয় দফায় বর্তমানে চারদিনের রিমান্ডে আছেন।
রাজধানীর মিরপুরের কাজীপাড়া ও ভাষানটেকের মাটিকাটা এলাকা থেকে শনিবার রাতে তাদের গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ।
গ্রেপ্তারের পর আসামি গাড়ি সারাইখানার কর্মী সারওয়ার বিস্ফোরিত বোমাটি তেরি করেছিল বলে স্বীকার করেছে বলে পুলিশের দাবি।
গ্রেপ্তারের সময় খন্দকার এনামুল হক মিতুল ও আবু হোসাইন সারওয়ারের কাছ থেকে ৩টি বোমা ও বোমা তৈরির সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয়েছে বলে রিমান্ড আবেদনে বলা হয়।
এ নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে আলাদা একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামিরা বিপুল পরিমান অর্থের বিনিময়ে অত্যাধুনিক মোবাইল বোমা প্রস্তুত করে। পূর্ব পরিকল্পিতভাবে গত ১৭ জুলাই বেলা সাড়ে ১১টা সময় শেরেবাংলানগর থানাধীন পিকেএসএফ ভবনের ভিকটিম আয়শা সিদ্দিকাকে হত্যার জন্য বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়।
ওই বোমা কিভাবে তৈরি করা হয়েছে, কার কাছ থেকে বোমা তৈরির বিস্ফোরক সংগ্রহ করা হয়েছে এবং আধুনিক বোমা তৈরির প্রযুক্তি কিভাবে কোথায় পেয়েছে তা জানার জন্য আসামিদের ১০ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করা প্রয়োজন।
গত ১৭ জুলাই বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আগারগাঁওয়ের ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সামনে থেকে আসামি জোবায়েরের কাছ থেকে একটি বক্স নিয়ে পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) সামনে দিয়ে নিজের অফিসে যাওয়ার সময় রাস্তায় আয়েশার হাতব্যাগে থাকা বোমাটি বিস্ফোরিত হয়।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ওইদিন সকালে আগারগাঁওয়ের ইসলামিক ফাউন্ডেশন কার্যালয়ে সামনে তাকে ডেকে নেন সহকর্মী জোবায়ের। এরপর জোবায়ের তাকে একটি প্যাকেট দিয়ে সেটি অফিসে পৌঁছে দিতে বলে। সেখান থেকে অফিসে যাবার পথে বোমাটি বিষ্ফোরণ ঘটে।
গ্রেপ্তারের পর জোবায়ের পুলিশের কাছে স্বীকার করে জনৈক নুরুল ইসলামের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকায় তিনি ওই বোমাটি ক্রয় করেন। পরে কাজীপাড়া এলাকা থেকে নুরুল ইসলামকেও গ্রেফতার করে পুলিশ।
উল্লেখ্য গ্রেফতারের পর জোবায়ের স্বীকার করে, চাকরির সুবাদে একই অফিসের সহকারী প্রোগামার আয়েশার প্রতি প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ে সে। এ কথা আয়েশাকে জানালে সে রাজি হয় না। এতে তার প্রতি জোবায়েরর ক্ষোভ জন্মে এবং তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে।
এ ঘটনায় ভিকটিম আয়েশার ভাই তারিকুল ইসলাম শেরেবাংলা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
বাংলাদেশ সময় : ১৮০০ ঘণ্টা, জুলাই ২৯, ২০১২
এমআই/ সম্পাদনা: জাকারিয়া মন্ডল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর