 |
ঢাকা: নিজের ৫ বছর বয়সী শিশু সন্তানকে ধর্ষণের পর পুড়িয়ে মেরেছেন সৌদি আরবের একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের একজন উপস্থাপক!
সৃষ্টির সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ সভ্যতায় এমন বর্বর ঘটনা ঘটালেও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হয়নি পাষণ্ড ফায়হান আল ঘামদিকে!
সংবাদ মাধ্যম জানায়, একটি জনপ্রিয় টিভি অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ফায়হান তার পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে লামা আল-ঘামদিকে নির্যাতন ও ধর্ষণের পর পুড়িয়ে মারেন।
কিন্তু অভিযুক্ত ফায়হানকে ২ মাস কারাদণ্ড ভোগের পর ক্ষতিপূরণ বাবদ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার মুচলেকায় মুক্তি দেওয়া হয়।
সৌদি আইনে সন্তান বা স্ত্রীকে হত্যা করলেও বাবা বা স্বামীর ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের বিধান নেই।
সংবাদ মাধ্যম জানায়, আইন অনুযায়ী ওই জরিমানার অর্থ নিহত লামার মা গ্রহণ করবেন।
এ বর্বর ঘটনার উল্লেখ করে সংবাদ মাধ্যম জানায়, গত বছরের অক্টোবরে লামাকে নির্যাতন ও ধর্ষণ করেন ফায়হান। এরপর তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেন পাষণ্ড এই পিতা। হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও ১০দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে মারা যায় অবুঝ শিশু লামা।
স্থানীয় মানবাধিকারকর্মী রানদা আল-কালিব বলেন, নির্যাতনে শিশু লামার মেরুদণ্ড এবং বাম বাহু ভেঙে গিয়েছিল। অগ্নিদগ্ধ হয়ে তার শরীর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
গত নভেম্বরে লামা হত্যা মামলায় ফায়হানকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। এর কিছুদিন পরই ওই মামলায় তাকে শুধু ক্ষতিপূরণ দেওয়ার রায় দেন আদালত।
তবে আদালতের ওই রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে সৌদি আরবের নারী অধিকার সংগঠনের নেতা মানাল আল-শরীফ টুইটারে ‘আনা লামা’ শিরোনামে একটি টুইট পোস্ট করেছেন।
‘আনা লামা’র বাংলা অর্থ ‘আমি লামা’। তিনি নারী এবং শিশুদের অধিকতর নিরাপত্তা দাবি করেছেন ওই টুইটার বার্তায়।
উল্লেখ্য, স্থানীয় একটি প্রতিবেদন জানায়, এ ঘটনায় সৌদী জনগণের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। আদালতের রায়টি মানতে পারছেন না কেউই। তবে, কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ব্যাপারে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ সময় : ১৩২৩ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০১৩
সম্পাদনা: জিয়াউল জিয়া ও হুসাইন আজাদ, নিউজরুম এডিটর-eic@banglanews24.com