 |
কুষ্টিয়া: “যারা আমার ছেলেকে বিক্রি না করতে আর্থিক সহায়তা দিতে চেয়েছেন তাদের ধন্যবাদ। আল্লাহ তাদের অনেক দিন বাঁচিয়ে রাখুক। আমি আমার ছেলেকে আর কখনও অন্যের হাতে তুলে দেবনা।”
কুষ্টিয়া শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে সিজারিয়ানের টাকা পরিশোধ করতে না পেরে অন্যের কাছে প্রিয় সন্তানটি বিক্রির পর আবার ফিরে পেয়ে কনা বেগম বাংলানিউজের কাছে এভাবেই তার অভিব্যক্তি ব্যক্ত করেন।
বুধবার ক্লিনিকের টাকা পরিশোধে নবজাতক বিক্রির খবর বাংলানিউজে প্রকশের পর ইংল্যান্ড, জাপান, সিঙ্গাপুর, দুবাই, সৌদি থেকে অসংখ্য মানুষ ফোন করে বাংলানিউজের ঢাকা অফিস ও কুষ্টিয়া প্রতিনিধির কাছে।
কুষ্টিয়া প্রতিনিধির মোবাইল ফোনে কনা বেগমের সঙ্গে অনেকেই কথা বলেন। তারা তাকে বলেন তিনি যেন কোনোমতেই প্রিয় সন্তানটিকে অন্যের কাছে বিক্রি না করেন। সন্তানের চিকিৎসা ব্যয়সহ তার ভরণপোষণের আশ্বাসও দেন তারা। তাদের এমন মমত্ববোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে নাড়ি ছেঁড়া ধনকে আবার কোলে তুলে নেন কনা বেগম।
শুধু শিশুটির মা কনা বেগমই নয়, সহায় সম্বলহীন দরিদ্র ভ্যান চালক প্রতিবন্দ্বি বাবা মজনুও দেশ বিদেশের সহৃদয়বান ব্যক্তিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “আমি বুঝতে পারিনি সন্তান বিক্রির পর সাংবাদিকরা এভাবে ছুটে আসবেন। তাদের লেখালেখির কারণে পৃথিবীর অনেক মানুষ বিষয়টি জানতে পেরেছেন। হাত বাড়িয়েছেন আর্থিক সহায়তার।”
এদিকে, সন্তান বিক্রির ঘটনাটি জানার পর বুধবার ক্লিনিকে ছুটে আসেন কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন তরুন কান্তি হালদার, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মমতাজ বেগম, কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)কাজী জালাল উদ্দিন।
বাংলাদেশ সময়: ০৪২৬ ঘণ্টা,আগস্ট ০২, ২০১২
সম্পাদনা: প্রভাষ চৌধুরী, নিউজরুম এডিটর