 |
রমজান মাস মুসলমানদের জন্য আল্লাহর তরফ থেকে বিশেষ রহমত স্বরূপ। কোরআন এবং হাদীসে এই রমজান সম্পর্কে সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে।
প্রতিটি সক্ষম মুসলমান নর-নারীর ওপর এই রোজা বা সিয়াম সাধনা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, একই সঙ্গে এর অসংখ্য ফজিলত বর্ণনা করা হয়েছে কোরআন ও হাদীসে।
এক রেওয়াতে বর্ণনা করা হয়েছে, রোজাদারের পুরস্কার স্বয়ং আল্লাহ পাক প্রদান করবেন। অন্য এক হাদীসে বর্ণনা করা হয়েছে রোজা মুমিনের জন্য ঢাল স্বরূপ।
পুরো রমজান মাসের প্রতিটি দিনে অসংখ্য ফজিলতের বর্ণনা রয়েছে হাদীসে। এর মধ্যে শেষ দশদিন এতেকাফের ফজিলত হাদীস শরীফে অসংখ্যবার আলোকপাত করা হয়েছে, এতেকাফের ফলে সব চাইতে যে মূল্যবান লাভ হয়, তা হলো বান্দা যেমন এবাদত-বন্দেগী করে তাকওয়া ও আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে, একই সঙ্গে লাইলাতুল কদরের রাত ভাগ্যে জোটে। কারণ এতেকাফে সারাক্ষণ মসজিদে থাকার ফলে এই সৌভাগ্যের রজনী জুটে থাকে, এতে বান্দা সারাক্ষণ এবাদতের মর্যাদা পেয়ে থাকে।
কদরের রাতে এবাদত-বন্দেগীর অফুরন্ত ফজিলত বহু বইয়ে উলামায়ে কেরামগণ হাদীসের বই থেকে আলোকপাত করেছেন, তা আমরা সবাই কম-বেশি জানি। একাগ্র চিত্তে এই রাতে এবাদত করলে বান্দার গোনাহ মাফ করে দেন আল্লাহ পাক। হাজার মাসের এবাদতের চাইতে এই রাতের এবাদতের মর্যাদা সর্বোচ্চ।
বলা যায়, আল্লাহ পাক রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতদের আগের নবী-রাসূলদের উম্মতের তুলনায় এক রাতের নফল এবাদতের সঙ্গে তখনকার উম্মতদের শত-হাজারো বছরের এবাদত বন্দেগীর ওপরে অধিক মর্যাদা দিয়েছেন। সূরা দোখান এবং সূরা কদরের বর্ণনা থেকে এই রাতের বিশেষ মাহাত্ম্য প্রতিফলিত হয়।
এই রমজান মাসেই কোরআন শরীফ নাযিল হয়েছিল। সুতরাং আমাদের সবার উচিৎ রমজানে বেশি বেশি করে কোরআন তেলাওয়াত করা। যারা কোরআন পড়তে পারেন না তাদের উচিৎ মসজিদ, মক্তব বা মাদ্রাসার ইমাম বা যারা সঠিকভাবে কোরআন পড়তে জানেন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কোরআন তেলাওয়াত শিখে নেওয়া।
যাদের হাতে সময় অল্প, বিভিন্ন প্রফেশনাল ও পারিবারিক কারণে ব্যস্ত, তাদেরও উচিৎ অন্তত দিন বা রাতের কিছুটা সময় হলেও কোরআন তেলাওয়াত করা, একান্ত অপারগ হলে অন্তত সূরা ইয়াসিন, সূরা দোখান, সূরা মূলক, সূরা কাহফ এইসব ফজিলতপূর্ণ সূরা তেলাওয়াত করা।
সূরা ইয়াসিনকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমগ্র কোরআনের সারাংশ বলেছেন এবং তা তেলাওয়াতে মাগফিরাত লাভ হয়ে থাকে বলে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। (মসনূদ ইমান,পৃষ্টা নং ২৮৬, ভলিউম-৭, হাদীস ২০৩২২- এ)
সূরা মূলক পাঠে যথেষ্ট ফজিলত রয়েছে। আবূ হুরাইরা রাজি আল্লাহু তাআলা আনহু (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সা.) বলেছেন, কুরআনের তিরিশ আয়াতবিশিষ্ট একটি সূরা এমন রয়েছে, যা তার পাঠকারীর জন্য সুপারিশ করবে এবং শেষাবধি তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে, সেটা হচ্ছে ‘তাবা-রাকাল্লাযী বিয়্যাদিহিল মূলক’ (সূরা মূলক)। (আবূ দাউদ ১৪০০)
সূরা দোখান রাতের বেলা তেলাওয়াত করলে আল্লাহ পাক বান্দার পেছনের গোনাহ মাফ করে দেন। জামে তিরমিযির পৃষ্টা নম্বর ৪০৬ এর ভলিউম নম্বর ০৪ এর ২৮৯৭ নম্বর হাদীস শরীফে বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে কেউ সূরা দোখান যে কোনো রাতে পড়লে ৭০,০০০ ফেরেশতা অনবরত তার মুক্তির জন্য দোয়া করতে থাকেন। একই কিতাবের ৪০৭ নম্বর পাতায় ২৮৯৮ নম্বর হাদীস থেকে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে অর্থাৎ সোবে জুমা বারে এই সূরা তেলাওয়াত করলে আল্লাহ পাক বান্দার গোনাহ মাফ করে দেন।
রমজান মাসে যে কোনো এবাদতের কয়েকগুণ সওয়াব রয়েছে। অন্য যে কোনো মাসের নফল এবাদতের চেয়ে রমজান মাসে এক রাকাত নফল এবাদতের ৭০ গুণ সওয়াবের কথা হাদীসে বলা হয়েছে, অন্য যে কোনো মাসের ফরজ এক রাকাতের ৭০০ গুণ সওয়াব প্রদানের কথা বর্ণিত হয়েছে। কোনো কোনো রেওয়াতে এক রাকাতের বদলে ১৭০০ রাকাতের সওয়াবের উল্লেখ রয়েছে। সব চাইতে বড় কথা, স্বয়ং আল্লাহ পাক ঘোষণা করেছেন, ‘‘রোজা আমারই জন্য, আর আমিই এর প্রতিদান দেবো।’’
পবিত্র তিরমিয শরীফে সাহাবী হযরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে রোজাদারের দোয়া আল্লাহ পাক কবুল করে থাকেন। আয়েশা রাজি আল্লাহু তাআলা আনহুমা (রা.) থেকে বর্ণিত, রমজান মাস এলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চেহারার রঙ পরিবর্তন হয়ে যেত, রমজান মাসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেশি বেশি দোয়া করতেন, নামায পড়তেন, কোরান তেলাওয়াত করতেন।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: তিন পর্বের লেখাটির ২য় পর্ব আজ প্রকাশিত হলো।
মেইল: Salim932@googlemail.com
সম্পাদনা: শিমুল সুলতানা
মেইল: bn24.islam@gmail.com