বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে: নয়াপল্টনে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অভিযান শেষ করেছে পুলিশ। তবে তাদের ছোট্ট একটি দল এখনো কার্যালয়ের ভেতরে রয়ে গেছে।
রাত ৮টা ২২ মিনিটে কার্যালয়ের ভেতর থেকে সাংবাদিকদের চলে যেতে বলেন ডিএমপি’র মতিঝিল জোনের এডিসি মেহেদী হাসান। তিনি জানান ভেতরে যা কিছু পাওয়া গেছে তার তালিকা প্রস্তুত করে বিএনপি অফিসটি এর কেয়ারটেকার রুস্তমের কাছে বুঝিয়ে দিয়ে তবেই পুলিশ সেখান থেকে যাবে। পুলিশের ছোট দলটিকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন পল্টন থানার ওসি সারোয়ার।
রাত পৌনে নয়টার দিকে কেয়ারটেকার রুস্তম ভিতর থেকে মেইন গেটে তালা লাগিয়ে আবার উপরে চলে যান।
এর আগে রাত সাড়ে আটটার দিকে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের বিভিন্ন কক্ষ ঘুরে দেখা যায়, তৃতীয় তলার কনফারেন্স রুমে রয়েছেন কেয়ারটেকার রুস্তম আলী ও কয়েকজন পুলিশ সদস্য। পাশের রিজভীর রুমে কেউ নেই। ফ্যান এসি চলছে। চতুর্থ তলায় কৃষকদলের অফিসেও বাতি জ্বলছে, ফ্যান চলছে। ৫ম তলায় স্বেচ্ছাসেবক দলের অফিসে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ। তবে বোঝা যায়নি ভেতরে কেউ আছেন কিনা।
সোমবার বিকেলে বিএনপি কার্যালয়ে প্রথম অভিযান চালায় পুলিশ। এসময় প্রথমেই আটক করা হয় ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে। পরপরই আটক হন যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। একই সঙ্গে প্রায় ৩৫ জন নেতা-কর্মীকেও আটক করে পুলিশ।
এসময় কার্যালয়ের ভেতরে মির্জা ফখরুলের কক্ষে তালাবদ্ধ অবস্থায় নিজেদের লুকিয়ে রাখেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদীন ফারুক, যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমানসহ অনেক নেতা-কর্মী।
কক্ষটি ভাঙ্গতে হ্যামার বাহিনী ডেকে পাঠায় পুলিশ। পরে কক্ষটি ভেঙ্গে একে একে নেতা-কর্মীদের আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ।
তবে এই অভিযানে কোনো নারী নেত্রী বা কর্মীকে আটক করেনি পুলিশ। দলের নেত্রী সেলিমা রহমান, নূরে আরা সাফা, শিরীন সুলতানা, নিলুফার চৌধুরী মনি এমপিসহ অন্যদের সম্মানের সাথেই বের করে আনে তারা।
এদিকে, ৫তলা বিশিষ্ট বিএনপি কার্যালয়ের প্রতিটি তলায়ই অভিযান চালায় পুলিশ। ভেতরে দুটি ফ্লোর থেকে ৬টি ককটেলও উদ্ধার করে পুলিশ। পরে সেগুলো ডিবি’র ডিসপোজাল ইউনিটে পাঠানো হয়। এছাড়াও জব্দ করে কয়েকটি বাক্স। বাক্সগুলোতে কি রয়েছে তা জানা যায়নি। সেগুলোও নিয়ে যায় পুলিশ।
এর আগে বিকেলে নয়াপল্টনে ১৮ দলীয় জোটের বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশের শেষ পর্যায়ে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পরিস্থিতি অশান্ত করে তোলে বিএনপি’র কর্মীরা। এসময় দ্রুত মঙ্গলবারের জন্য দেশ ব্যাপী হরতাল কর্মসূচি দিয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢুকে পড়েন মির্জা ফখরুল। কিন্তু বাইরে তখনও ককটেল ফাটিয়ে রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে তাণ্ডব চালাতে থাকে জোটের কর্মীরা। এ অবস্থায় পুলিশ চূড়ান্ত ধৈর্যের পরিচয় দিতে থাকে। নেতাকর্মীদের বিশৃঙ্খল আচরণের এক পর্যায়ে পুলিশি অ্যাকশন শুরু হয়। ফাঁকা গুলি ছুড়ে নেতা-কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করার পর সন্ধ্যা ছয়টার দিকে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢুকে পড়ে পুলিশ। এরপর প্রায় আড়াই ঘণ্টা অভিযান চালায় তারা।
বাংলাদেশ সময় ২০৫৮ ঘণ্টা, মার্চ ১১, ২০১৩
সম্পাদনা:জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর
বাংলাদেশ সময় ২০৫৮ ঘণ্টা, মার্চ ১১, ২০১৩