ঢাকা: টেন্ডার এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগে (সওজ) আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক প্রভাবকে সড়ক ভবনে গুলি বিনিময়ের কারণ উল্লেখ করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে গঠিত কমিটি। ছয়টি সুপারিশও করেঝে কমিটি।
রোববার সচিবালয়ে যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের হতে তদন্ত কমিটির কমিটির প্রধান সওজ’র অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী এ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।
গত ১২ জুন সড়ক ভবনের গুলি বিনিময়ে পাঁচ ব্যক্তি আহত হন। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে সড়ক ও জনপথ-সওজ’র অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলীকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
এই ঘটনায় গত ১৩ জুন স্টোর কিপার আবুল কালাম আজাদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। ওইদিনই তাকে গ্রেফতারও করা হয়। এরপর গত ১৮ জুন সাময়িক বরখাস্ত করা হয় শ্রমিক ইউনিয়ন নেতা ও অফিস সহকারী খন্দকার কামাল উদ্দিন এবং ক্যাশ সরকার ফজলুর রহমান। এ দু’জনকেও আগেই গ্রেফতার করা হয়েছে।
সড়ক ভবনে আধিপত্য বিস্তার ও গুলি বিনিময়ের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির তদন্ত্র প্রতিবেদন জমা দেয়ার সময়সীমা ছিলো গত সোমবার পর্যন্ত। এর পর যোগাযোগ মন্ত্রণালয় আরো দু’দিন সময় বাড়িয়ে বুধবার পর্যন্ত সময়সীমা বেধে দেয়।
রোববার (আজ) সচিবালয়ে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে কমিটির প্রধান যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের হাতে প্রতিবেদন তুলে দেন।
তদন্ত প্রতিবেদনের ছয়টি সুপারিশে রয়েছে- ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী আপিল বিধিমালা ও আচরণ বিধিমালায় শাস্তি, দরপত্র গ্রহণে ই-টেন্ডারিং, সওজ’র ঢাকা জোন বিভক্ত করে ঢাকা ও ময়মনসিংহ জোন করা, টেন্ডারের ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়া (পিপিআর) অনুসরণ, ঘটনায় জড়িত ঠিকাদারদের বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ (কালো তালিকাভুক্ত করণ) এবং ট্রেড ইউনিয়নকে নীতিমালার আওতায় আনা।
তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করার পর যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, ‘জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনা আবারও যাতে না ঘটে সে কারণে ই-টেন্ডারিংয়ের সুপারিশ করা হয়েছে।’
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘রাজনৈকিভাবে প্রভাব ও আধিপত্য ও অনাকাঙ্খিত ঘটনা রোধ করতে সুপারিশ করা হয়েছে। ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে তাদের কালো তালিকাভুক্ত করা হবে।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এরইমধ্যে ৩জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি পার্ট ছাড়াও ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চুড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তদন্ত কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এ ঘটনায় নি¤œ আদালতে মামলার আদেশ হয়েছে।’
তদন্ত কমিটির প্রধান মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘অফিস সহকারী খন্দকার কামাল উদ্দিন এবং ক্যাশ সরকার ফজলুর রহমান এবং স্টোর কিপার আবুল কালাম আজাদকে সাময়িক বরখাস্ত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে অফিস কর্মচারীরাও জড়িত রয়েছে।’
‘২৩ জনের প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দরপত্র ও সরকারি অফিসে আধিপত্য বিস্তারের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে তিনি জানান, দুটো কর্মচারী ইউনিয়ন জড়িত, তাদের নীতিমালায় আনার সুপারিশ করা হয়েছে।’
বাংলাদেশ সময়: ১৬৫০ ঘণ্টা, জুন ২৪, ২০১২
এসএমএ/সম্পাদনা: নূরনবী সিদ্দিক সুইন, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর