চট্টগ্রাম: কথিত মাল্টিলেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কোম্পানি ইউনিপেটুইউতে বিনিয়োগ করা টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে হতাশা ও অস্থিরতা থেকেই চট্টগ্রামের আইন কলেজের ছাত্র আবছার হোসেন শামীমকে খুন করেছেন তারই সহযোগী বিনিয়োগকারী ইদ্রিস আলম বাবুল।
ঘাতক বাবুল মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রামের বিচারিক হাকিম আবু সালেহ মোহাম্মদ নোমানের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ হত্যাকাণ্ডের এমন বিবরণই দিয়েছেন। এর আগে রাউজান থানাপুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতেও বাবুল একই কথা জানিয়েছিলেন।
মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় বিচারক ঘাতক বাবুলের জবানবন্দি রেকর্ড শুরু করেন। বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত মোট সাত পৃষ্ঠায় বাবুলের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন বিচারক।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, জবানবন্দিতে ঘাতক বাবুল তার ব্যবসায়িক অংশীদার শামীমকে খুনের নেপথের কারণ বর্ণনার পাশাপাশি কিভাবে খুন করেছেন তারও বর্ণনা দিয়েছেন।
বাবুল জানান, শামীমের কথামতো তিনি ইউনিপেটুইউতে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন। কিন্তু ইউনিপে’র কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে তিনি হতাশা হয়ে পড়েন। যৌথ মালিকানার জায়গা বিক্রির জন্য শামীমকে একাধিকবার প্রস্তাব দিয়েও তিনি ব্যর্থ হন। এরপর পরিকল্পনা করেন হত্যার।
জবানবন্দিতে বাবুল জানান, গত ২০ জুলাই দুপুরে শামীমকে তার বাসায় দাওয়াত দিয়ে নিয়ে গিয়ে এক গ্লাস শরবতের সঙ্গে পাঁচটি কড়া ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে ফেলেন। এরপর রাত দু’টার দিকে গভীর ঘুমে অচেতন বাবুলকে গলায় টাওয়েল পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন বাবুল। এরপর লাশ রেখে দেন খাটের নিচে।
পরদিন ২১ জুলাই চটের বস্তায় ভরে সিএনজি অটোরিকশাযোগে গিয়ে শামীমের লাশ চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের রাউজান উপজেলা বদুপাড়ায় নির্জন স্থানে ফেলে বাবুল ওই এলাকা ত্যাগ করেন।
পরদিন বিকেলে শামীমের মোবাইল থেকে কণ্ঠ বিকৃত করে তার বাবাকে বাবুল জানান, শামীমকে তার শাশুড়ির ড়ির নির্দেশে মেরে ফেলা হয়েছে। রাউজানে শামীমের লাশ পাওয়া যাবে বলেও বাবুল জানান।
উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট ভোরে বাবুলকে নগরীর বাকলিয়ার আব্দুল লতিফের হাটে হাজী ইয়াকুব সওদাগরের বিল্ডিংয়ে নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার করে রাউজান থানা পুলিশ।
নৃশংস হত্যার শিকার শামীম চট্টগ্রাম আইন কলেজের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। বিবাহিত শামীম লেখাপড়ার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য করতেন। নগরীর বায়েজিদ বোস্তামি এলাকায় নিজের বাসায় শামীম পরিবারসহ বসবাস করতেন।
বাংলাদেশ সময়: ২০৫১ ঘন্টা, আগস্ট ০৭, ২০১২
আরডিজি/ সম্পাদনা: অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর; জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর jewel_mazhar@yahoo.com