সাভার (ঢাকা): শনিবার ভোর রাত থেকে ঘরমুখো মানুষের চাপ থাকলেও সাভারে গণপরিবহন সংকটে অনেককে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তবে অন্যান্য বারের চেয়ে এবার প্রশাসনের সদিচ্ছা ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ব্যাপক তৎপরতার কারণে মহাসড়কগুলোতে বড় ধরনের যানজট চোখে পড়েনি।
সরেজমিনে সাভারের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে প্রতিটি অলি-গলিতেই দেখা গেছে পিকআপ, মিনি ট্রাক, ট্রাক, লোকাল বাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকারসহ দূরপাল্লার গাড়িতে চড়ে যে যেভাবে পারছেন, ছুটে চলেছেন নাড়ির টানে বাড়ির পানে। অনেককেই আবার দেখা গেছে, টিকিট কেটে রাতভর গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর কাঙ্খিত গাড়িটি পৌঁছালেও গাড়িগুলোতে তিল ধারণের ঠাই নেই। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনেককেই গাড়ির ছাদে করে বাড়ি ফিরতে দেখা গেছে।
এদিকে নগরীর লোকাল পরিবহনগুলোও দেশের বিভিন্ন জায়গায় ভাড়ায় চলে যাওয়ায় গণপরিবহন সংকট দেখা দিয়েছে। মাঝে মাঝে দু-একটি গাড়ি দেখা গেলেও তাতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন যাত্রীরা। এ সুযোগকে কাজে কাজে লাগিয়ে রিকশা থেকে শুরু করে অটোরিকশা ও লোকাল বাসগুলোও দূরপাল্লার বাসের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নিজেদের ইচ্ছামতো অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। ফলে বাধ্য হয়েই বেশি ভাড়া দিয়ে চলতে হচ্ছে স্থানীয় লোকজনকে।
অন্যদিকে ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী পরিবহনগুলোর ঘরমুখো যাত্রীদের ঢাকা ছাড়ার পথে নবীনগর, বাইপাইল, জিরাবো এলাকায় মাঝে মাঝে গাড়ির চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ১৫-২০ মিনিট যানজটে পড়তে হচ্ছে ।
যান চলাচলে বিঘ্নের জন্য প্রশাসন দায়ী করছে সরু রাস্তা, মার্কেটগুলোর কার পার্র্কিং ব্যবস্থা না থাকা, এবং ফুটওভার ব্রিজের সংকটের কারণে মার্কেটে আসা ক্রেতাদের রাস্তা পারাপারকে।
এ ব্যাপারে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বাংলানিউজকে জানান, ঢাকা জেলার যানজট নিরসনে এক হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি কমিউনিটি পুলিশ ও আনসার সদস্যদেরও মাঠে রাখা হয়েছে। পুলিশের দ্বায়িত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে ঢাকা জেলার মহাসড়কগুলোতে কোনো যানজট নেই।
তিনি আরও বলেন, নবীনগর থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত ৪ লেনের কাজ সম্পূর্ণ হলে এবং আশুলিয়া থেকে বাইপাইল পর্যন্ত মহাসড়কের মাঝখানে ডিভাইডার তৈরি করা হলে যানজট আর থাকবে না।
এছাড়াও নগরীর ঘরমুখো মানুষেরা যাতে ঈদের ছুটি শেষে নির্বিঘেœ নগরীতে ফিরে আসতে পারেন, সেদিকেও লক্ষ্য রাখা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান।
বাংলাদেশ সময়: ১৬০৪ ঘণ্টা, আগস্ট ১৮, ২০১২
মোঃ ওমর ফারুক/ সম্পাদনা: অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর