 |
ঢাকা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির পরিচালকেরা শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুসরণ করছে কিনা সে তথ্য পাঠিয়েছে দুই স্টক এক্সচেঞ্জ- ডিএসই ও সিএসই।
এসইসির এক নির্দেশনার মাধ্যমে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির পরিচালকেরা দুই শতাংশ শেয়ার ধারণের শর্ত পরিপালন করে কি না, সে সংক্রান্ত তথ্য পাঠাতে স্টক এক্সচেঞ্জগুলোকে নির্দেশ দেয়। সে হিসেবে ১৫ জুলাই রোববার তথ্য দেওয়ার শেষ দিন ছিল।
তবে এক্ষেত্রে চট্রগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) তাদের তালিকাভুক্ত সবগুলো কোম্পানির পরিচালকদের শেয়ার ধারণ সংক্রান্ত তথ্য পাঠালেও অপর শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) আংশিক তথ্য পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যমতে, সিএসইতে তালিকাভুক্ত সবগুলো অথ্যাৎ ২০৪টি কোম্পানির পরিচালকদের শেয়ার ধারন ও পরিচালকদের ক্যাটাগরি সম্পর্কে বিস্তরিত তথ্য এসইসিতে পাঠিয়েছে। গত ১২ জুলাই পরিচালকদের এসব তথ্য সিএসই পাঠিয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ সাজিদ হোসাইন জানিয়েছেন।
প্রাপ্ত তথ্য মতে, সিএসইতে তালিকাভুক্ত ২০৪টি কোম্পানির মোট ১৩৭২ জন পরিচালক রয়েছেন। তবে এ হিসেবের মধ্যে সরকারি ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালকদের বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। সিএসইর হিসেবে উক্ত ১৩৭২ জন পরিচালকের মধ্যে ১০৩৪ জন পরিচালক এসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী ন্যূনতম দুই শতাংশ শেয়ার ধারণের শর্ত পালন করেছেন। এছাড়া উক্ত ২০৪টি কোম্পানির মধ্যে ৩৩৮ জন পরিচালক রয়েছেন, যাদের নিজ কোম্পানির দুই শতাংশ শেয়ার নেই।
এদিকে ডিএসই রোববার পর্যন্ত তাদের সবগুলো তালিকাভুক্ত কোম্পানির পরিচালকদের শেয়ার ধারণ ও পরিচালকদের ক্যাটাগরি সম্পর্কে তথ্য পাঠাতে পারেনি বলে জানা গেছে।
এসইসি সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকেলে ডিএসই মোট ১২৯টি কোম্পানির পরিচালকদের শেয়ার ধারণ সম্পর্কিত তথ্য জমা দিয়েছে। এর মধ্যে কতজন পরিচালক এসইসির শর্ত মেনে পরিচালক হয়েছেন আর কতজন শর্ত মানেননি, এ বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত, গত ২১ নভেম্বর এসইসির এক নির্দেশনার মাধ্যমে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিটি কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের জন্য এককভাবে ২ শতাংশ এবং সামগ্রীকভাবে কোম্পানির ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের বাধ্য বাধকতা আরোপ করা হয়। এ পরিমাণ শেয়ার ধারণের জন্য ৬ মাস সময় বেঁধে দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা। সে হিসেবে গত ২১ মে এ পরিমাণ শেয়ার ধারণের সময়সীমা শেষ হয়।
এ সংক্রান্ত সময় শেষ হওয়ার পরে শেয়ার গ্রহণে ব্যর্থ পরিচালকেরা নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে সময় বাড়ানোর আবেদন জানায়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৬ জুন এসইসির নিয়মিত সভা শেষে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তালিকাভুক্ত কোম্পানির যেসব পরিচালক দুই শতাংশ শেয়ার ধারণ সংক্রান্ত সময় বৃদ্ধির আবেদন করেছেন তাদের আবেদন কমিশন বিবেচনা করেনি। একই সাথে এসইসির উল্লেখিত নির্দেশনা পরিপালন করতে ব্যর্থ হওয়ার ফলে যেসব পরিচালকের পদ শূন্য হয়েছে, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে তাদের তালিকা ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে কমিশনে দাখিলের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
একই সময়ের মধ্যে ঢাকা ও চট্রগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকে তালিকাভুক্ত কোম্পানি পরিচালকদের শেয়ার ধারণ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য এসইসিতে দাখিল করতে বলা হয়েছে। এতে তালিকাভুক্ত কোম্পানির পরিচালকদের মধ্যে ২ শতাংশ শেয়ার ধারণের শর্ত মেনে কারা পরিচালক হয়েছেন এবং কারা শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন, সে তথ্য নির্ধারিত ছকে জানাতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে কোম্পানিতে মনোনীত, নির্বাচিত ও স্বতন্ত্র পরিচালকদের তথ্যও জানতে চেয়েছে এসইসি। স্টক এক্সচেঞ্জগুলো রোববার এ তথ্য এসইসিতে পাঠিয়েছে। যাচাই বাছাইয়ের পর শর্ত পূরণে ব্যর্থ পরিচালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এসইসি।
বাংলাদেশ সময়: ২১২৫ ঘণ্টা, জুলাই ১৫, ২০১২
এইচএমএম/সম্পাদনা: আহমেদ জুয়েল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর